কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়ক উঁচু করায় পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, ড্রেন নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর আবেদন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়কটি নতুন করে সংস্কার ও উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করা এই ব্যস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজকে ঘিরে এখন এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি আগের চেয়ে অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কের দুই পাশের বসতবাড়িগুলো নিচু হয়ে পড়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘরে পানি ঢুকছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে মক্কা রাইচ মিল এলাকার সামনে সড়কটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি অংশ গেছে রানীগঞ্জ বাজারের দিকে এবং অন্য অংশটি চাঁদপুর হয়ে কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকায় সংযুক্ত হয়েছে। এই দুই সড়কের মাঝখানে প্রায় ১০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। নতুন করে সড়ক উঁচু করায় ওইসব পরিবার এখন মারাত্মক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামনে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং শত শত পরিবার দীর্ঘমেয়াদে পানিবন্দী হয়ে পড়বে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মক্কা রাইচ মিল থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে একটি পুরোনো ড্রেন রয়েছে। যদি নতুন সড়কের সঙ্গে সেই ড্রেন সংযোগ করে একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তাহলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে। তাদের দাবি, দ্রুত ড্রেন নির্মাণ না করলে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বর্ষার পানির চাপে নতুন সংস্কার করা সড়কটিও অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইতোমধ্যে গাজীপুর এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনগণের সুবিধার জন্য সড়ক সংস্কার করা হলেও সেই উন্নয়ন যদি মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করে, তাহলে এমন উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না। তাদের একটাই দাবি—সড়কের একপাশ দিয়ে দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা হোক।