‘আমি হয়রানির শিকার, সরকারের সহযোগিতা চাই’

বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা কমল পাটেকার। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে হয়রানি করতে মাঝরাতে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ঘটনাটি বিনোদন পাড়াসহ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গত রোববার (১৮ জুন) রাতে কমল পাটেকারের আকস্মিক পুলিশি অভিযানের ঘটনাটি ঘটে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই একদল পুলিশ অভিনেতার বাসভবনে কড়া নাড়ে। তল্লাশির নামে গভীর রাতে তার পরিবারকে চরম মানসিক হেনস্তা ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, তার নামে নাকি জুলাইয়ের একটি মামলায় সদ্য নাম যুক্ত হয়েছে যাত্রাবাড়ি থানায়। তবে এর বেশি বিস্তারিত জানা যায়নি।

এই ঘটনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিনেতা কমল বলেন, ‘আমি কখনোই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সবসময় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতাম। শুটিং আর এফডিসি ব্যতীত আমাকে কেউ কখনও দেখেনি। ৫ আগস্টের পর প্রধান উপদেষ্টা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার এসেছে। এতদিনে কখনও হয়রানির শিকার হয়নি। আমি যদি জুলাই বিরোধী হতাম তাহলে এতদিনে মামলা হয়নি কেন? কিন্তু হুট করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কেউ একজন জুলাইয়ের সময়ের একটি মামলায় নাকি আমার নাম অজ্ঞাত হিসেবে যুক্ত করেছেন। আমি নাকি জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলাম। কে বা কারা দিয়েছেন তা এখনও জানি না। মামলার কথা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। কারণ, কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে, আমি জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলাম। তাছাড়া এতদিন পর এসে নির্বাচনের দুই দিন আগে নাম যুক্ত হওয়াকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। এর সুস্থ তদন্তের দাবি করছি। আমাকে হয়রানি করতে এবং নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখতে কেউ ষড়যন্ত্র করছে।’

মিথ্যা ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও শুটিং ছাড়া ঘর ছাড়া ছিলাম না। কিন্তু গত দুই দিন ধরে বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না। আল্লাহর কাছে বিচার চাই এই নোংরামির। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব- আপনি বিষয়টা দেখবেন। আমাদের মতো সাধারণ শিল্পীদের মিথ্যা হয়রানি করে কেউ ফায়দা নিচ্ছে। আপনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ক্যারিয়ারে দাগ নেই।’

দীর্ঘ সময় ধরে সমিতির বিভিন্ন পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন কমল পাটেকর। পাঁচ বার কোষাধ্যক্ষ এবং একবার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচনে লড়ছেন।

আমৃত্য অভিনয় চালিয়ে যেতে চান কমল। বিদেশে বিলাসী জীবন কাটানোর সুযোগ পেয়েও অভিনয় ভালোবেসে নিজ দেশেই থেকে চান তিনি। কিন্তু শেষ জীবনে এসে শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন কমল। সেসঙ্গে শিল্পীদের পাশে চেয়েছেন তিনি।

সহশিল্পীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অপমানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিনোদন জগতের তারকারা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন নোংরা খেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, দুই বাংলার জনপ্রিয় খল অভিনেতা কমল পাটেকার। আশির দশকে শুরু তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার। অভিনেতা কমল এ পর্যন্ত কাজ করেছেন ২ হাজারেরও অধিক সিনেমায়। তার অভিনীত কয়েকটি সিনেমা বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে।