নদীতে চলে না স্পিডবোট, তবু মাসে ৫০ হাজার টাকার জ্বালানি বিল! বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে সরকারি অর্থে কেনা একটি স্পিডবোট। ২০২৫ সালে সরকারি বরাদ্দে পাওয়া এই নৌযানটি নিয়মিত চলাচলে না থাকলেও এর জ্বালানি বাবদ প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

চিলমারী নৌ-ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্পিডবোটটি দড়ি দিয়ে ঘাটে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে এর গায়ে ময়লা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। নৌযানটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা পরিচর্যার দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সরকারি কাজে নিয়মিত ব্যবহারের পরিবর্তে স্পিডবোটটি কখনো কখনো ভাড়ায়ও চালানো হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, স্পিডবোটটির নিয়মিত চলাচল না থাকলেও প্রতি মাসে জ্বালানি বা তেল খরচের নামে প্রায় ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

স্পিডবোটটির নিরাপত্তা ও দেখভালের জন্য পিয়ন, টার্মিনাল গার্ডসহ রবিন, সাবিরুল, হাফিজুর এবং আরও একজন কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মচারীর বেতন বাবদ সরকারকে মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সরকারি নৌযানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে কোনো দৃশ্যমান সেবা বা রাজস্ব পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পিডবোটটি সচল ও নিয়মিত ব্যবহারের পরিবর্তে ঘাটে ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। তাদের আরও অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবহার না থাকলেও কাগজপত্র বা ভাউচারের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে সরকারি অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চিলমারী শাখার সহকারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমার চেয়ারম্যানকে গিয়ে বলেন।”

সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে কেনা কোনো নৌযান দীর্ঘদিন অব্যবহৃত রেখে দেওয়া হলে একদিকে যেমন সম্পদের মূল্য ও কার্যকারিতা কমে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা বাবদ অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ের প্রশ্নও তৈরি হয়। এর সঙ্গে নিয়মিত জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব থাকলে তা যাচাই করা জরুরি।

এলাকাবাসী ও নৌ-শ্রমিকদের দাবি, স্পিডবোটটির প্রকৃত ব্যবহার, জ্বালানি ব্যয়, কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে কেনা নৌযানটি জনস্বার্থে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান ও বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।