রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ বিষয়ে জানানো করা হয়। বার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি অন্যায় তদবির গ্রহণ না করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা, সরকারি দপ্তরে অনৈতিক তদবির এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।




বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার ঘোষণা করল সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটেরকমান্ডার হিসেবে সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ আছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কমান্ডার হিসেবে আল-শেহরি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জোটের সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত বিভিন্ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।

এই নিয়োগ এমন এক সময় এলো, যখন লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের উদ্যোগে ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে এই সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।

বর্তমানে জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক, ইয়েমেন, জিবুতি, সোমালিয়া, সুদান ও কোমোরোস।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। কেউ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, আবার কেউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিতে ঘোষণাপত্র ও জোটের সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট। জোটের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যে কোনো দেশ এতে যোগ দিতে পারবে। নতুন সদস্যদের আবেদন গ্রহণও অব্যাহত রয়েছে। যেসব দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, তাদের নাম পরে পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২-১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং আরও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্য, লোহিত সাগর হয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তিতে সইকারী তিন দেশই সুন্নি–প্রধান। তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান ও তার মিত্ররা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা এসব দেশের জ্বালানি রপ্তানির পথও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

চুক্তি সইয়ের পর তিন দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্মিলিত প্রতিরোধের সক্ষমতা জোরদার করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। এর আওতায় প্রতিটি দেশ কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা দায়িত্ব নিয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এতে বলা হয়েছে, সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। এতে শুধু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তি বাতিল বা প্রতিস্থাপন করে না।

চুক্তিতে সইকারী তিন দেশের আরেকটি সাধারণ অবস্থান হলো—তারা ইসরায়েল ও বিপ্লবী শিয়া রাষ্ট্র ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী সামরিক অবস্থান নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এমন এক সময়ে এই চুক্তি করা হলো, যখন তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।




শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারত সমর্থন করে না: রণধীর জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি) সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য সমর্থন করে না।

আজ শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বুধবারের শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিয়ে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া প্রেস কনফারেন্সটি একটি বেসরকারি মাধ্যম বা সংস্থার উদ্যোগ ছিল বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন। ওই আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তির কথা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনের পর ওইদিন রাতেই এর কঠোর প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।

এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই আয়োজন শুরুর আগেই ওই বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম। সেই কথা আরো একবার বলছি। আয়োজনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগ। এতে সরকারের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না।

নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ দ্রুত আরেকটা পাকিস্তান হতে চলেছে। আজকের ব্রিফিংয়ে তার সেই বক্তব্য উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, ওই অভিযোগ ভারত অনুমোদন করে কি না এবং বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের কাছে কতটা উদ্বেগের।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা বা গতিবিধির ওপর সর্বদা তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারত তার রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়। যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী উচিত পদক্ষেপ নেয়। সজীব ওয়াজেদর অভিযোগ অনুমোদন বা সমর্থন করা বা না করা নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।




বগুড়ার এরুলিয়ায় ফের দুর্ঘটনা, একসঙ্গে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়ায় দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহতের রেশ না কাটতেই ফের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী নাতি আহত হয়েছে। তবে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে বাবুল হাসান (৫০) এবং তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাবুল হাসান স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বগুড়ার কাহালুর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা বগুড়াগামী একটি প্রাইভেটকার অটোভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবুল হাসান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত স্ত্রী জেসমিন বিবি ও নাতি জুলকার নাইনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জেসমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারের চালক একজন নারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।




ভিসা আবেদনে তথ্য গোপন, দুই বছর নিষিদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটার

ক্রীড়া ডেস্ক : ভিসা আবেদনের সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় পাকিস্তানের উদীয়মান অলরাউন্ডার হামজা নাজারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পিসিবি জানায়, বোর্ডের মাধ্যমে বিদেশ সফরের জন্য ভিসা আবেদনের সময় হামজা নাজার যে তথ্য ও নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, আবেদনপত্রে তিনি সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য দেননি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্যও উপস্থাপন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পিসিবি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে হামজা নাজারকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়। তার বক্তব্য, জমা দেয়া নথি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বোর্ডের কাছে জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পিসিবি জানিয়েছে, আগামী দুই বছর হামজা নাজার ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও গুনতে হবে।

পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন করা কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়কে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। এ ধরনের আচরণ পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষা করা বোর্ডের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণের কারণে দেশের ক্রিকেট কিংবা কোটি সমর্থকের আস্থার ক্ষতি হোক, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।




ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল

ক্রীড়া ডেস্ক : দাপুটে এক জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ইরেনে কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস সাউথ আফ্রিকা (ইউএসএসএ) দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা।

এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ইউএসএসএ। ডেভিড টীগারের ৫৭ বলে ৭২ এবং লুডউইচ স্কুল্ডের ৫৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে একসময় দলটির সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৬ রান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৪০ রানের মধ্যে হারিয়ে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইউএসএসএ।

বাংলাদেশের হয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪টি উইকেট নেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ দুটি করে এবং ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন।

১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮) ও হাবিবুর রহমান সোহান (০) দ্রুত ফিরলেও এরপর ইনিংস সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি। ইফতি ১৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন দিপু।

শুক্কুর ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং দিপু ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে এবং বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছে।




ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্য দোয়া চাইলেন রোজিনা

বিনোদন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তাকে দেখতে তার গুলশানের বাসায় গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রোজিনা। সেখানে অভিনেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খবরাখবর নেন তিনি।

পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে সেই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রোজিনা।

ফেসবুকে অভিনেতার সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা কাঞ্চন। কয়দিন আগেই লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছে। কাঞ্চনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম তার গুলশানের বাসায়। কাঞ্চন এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, ইনশাআল্লাহ অতি দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন।

অভিনেতার চিকিৎসা-সংক্রান্ত আপডেট জানিয়ে এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, লন্ডনের ডাক্তাররা বলেছে এই মাসে ১২ তারিখে আবার লন্ডনে চলে যাবে কাঞ্চন চিকিৎসার জন্য। আপনারা সবাই দোয়া করবেন কাঞ্চনের জন্য, মহান আল্লাহ পাক যেন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থতা দান করেন।

উল্লেখ্য, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে তার চিকিৎসা চলছে। সে বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও জটিলতার কারণে টিউমারটি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। যার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শ খানেক কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। দীর্ঘ চিকিৎসায় আশানুরূপ উন্নতি না হলেও কয়েক দিনের জন্য ঢাকায় এসেছেন তিনি। উপলক্ষ দেশের মাটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।




আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ আছে বলে মনে করি না: জামায়াত আমির

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে তাদের ফেরার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। এ দেশের রাজনীতি তারাই হত্যা করেছে। তারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছিল, অসংখ্য মানুষ ঘুম হয়েছিল, গুম হওয়া সবাই ফিরে আসেনি এখনো। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখনই রাজনীতিতে চলে আসবে?

আজ শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি, সামান্য অনুশোচনাও নেই তাদের। যে দল এ দেশের অসংখ্য মানুষকে গুম করল, খুন করল, অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করল, একটা জেনারেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল, তাদের কোনো অনুশোচনা দেখা গেল না। শুধু দল ভারী করার জন্য তাদের রাজনীতিতে আনা অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কারো করা উচিৎ হবে না।

তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। জায়গাটা সরকার যত সামাল দেবে বাংলাদেশের ততো সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সংসদের ভেতরে অবশ্যই সহযোগিতা করছি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার, সেখানে বিরোধিতা করছি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো আমরা দুই মেরুতে আছি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপমান করতে দেয়া হবে না।

জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেলের সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল একযোগে পদক্ষেপ নেয়ার পরই জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যায়। অথচ কেউ অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করেনি। এতে বোঝা যায়, সমন্বিত উদ্যোগ অনেক সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে পারে।

সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।এক সময় সংসদে মারামারি হয়েছে। ফাইল ছুড়ে মারা হয়েছে। একে অন্যের দিকে তেড়ে গেছে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা সে পার্লামেন্ট চাই না। আমরা একটা সভ্য জগতের পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য প্রথম দিন থেকে বিরোধীদল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ছিল গঠনমূলক এটা আমরা অব্যাহত রাখব। কোনো উস্কানিতেই এ জায়গা থেকে আমরা সরে আসব না।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ছিলেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. মশিউর রহমান , বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীমসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পরে তিনি বাগেরহাট কামিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।




র‍্যাব বিলুপ্ত করে আনা হচ্ছে নতুন বাহিনী

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে বাহিনীর দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন বিধান।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির জন্য পৃথক একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়ায় র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসআরবির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট।

এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে।

আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।

মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির।

তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।

কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার সুযোগ থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।