এসএম বদরুল আলমঃ নওগাঁ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে টেন্ডার পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঠিকাদার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নওগাঁ এলজিইডিতে যোগদানের পর থেকেই টেন্ডার সংক্রান্ত প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ করা হলেও নানা অজুহাতে তাদের ফাইল আটকে রাখা হয়, বিল ছাড় দিতে অযথা দেরি করা হয় এবং কাজের মান নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলে মানসিক ও আর্থিক চাপে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব চাপের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, টেন্ডার পাওয়ার পর কিংবা কাজ চলমান অবস্থায় ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে কখনো কখনো ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অঘোষিত কমিশন দিতে বাধ্য করা হয়। কেউ কমিশনের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি তুললে তার কাজ বাতিলের হুমকি, ভবিষ্যতে টেন্ডার না পাওয়ার ভয় এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। এসব কারণে অনেক ঠিকাদার প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে তারা জানিয়েছেন।
এলজিইডি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ অনেক ঠিকাদার নিয়মিত কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা নওগাঁ জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বিভিন্ন সময় নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নিজেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, গুণগত মান এবং জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, এলজিইডি সদর দপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে অভিযোগগুলোকে ভুয়া ও অসত্য বলে উড়িয়ে দেন।











