বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে তিন ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৫৫

তীব্র বাতাসের কবলে পড়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথক স্থানে তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি লবণবাহী বাল্কহেড ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ছাবের আহমেদ (৬৫) নামে এক লস্করের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় জেলেদের তৎপরতায় ৫৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাগেরহাটে অন্তত ৩৫ জেলে নিখোঁজের ঘটনায় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে তাদের স্বজনরা।

গতকাল দুপুরে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর মোহনায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ছাবের আহমেদ চট্টগ্রামের শিকলভাঙা এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানান, চট্টগ্রাম থেকে ১১ হাজার মণ লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় কার্গো বাল্কহেড ‘এমভি আদনান’। হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে পৌঁছলে এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ায় প্রচণ্ড বাতাসের তোড়ে আট কর্মীসহ কার্গোটি ডুবে যায়। পাশের একটি ট্রলার তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ছাবের আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সকালে নিঝুমদ্বীপের কাছে সাগরে নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির তিনটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে। ট্রলার মালিক নিশান চৌধুরী জানান, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে দুটি ট্রলার সম্পূর্ণ ডুবে যায়। তবে কাছাকাছি থাকা ট্রলারগুলোর সহায়তায় তিনটি নৌকার মোট ৪৮ জন মাঝিমাল্লাকে নিরাপদে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে সাগরে দুর্যোগের শিকার হওয়া স্বজনদের নিয়ে আরেক মানবিক চিত্র দেখা গেছে বাগেরহাটের কচুয়ায়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপজেলার বগা, বিষখালী, বাধাল, বড় আন্ধরমানিক, চাড়াখালী ও মাদারতলা গ্রামের অন্তত ৩৫ জেলে নিখোঁজ ও নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালের নভেম্বরেই একসঙ্গে ১৯ জন নিখোঁজ হন। স্বজনদের মরদেহ না পাওয়ায় তারা মৃত্যু সনদ পাননি। ফলে সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত রয়েছে পরিবারগুলো।

গতকাল কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব অসহায় পরিবারের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি, কচুয়া উপজেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে। সভায় স্বজনহারা নারীরা তাদের চরম কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বগা গ্রামের ফিরোজা বেগম জানান, ২০১৫ সালে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চলছে। মৃত্যু সনদ না থাকায় কোনো সহায়তা মেলেনি। তিনি শিক্ষিত ছোট ছেলের জন্য একটি চাকরির দাবি জানান। সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে বেঁচে আছেন বলে জানান তাসলিমা বেগম ও শিরিন আক্তার। স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহীম আমানী পরিবারগুলোকে টেকসই সহায়তার আওতায় আনার তাগিদ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্যজীবী সমিতি জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসান বলেন, ‘নিখোঁজ পরিবারগুলোকে দেয়া সহযোগিতা খুবই অপ্রতুল। তাদের সহায়তা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরদার জাহিদ অসহায় পরিবারগুলোকে প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।