৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, লন্ডনে কেমন আছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন
বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে জীবনের এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার পর এখন তার সময় কাটছে চিকিৎসা, হাসপাতাল এবং পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন গত বছর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে মেয়ের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করা সম্ভব হলেও জটিলতার ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো যায়নি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকেই তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলমান রয়েছে। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছেন।
অস্ত্রোপচারের শেষে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি। পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় এরই মধ্যে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি এখন দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিচ্ছেন।
তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। বুধবার (১০ জুন) সকালে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে। উন্নতিও নেই। বর্তমানে যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা কী, তা নতুন করে জানাবেন এবং পরবর্তী করণীয় কী, তা জানাবেন।
চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা। তাদের আশা, দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ হলে শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতি দেখা যেতে পারে।
তবে প্রতিদিনের বাস্তবতা সহজ নয়। লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তার। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।
একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, সামাজিক কর্মসূচি আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যার দিন-রাত কেটে যেত, সেই মানুষটির সময় এখন কাটছে হাসপাতালের ফলোআপ আর মেয়ের লন্ডনের বাড়ির চারদেয়ালের মধ্যে। স্বভাবতই এই পরিবর্তন তাকে অস্থির করে তোলে। তবু পরিবারের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
মেয়ে, জামাতা এবং নাতি–নাতনিদের সঙ্গেই কাটছে তার বেশির ভাগ সময়। কখনো তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কখনো পারিবারিক আড্ডা—এই ছোট ছোট মুহূর্তই কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে তার দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুস্থতার পথ এখনো দীর্ঘ।