টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ: সুনামগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে “গ্রীন কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পূর্ববর্তী শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় থেকে যায়, যার মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রীন কনস্ট্রাকশন—এমনটাই দাবি করছেন একাধিক ঠিকাদার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মচারী।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ :
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, অধিকাংশ দরপত্রে কার্যত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, দরপত্রে অংশ নিতে গেলে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে “ম্যানেজড টেন্ডার” ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ এককভাবে গ্রীন কনস্ট্রাকশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।
নিম্নমানের কাজ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ :
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
পানি সরবরাহ লাইন, টিউবওয়েল স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, “কাগজে-কলমে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”
প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের প্রভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকেনি।
তদন্তের দাবি জোরালো :
স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।
তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা স্বত্বাধিকারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।