জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ভয়াবহ বেড়ে চলছে অবৈধ ইটভাটার সংখা। আইন ও নীতিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জেলার ৫টি উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে একের পর এক ইটভাটা নির্মাণ চলছে, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি উর্বর জমির উপরের “টপ সয়েল” পাশাপাশি ব্যাপক পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
লালমনিরহাট সদর, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও কমলাবাড়ী, কালীগঞ্জ, শিঙিমারীসহ কয়েকটি ইউনিয়ন, এবং হাতীবান্ধার পাটগ্রাম এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী স্হানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে। কৃষি জমির উর্বর “টপ সয়েল” তুলে তা ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করায় জমি গুলো পরবর্তী ১০-১৫ বছর ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ছে।
ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী স্থানীয় চেয়ারম্যান, এরপর জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা স্হাপন বা পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা পরিচালনায় দোষী প্রমাণিত হলে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা আছে। সেখানে দায়িত্বশীলদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবী ও প্রতিবাদ, এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা বারংবার এই সমস্যা তুলে ধরলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্হা দেখা যাচ্ছে না।
তার দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উপসংহারঃ লালমনিরহাটের এই সংকট শুধু স্হানীয় নয়, এটি জাতীয় কৃষি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। অবিলম্বে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।










