গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, ৩৯ দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন
এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে একের পর এক ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৯টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই বিপুল সংখ্যক দরপত্র নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশ কিছু দরপত্র প্রকাশ করা হয়। এসব দরপত্রের মধ্যে রয়েছে টেন্ডার আইডি 1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851 এবং 1057813।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাগজে-কলমে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও বাস্তবে কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের রেট নির্ধারণ ও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।
এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন, প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, আর্থিক সুবিধা ছাড়া অনেক ফাইল এগোয় না।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কাজের ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সরকারি অর্থের অপচয়, কাজের মান কমে যাওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।