যুদ্ধের নতুন কৌশল, ৫ লাখ সেনার হাতে ড্রোন তুলে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বাড়তে থাকা ড্রোনের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতোই সহজে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।
শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত করা হবে।
আন গিউ ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী কে লুকাস ড্রোনের উৎপাদনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হবে।
২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা পাচ্ছে।
এদিকে শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষাও তদারক করেছেন।
সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান