মিরপুরে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন, সানভিউ টাওয়ার্সের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর মিরপুরে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সানভিউ টাওয়ার্স নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অধিগ্রহণ করা জমি নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভবন নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে মামলা চললেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সরকারি সংস্থাটি।

জানা গেছে, মিরপুরের পল্লবী থানার বাউনিয়া মৌজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা বড় একটি জমির অংশ নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সিএস ৩১২৪ ও সিএস ৩১২৮ দাগের জমির মধ্যে প্রায় ৩ একর জায়গা সানভিউ টাওয়ার্স দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করার পাশাপাশি নতুন আরও একটি ভবনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব জমি সরকার অধিগ্রহণ করে তাদের আওতায় নিয়েছে। কিন্তু সানভিউ টাওয়ার্স দাবি করছে, তারা ওই জমি সাগুফতা কোম্পানির মালিক জুয়েল মোল্লার কাছ থেকে কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে তারা জমিটি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ শুরু করে।

তবে সরকারি সংস্থার অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় এবং আদালতে মামলা চলার মধ্যেই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জমির ওপর অনুমোদন ছাড়া এবং নকশার বাইরে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নির্মাণ বন্ধে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চিঠির পর রাজউক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভবনের কিছু অংশ ভাঙা হলেও পুরো নির্মাণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সানভিউ টাওয়ার্সের কর্মকর্তারা রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই জমি নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত পুরোনো রেকর্ডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যেখানে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা ছিল। এ কারণে জমির কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারি জমি নিজেদের নামে দেখাতে কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া বা বিতর্কিত কাগজপত্র ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, সানভিউ টাওয়ার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিএস দাগের জমি দখল করে ব্যবসা করছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গার অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, ওই জায়গা সরকারি পরিকল্পনার অংশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে দখলের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর এলাকায় জমির মূল্য অনেক বেশি। প্রায় ৩ একর জমির বাজারমূল্য শতকোটি টাকার ওপরে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয় গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারিজুর রহমান বলেন, সানভিউ যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করছে সেটি গৃহায়নের অধিগ্রহণ করা জমি। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তারপরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেন, সরকারি জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দখল করতে দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সানভিউ টাওয়ার্সের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা জমিটি বৈধভাবে কিনেছেন। তবে ভবনের কিছু অংশ অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি হওয়ায় রাজউক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে সরকারি জমির মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে সানভিউ টাওয়ার্স ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি জমি রক্ষা ও অবৈধ দখল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।