শীতের আগমনে লালমনিরহাটে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাটঃ উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে শীতের আগমন বেশ জোরালোভাবে জানান দিচ্ছে নিজের উপস্থিতি। ভোরে কুয়াশার চাদর, রাতভর শিশির আর ঠান্ডা বাতাসে দিন দিন জমাট বাঁধছে শীতের প্রকোপ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের তুলা ও কাপড় বেছে নিচ্ছেন, আর দোকানিরা অর্ডার নিচ্ছেন। শহরের ১৪ থেকে ১৫টি লেপ-তোশক কারখানায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মৌসুমে লেপ তৈরির প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তোশকের কাপড় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং জাজিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০ টাকা এবং শিমুল তুলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুটের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তুলার দাম এবার প্রায় সব প্রকারে ২০ থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা জানান, বর্তমানে রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, তোশক ৮০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জাজিম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ চার হাজার টাকা এবং বালিশ ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

জেলা শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকার মেসার্স জামাল ক্লাথ স্টলের প্রবীণ কারিগর মো. আমিন (৬৫) ও সাত্তার আলি (৬৮) জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপও বেড়ে গেছে।

এই শীত মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে লালমনিরহাটের মানুষ। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই লেপ-তোশক তৈরির কাজ এখন পুরোদমে চলছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা—তারা কেউ পুরোনো তুলা খুলছেন, কেউ বা নতুন তুলা ভর্তি করছেন লেপে।

আরেক দল কাজ করছেন সেলাই ও বাহারি রঙের কাপড়ে আকর্ষণীয় নকশা তৈরিতে।

লেপ-তোশক কারিগরদের মতে, শীতের সময়টাই তাদের মূল কর্মমৌসুম। এ সময়ের আয় দিয়েই বছরের অনেকটা সময় টিকে থাকতে হয় তাদের। তাই এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের ভিড়ে সময় কাটে তাদের।

শীত যত বাড়বে, চাহিদাও ততই বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। অনেকে আবার পুরোনো লেপ-তোশক নতুন করে তৈরি বা মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে শীত আসার আগেই প্রস্তুত লালমনিরহাটবাসী, আর প্রস্তুতির এক বড় অংশজুড়েই রয়েছে এই লেপ-তোশক তৈরির কর্মব্যস্ততা।