গণপূর্তের জিগাতলা ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক, তদন্তকারী নিজেই অভিযুক্ত!
এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর জিগাতলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত নতুন বহুতল আবাসিক ভবনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুসরণ না করে যোগ্যতার বাইরে কয়েকজনকে বাসা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেন নিয়ম ভেঙে ডি-২ শ্রেণির একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। এ কারণে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে শফিকুল ইসলাম থাকায় বিষয়টির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহাবুব হাসানকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুপারিনটেনডেন্ট অফিসার আবু জাফর সিদ্দিক। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, গ্রেড ও বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জিগাতলার নতুন ভবনে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডি-২ শ্রেণির বাসা সাধারণত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেনকে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ডি-১, ই, এফসহ বিভিন্ন শ্রেণির ফ্ল্যাট বরাদ্দেও পদমর্যাদা ও গ্রেডের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পছন্দের লোকজনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসা বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ প্রকাশের পর। পরে সরকারি আবাসন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তের সুপারিশ করে। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ পাওয়ার পরও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি কমিটি করা হয়, যার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাসা বরাদ্দে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নির্দেশের পর ওই চক্র বিষয়টি নিজেদের মতো করে সামলানোর চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, এই অনিয়মের তথ্য বাইরে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-৪ এর অফিস সহায়ক ফারুক রহমান শেখকে ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, তথ্য প্রকাশের কারণে চাপের মুখে পড়েই তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে হলে বর্তমান কমিটি বাতিল করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বাসা বরাদ্দে অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে আসে।