ফেইক আইডিতে অপপ্রচার ও কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক শহিদুল হাসান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে অপপ্রচার, পোস্টারিং করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোটি কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও ব্যবসায়িক প্রতারণার অভিযোগে এবার আইনের জালে আটকালেন ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছেন এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ।

মামলায় শুধু শহিদুল হাসানই নন, তার সঙ্গে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. জাহিদুল করিম ওরফে রিমন (৩০), মো. শওকত আলী ওরফে রিফাত (২৯), কাজী মোহাম্মদ রুবাইদুল হাসান (৩৫) ও কামাল হোসাইন (৩৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড থেকে নগদ ও বাকিতে ওষুধ ক্রয় করে আসছিলেন ইনোভেটিভ ফার্মার মালিক কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান। ব্যবসায়িক লেনদেনের একপর্যায়ে তার কাছে বিপুল অঙ্কের পাওনা জমা হলে তিনি তিন কোটি পঞ্চান্ন লাখ টাকার ৫টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই চেকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করেন।

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.03 PM (1)

অভিযোগ উঠেছে, মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শহিদুল হাসান। এরপর শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি খুলে এলবিয়ন গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। শুধু অনলাইনেই নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং করেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোম্পানিকে চাপে ফেলতে এবং নিজেদের আর্থিক প্রতারণা আড়াল করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ ঘটনায় এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাইসুল উদ্দিন প্রথমে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে উল্টো এলবিয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গসহ একাধিক ভিত্তিহীন মামলা ও অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন শহিদুল হাসান ও তার সহযোগীরা।

এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রফিক আহমদ বলেন, “এটি আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নিজেদের প্রতারণা ঢাকতেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে এবং আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

WhatsApp Image 2026 05 20 at 2.39.04 PM

অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্ত্বাধিকারী কাজী মো. শাহদিুল হাসান ২০০৫ সালে ‘সান ফার্মা’ নামের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। কিন্তু সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় একপর্যায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

ব্যবসায়ী মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করেছেন? ফেইক আইডি, অপপ্রচার, হুমকি, চেক কেলেঙ্কারি ও আইনি জটিলতায় ঘেরা এই ঘটনায় ওষুধ খাতজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে করপোরেট ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ব্যবসায়ী সমাজে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে আরও ভয়ংকর সব তথ্য ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র।