চিলমারীতে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠে ইউএনওকে হামলা
ডেস্ক নিউজ : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের ফলাফল প্রকাশ এবং তীব্র তাপপ্রবাহ ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে সার্চলাইট জ্বালিয়ে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে খেলার মাঠে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খেলার মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় দুই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও তাপপ্রবাহের মাঝেও উপজেলা পরিষদ চত্বরে সার্চলাইট জ্বালিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন নিয়ে কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে আসছে। এরই মাঝে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোববার রাতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফলে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। ব্যাডমিন্টন খেলাকে ঘিরে সঞ্চার হওয়া ক্ষোভ এবং ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ- দুই নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই জেরে রোববার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইউএনওর বাড়ি অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে। মিছিলের সময় ইউএনও ব্যাডমিন্টন খেলতে থাকায় মিছিলকারীরা খেলার মাঠে যান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্য খেলোয়াড়রা সাময়িক খেলা বন্ধ রাখেন। বিক্ষুব্ধরা গালমন্দ করে চলে গেলে আবারও খেলা শুরু হয়। খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় বিক্ষুব্ধ লোকজন মিছিল নিয়ে ফের মাঠে হামলা চালায় এবং খেলার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করে ইউএনওকে গালমন্দ করে মাঠ ত্যাগ করেন।
পরে আনসার সদস্যদের সহায়তায় ইউএনও নিজ বাসভবনে চলে গেলেও খেলোয়াড়রা বাড়ি ফেরার পথে বিক্ষুব্ধদের হামলার শিকার হন। এ সময় উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে খেলোয়াড় দুই শিক্ষক মিলন চন্দ্র ও মো. রেজাউল করিম রেজাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সরকারি কার্যালয় চত্বরে এই গরমের সময়েও নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন এবং ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশকে ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে রাতে ঘটনাটি ঘটায় হামলা ও মারধরের ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।