ট্রলের শিকার সেই শিক্ষিকার পাশে সারা দেশের সহকর্মীরা

ডেস্ক নিউজঃ হালকা বাতাস। সেই বাতাসে আঁচল উড়িয়ে অল্প অল্প হাঁটছেন এক নারী। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’।
গত বৃহস্পতিবার এমন ভিডিও শেয়ার করেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।

তার এই ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা শুরু হয়। ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন তিনি। এবার এরই প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা একই গানে রিলস তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন।

গত দুই দিনে ফেসবুকে ডিফরেন্ট টাচের এই সিগনেচার গান ব্যবহার করে সারা দেশের শিক্ষিকারা রিলস পোস্ট করেছেন। এসব ভিডিওতে তাদের কর্মস্থল, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা ব্যক্তিগত পরিবেশে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।

তারা লিখছেন, শিক্ষকতার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের স্বাধীনতাও সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে।

মজার ব্যাপার হলো এই শ্রাবণ মাসের মতোই ১৯৮৭ সালের আরেক শ্রাবণে খুলনায় বসে গানটি লিখেছিলেন গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু। রোমান্টিক ধাঁচের গানটি এত বছর পর এই শ্রাবণে হয়ে গেল প্রতিবাদের ভাষা!

সামিয়া শিকদার নামের এক শিক্ষিকা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।’

পোস্টে তিনি #BeautyRaniPal, #RespectTeachers, #TeacherUnity, #StandWithTeachers, #EducationMatters এবং #TeachersAreNationBuilders হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।

কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি একই গানে ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের ভিডিওর কারণে দেশবাসী অন্তত কিছুটা হলেও লায়লা, মামুন আর চাচাদের কটাক্ষপূর্ণ ভিডিও থেকে মুক্তি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কিছুটা হলেও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ডিজিটাল এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিল, যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাবে। আমাদের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। সমালোচনা করুন, তবে সেটা হতে হবে যৌক্তিক। আজাইরা সমালোচনার ফল তো দেখলেন? হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সব শিক্ষকরা বেরিয়ে এলেন। যেসব শিক্ষকরা কোনো দিন লজ্জায় ভিডিও দিতেন না, তাদের প্রতিভাও বিকশিত করে দিলেন। যাক, দিনশেষে আমরা সবাই শিক্ষক। আগামীকাল থেকে আমাদের আবার শ্রেণিকক্ষেই দেখবেন।’