গুলশান বনানীতে অভিনব ফাঁদ পেতেছে বহুরূপী শিলা ও হারুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্ধশতাধিক চক্র, এমনই অভিযোগ এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের। আর প্রতারণার কৌশল ও টোপ হিসেবে অপব্যবহার করা হচ্ছে শিলাদের মতো অল্প বয়সী সুন্দরী তরুণীদের। ইতোপূর্বে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এবার ফিল্ম স্টাইলে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতানোর পাঁয়তারা করছে বহুরূপী শিলা ও প্রতারক হারুন। দিন যতই যাচ্ছে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘শিলা ও বাহিনীর অন্যতম প্রধান কুশীলব হারুন অর রশিদ (হিরু)।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, পল্টিবাজ হারুন, তারেক রহমানের নাম ভাঙানো একজন স্বঘোষিত কর্মী। তারেক রহমানের ভার্চুয়াল পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এমন একটি বিতর্কিত ছবি দেখিয়ে তিনি ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারেক জিয়ার সাথের ওই ছবি দেখিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেল করেন প্রতারক হারুন।
সরজমিনে এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রতিবেদকের হাতে আসা রেকর্ড ছবি স্পষ্ট তিনি নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করেন। ফোনে কথা হলে হঠাৎ মতামত ঘুরিয়ে বলেন তিনি মানবাধিকার বড় অফিসার। একটু সময় যেতে নিজেকে আবার সম্পাদক বলে জানান দেন। একজন মানুষের কয়টি পদবী প্রয়োজন প্রশ্ন করলে তিনি জানান আবারও যুবদল মহানগর কমিটির নেতা তিনি!! ও সংসদ নির্বাচন করার জন্য বাড়িতে ব্যস্ত তিনি। গুলশান বনানী জনগণের প্রশ্ন কে এই হারুন/ একাধিক পরিচয় দেওয়া অবশ্যই প্রতারণা। হারুনের কুকর্ম উন্মোচনে কিছু তথ্য আমাদের দপ্তরে এসেছে। ল্যান্ড কোম্পানির সাক্ষ্য জালিয়াতি করে তিনি হয়ে গেছেন রাতারাতি ব্যবসায়ী পার্টনার।
তথ্যসূত্র জানা যায় ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতার আড়ালে দুর্দান্ত সাহসী ভূমিকায় যার সবচেয়ে বেশি অবদান তিনি পারভিন শিলা। গুলশান বনানী এলাকায় এই তরণীর নাম এখন মানুষের মুখে মুখে । এই তরুণীর অভিনব ফাঁদে পড়ে অফিসের স্টাফ সহ অনেকেরই এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, এই সুন্দরী শীলার দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা নাটকীয় মামলায় ফাঁসানো কোন ব্যাপারই না। শিলার নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড অপকর্ম প্রতারণা আড়াল করতে হারুনের ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। ছলনাময়ী নারী শিলা কখনো মিলা, আবার কখনো লিনা মাহমুদ। কৌশলে বড় ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে চালান প্রেমের অভিনয়। একপর্যায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সিম পরিবর্তন করা তাদের প্রতারণার একটি অংশ। । এছাড়া ভুয়া বিয়ের নাটক, নয়তো অশ্লীল কিংবা অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। এভাবেই চলছে তাদের প্রতারণা।
সর্বশেষ টার্গেট বনানীর এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তার নাম্বার সংগ্রহ করে কৌশলে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন বহুরূপী শিলা। পরবর্তীতে থানায় শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ অথবা জিডি তার পড়ে মামলার হুমকি! এটা তার পেশা ও নেশা দুটোই।
অভিযোগ রয়েছে বাসায় ডেকে ভুয়া বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা অথবা শিলার বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে টাকা ছাড়াই ব্যবসায়ী পার্টনার বানাতে হবে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার বলেন, এই চক্রের মোট সদস্যদের মধ্যে শিলা মাহমুদ ওরফে মিলা নয়, বহু নারী চক্র সদস্যসের নাম রয়েছে ডিএমপিতে। সহযোগীরা বড় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, এমনকি প্রবাসীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে দেয়। পরে কৌশলে ফোনে কথা বলে প্রেমের ফাঁদ পাতে শীলারা। এক সময় প্রেমিককে বাসায় ডাকে। একপর্যায়ে অন্তরঙ্গ ছবি তুলে টাকা দাবি করে। অনেকে সম্মানের ভয়ে টাকাওনদিয়ে দেন।
তিনি বলেন, চক্রটি শুধু প্রেমের ফাঁদ নয়, অনেক সময় ভুয়া বিয়েও করে। সেই বিয়ের কাবিনের টাকা আদায়ও করেন কৌশলে।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণা অভিযোগ এখনো অনেক বেশি। নারী ও পুরুষ উভয়েরই অভিযোগ আসছে।
তিনি বলেন, নারীদের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার যেমন হচ্ছে, তেমনি পুরুষের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হচ্ছে অনেকে। তবে অধিকাংশই সম্মান নষ্টের ভয়ে নিজেরাই মিটিয়ে নিচ্ছে, আবার অনেকে অভিযোগও দিচ্ছেন। এ ধরনের বেশ কিছু সিন্ডিকেটকে আমরা আটকও করেছি।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সতর্কতা। লোভ সংবরণ করে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলে সমস্যায় পড়তে হবে না নাগরিকদের।