ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ: আরিফ উদ্দিনকে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের
বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট মহল।
তাদের দাবি, একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও এবং যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতেও একটি চক্র একই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। বর্তমানেও একই কৌশলে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন এবং এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিন মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেছেন, জিডি নং- ১৬৫৩।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এআই-নির্মিত ভিডিও বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ব্যক্তি অধিকার, গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর যদি অপপ্রচার বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব, অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।