নকল নোভো নরডিস্ক ইনসুলিন জব্দ: চট্টগ্রামে অভিযানে ধরা পড়ল সরবরাহকারী, উঠে এলো মিটফোর্ড নেটওয়ার্ক
বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের অলংকার মোড় এলাকার সৌদিয়া ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নকল ইনসুলিন বিতরণ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ সময় মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে নকল নোভো নরডিস্ক ব্র্যান্ডের ইনসুলিন সরবরাহের অভিযোগে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিজিএফআইয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নোভো নরডিস্কের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অংশ নেন। আটক মোজাম্মেলকে সৌদিয়া ফার্মেসিতে ডেকে আনা হলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল জানান, জব্দকৃত ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ তিনি ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার হিমেল নামে এক দালালের মাধ্যমে সংগ্রহ করতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকার বিভিন্ন উৎস থেকে নকল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে।
অভিযানকালে নোভো নরডিস্কের ‘মিক্সটার্ড’ ইনসুলিনের নামে বাজারজাত করা সন্দেহভাজন নকল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করে মোজাম্মেলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, মোজাম্মেল কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফার্মেসিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব ইনসুলিন সরবরাহ করছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার হারপাকনা মাস্টারবাড়ি এলাকায়। বর্তমানে তিনি পাহাড়তলী থানার হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হিমেল নামে আরেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চক্রটির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ঢাকার মিটফোর্ড এলাকাকে কেন্দ্র করে নকল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোজাম্মেলের সঙ্গে তার প্রায় দুই থেকে তিন বছরের পরিচয় এবং গত দুই মাস ধরে নিয়মিত লেনদেন চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চক্রটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক ঢাকার মিটফোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। জব্দকৃত ইনসুলিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল দাবি করেন, পণ্যটি এসকেএফ (SK+F) থেকে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এ দাবিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন, কারণ এটি নোভো নরডিস্কের বৈধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল ইনসুলিন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব পণ্য ব্যবহারে চিকিৎসা ব্যর্থতা, গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই জব্দকৃত ওষুধের ফরেনসিক পরীক্ষা ও ল্যাব বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিটফোর্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান, সরবরাহ চেইন শনাক্তকরণ, সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিগুলোর মজুদ যাচাই এবং পরীক্ষাগার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজন পণ্য জব্দ ও কোয়ারেন্টাইনে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি শুধু নকল ইনসুলিন নয়, বরং বৃহত্তর নকল ওষুধ ব্যবসার একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। তাই পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।