এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন এলকেএসএস-এর একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নূরুল ইসলাম এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। এ কারণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে তার প্রভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

ছবি: নূরুল ইসলামের প্রধান সহযোগী এসি এডমিনের সহকারী সোহেল ও এইচআরসি’র পিয়ন হাবিব
সূত্রগুলো জানায়, নূরুল ইসলাম একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে এলকেএসএস-এইচআরসি শাখায় নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটে তার পিয়ন হাবিব এবং প্রশাসনিক শাখার (এসি এডমিন) সহকারী সোহেলের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের এক্সএন অফিসে কর্মরত পিয়ন হাবিবকে বিশেষভাবে ঢাকায় এনে নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রধান কাজ হলো চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রক্রিয়াজাত করা।
অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমেই অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলোও তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, গত রমজান মাসে ঈদের আগে জাইকা প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসে রিভার প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রায় ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, আউটসোর্সিং নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফাইল অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ২০০-র বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পিয়ন হাবিবের মাধ্যমে সিভি জমা ও অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাকরি প্রত্যাশী আরও অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছেন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম।

ছবি: অফিসে খোশগল্পে নূরুল ইসলাম
নীতি, নৈতিকতা ও আইনি দৃষ্টিকোণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং এটি গুরুতর দুর্নীতি এবং দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।
সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও সমতার নীতি লঙ্ঘন হলে তা রাষ্ট্রীয় সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী—
- ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তার সরকারি চাকরি বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যাশিত পদক্ষেপ:
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি-
- অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- ডিজিটাল ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।
এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।









