এক ম্যাচে ৪ বিশ্বরেকর্ড, গিনেস বুকে নাম লেখালেন মেসি
ক্রীড়া ডেস্ক : ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি বিশ্বমঞ্চে আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন। চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তার জোড়া গোলের ওপর ভর করে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসরের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে পুরো ম্যাচের আলো কেড়ে নিয়েছেন ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই মেসি, যিনি এই ম্যাচের মাধ্যমে একাধিক অনন্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। টেক্সাসে অনুষ্ঠিত অস্ট্রিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে ট্রেডমার্ক বাঁ-পায়ের ফিনিশিংয়ে নিজের ১৭তম গোলটি করে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৮-তে। এর ফলে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন লিওনেল মেসি।
এই ঐতিহাসিক কীর্তির পাশাপাশি গিনেস বুক অনুযায়ী আরও তিনটি বড় রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি ২৮টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড, সবচেয়ে বেশি ১৮টি ম্যাচ জেতার রেকর্ড এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২,৪৮৯ মিনিট খেলার কীর্তি এককভাবে এখন এই মহাতারকার দখলে।
যদিও ম্যাচের শুরুটা মেসির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। খেলার নবম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন হাজারো ভক্তের গর্জন, কিন্তু মেসির নেওয়া দুর্বল স্পট-কিকটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর আগেও ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের তেতো স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। তবে প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার দারুণ এক ডামির সহায়তায় নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক। দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে হুলিয়ান আলভারেজের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ক্লোজ-রেঞ্জ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে মেসি তার অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, এই জয় অত্যন্ত কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা দলকে আগামী দিনগুলোর জন্য মানসিক স্বস্তি দেবে। টানা দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেয়ে নকআউট নিশ্চিত করতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি। ম্যাচজুড়ে মেসির এমন জাদুকরি পারফরম্যান্সের পর গ্যালারিতে শুধু তার নামেই স্লোগান ওঠে।
সতীর্থ স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ অধিনায়কের প্রশংসা করে বলেন, লিওকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, তিনি গত ২০ বছর ধরে বিশ্বের সেরা এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। জুনের এই তীব্র উত্তাপের মাঝে টেক্সাসের মাঠে মেসি যেন আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র।