গরম আবহাওয়ায় বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের হিসাব-নিকাশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্কৃতি, কৌশল ও দর্শনেরও মিলনমেলা। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র খেলার ধরণ নিয়ে মাঠে নামে। আর এ কারণেই এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এক আকর্ষণীয় সংঘর্ষ।

বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবলই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলো প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রাখতে পছন্দ করে। গরম আবহাওয়ায় বলের পেছনে কম ছুটতে হওয়ায় এই কৌশল কার্যকর হতে পারে।

স্পেন এখনও বলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই নিজেদের খেলা সাজায়, যদিও আগের তুলনায় তারা এখন বেশি সরাসরি আক্রমণে যায়। নেদারল্যান্ডসও একই ধরনের দর্শনে বিশ্বাসী, তবে তারা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সতর্ক।

ফ্রান্স ও পর্তুগাল মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। তারা বলের দখল রাখতে চায়, আবার প্রয়োজন হলে দ্রুত আক্রমণ ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপরও নির্ভর করে। ২০১৮ সালে ফ্রান্স এই কৌশলেই বিশ্বকাপ জিতেছিল।

জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে জার্মানি এখনও কিছুটা রহস্যময় দল। তবে সুযোগ পেলে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে উচ্চগতির চাপ প্রয়োগ ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড এবার কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছে। তারা বেশি শারীরিক শক্তিনির্ভর ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের দিকে ঝুঁকেছে। বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক দলগুলোর ছন্দ নষ্ট করাই হতে পারে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এবারের বিশ্বকাপে আবহাওয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাপমাত্রা বেশি থাকায় খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। পাশাপাশি কিছু মাঠ ফুটবলের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত নয়। ফলে বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত পাসের খেলা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। গরম আবহাওয়া ও কঠিন মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আগের প্রতিটি বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আমেরিকার দল শিরোপা জিতেছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সম্ভবত তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরেই কৌশল সাজাবে। তবে ৩৮ বছর বয়সী মেসির ওপর চাপ কমাতে দলটি আরও সুসংগঠিত ও রক্ষণভিত্তিক ফুটবলের দিকেও ঝুঁকতে পারে।

ব্রাজিলও একই ধরনের পথ অনুসরণ করতে পারে। শক্তিশালী রক্ষণভাগের পাশাপাশি দ্রুতগতির আক্রমণভাগকে কাজে লাগিয়ে তারা ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার তুলনামূলক কম আলোচিত দলগুলো রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে চাইবে।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুধু সেরা দল খোঁজার মঞ্চ নয়, বরং বিভিন্ন ফুটবল দর্শন ও কৌশলের পরীক্ষাগারও হতে যাচ্ছে। বলের নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবল হয়তো শুরুতে আধিপত্য দেখাবে, কিন্তু একটি দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণই পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।