আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ, তদন্তে এফবিআই

ক্রীড়া ডেস্ক : মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের অভিযোগ উঠেছে। সেটা নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। এ অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠলো।

যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।  আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র লা নাসিওনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি স্পোর্টস ও স্পোর্টস মেক্সিকো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ফেডারেল কৌঁসুলি ও এফবিআইয়ের এজেন্টরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন।

তদন্তকারীরা বুঝতে চাইছেন, এএফএ কীভাবে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার সরিয়েছে এবং এসব লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের আওতায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে কি না।

লা নাসিওন জানিয়েছে, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যটি দিয়েছেন ব্যবসায়ী গিয়েরমো টোফোনি। তিনি ওয়াশিংটন ও মিয়ামিতে অবস্থিত কৌঁসুলি ও এফবিআই এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন ঘণ্টার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তাপিয়া ও পাবলো টোভিগ্গিনোর নেতৃত্বে এএফএর কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসিও তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। প্রযোজক হাভিয়ের ফারনির মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান বিদেশে এএফএর বাণিজ্যিক চুক্তির অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে।

লা নাসিওন আরও জানায়, বিচার বিভাগের তদন্তকারীরা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের সেসব সাবেক কর্মকর্তাকেও ডাকার কথা ভাবছেন, যারা এএফএর কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানতেন অথবা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটির কার্যক্রম তদারকিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২৫ সালে এই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয় বলে সংবাদপত্রটি নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিগত কয়েক মাসে সংগৃহীত ও বিশ্লেষণ করা এবং ২০২৫ সালের শেষে ও চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, হাভিয়ের ফারনি এবং তার স্ত্রী এরিকা গিলেট সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি ব্যাংক এই পাঁচটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অন্তত কয়েকশো মিলিয়ন ডলার সরিয়েছেন।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি এএফএ থেকে পাওয়া অন্তত ২৬ কোটি মার্কিন ডলার পরিচালনা করেছে। তবে ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনের সুনির্দিষ্ট পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে এর একটি অংশকেই সরাসরি সংযুক্ত করা যায়। আরও ৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিভিন্ন কোম্পানি ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যাদের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়। এসব স্থানান্তরের মধ্যে এমন কিছু কোম্পানিতে কয়েক কোটি ডলারের ওয়্যার ট্রান্সফার রয়েছে, যেগুলো কোনো শনাক্তযোগ্য সেবা দেয় না। এসব কোম্পানি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো যারা সরকারি নথি অনুযায়ী সামাজিক কল্যাণ ভাতা পেতেন এবং বারিলোচে বা বুয়েনস এইরেসে বসবাস করতেন।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাপিয়া এমন এক সংকটের কেন্দ্রে ছিলেন, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দুর্নীতির তদন্ত, দেশিয় লিগে অজনপ্রিয় পরিবর্তন এবং র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে জনমত তাপিয়া ও এএফএর বিপক্ষে চলে যায়।

আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছেন ৫৮ বছর বয়সী তাপিয়া। গত মার্চের শেষদিকে মিলেই সরকারের দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বুয়েনস এইরেসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে একটি ফলক নেয়ার সময় দর্শকদের দুয়োধ্বনির শিকার হন এই ফুটবল কর্মকর্তা।