নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক : নেপালকে ১-২ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে নাম লেখাল বাংলাদেশ।
বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা।
ফাইনালের লক্ষ্যে মাঠে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের।
অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।
এদিকে, ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় নেপাল। বাংলাদেশের সাগরিকার নেওয়া দুর্দান্ত শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।
১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ ব্যবধান জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এর আগে দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।