১৯ বছর একই জায়গায় জাগৃকের মিরাজ: ১৭ কোটি থেকে লিফটের ব্যয় ৪৯ কোটি, সাবস্টেশন-জেনারেটর-অগ্নিনিরোধকেও অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি
বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) মোহাম্মদপুর এলাকার একটি আবাসন প্রকল্পে লিফটসহ ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ‘দোলনচাঁপা-কনকচাঁপা’ নামের প্রকল্পটিতে ৪৩০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি লিফট কেনার জন্য মূল প্রস্তাবে যে অর্থ বরাদ্দ ছিল, সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে প্রায় তিন গুণ করা হয়েছে। ফলে শুধু লিফট কেনাতেই অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩১ কোটি টাকার বেশি।
প্রকল্পটির ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল (ইএম) বিভাগের আওতায় যেসব কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হবে, ইতোমধ্যে সেগুলোও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শুধু লিফট নয়, জেনারেটর, অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও অনুমোদিত দরের চেয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেশি খরচ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজের সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) মো. মিরাজ হোসেন জড়িত বলে জানা গেছে।
জাগৃকের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে বসে গত দেড় যুগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৩০টি প্রকল্পের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল বিভাগের সব ধরনের কেনাকাটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিরাজ হোসেন। এসব প্রকল্পেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপিতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ ঠিকাদারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু প্রকৌশলী মিরাজ হোসেন একই অবস্থানে বহাল রয়েছেন। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর তিনি যে বিভাগে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, প্রায় ১৯ বছর পরও সেই বিভাগেই রয়েছেন। এত দীর্ঘ সময় একই বিভাগে একই পদে থাকার বিষয়টি নিয়ে জাগৃকের ভেতরে প্রশ্ন রয়েছে।
জাগৃকের যেসব প্রকল্পে ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল বিভাগের কেনাকাটায় মিরাজ হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প-১ ও ২, মিরপুর ৩৬০ ফ্ল্যাট প্রকল্প, লালমাটিয়া ৮৮ ফ্ল্যাট প্রকল্প, লালমাটিয়া ৫৪ ফ্ল্যাট প্রকল্প, লালমাটিয়া অফিসার্স কোয়ার্টার, লালমাটিয়া বাণিজ্যিক মার্কেট, যশোর বাণিজ্যিক প্রকল্প, মিরপুর গ্রেনেড হামলা প্রকল্প, চট্টগ্রামের পাঁচটি ফ্ল্যাট প্রকল্প, কক্সবাজার ফ্ল্যাট প্রকল্প, বগুড়া ফ্ল্যাট প্রকল্প, দিনাজপুর ফ্ল্যাট প্রকল্প, সেগুনবাগিচা গৃহায়ন ভবন এবং যশোর ফ্ল্যাট প্রকল্প। এসব প্রকল্পের ডিপিপি যাচাই করলে প্রকৃত ব্যয় ও অনুমোদিত ব্যয়ের পার্থক্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন জাগৃকের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে এসব কেনাকাটায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বা পিপিআর যথাযথভাবে মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ যশোর বাণিজ্যিক প্রকল্পেও লিফট কেনাকে কেন্দ্র করে মিরাজ হোসেন আলোচনায় এসেছেন বলে কর্মকর্তারা জানান। তাদের দাবি, সেখানে ১০ কোটি টাকার লিফট ১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। এরপরও ‘ম্যানেজ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত মিরাজ হোসেনের অবস্থান নড়েনি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জাগৃকের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, লিফট কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে নিজের প্রভাব ধরে রাখেন মিরাজ হোসেন। তাদের দাবি, এসব কর্মকর্তাকে বিদেশ সফরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইচ্ছেমতো ডলার দিয়ে প্রমোদভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর মিরাজ হোসেনের ভূমিকা নিয়ে আর কেউ প্রশ্ন তোলেন না।
মোহাম্মদপুরের ‘দোলনচাঁপা-কনকচাঁপা’ প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৪১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। অর্থাৎ সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৩ লাখ টাকা। মূল ব্যয়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
প্রকল্পটির ৪৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য মূল প্রস্তাবে ১৯টি লিফট কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীতে এই ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ লিফট কেনার খরচ বেড়েছে ৩১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের মোট বৃদ্ধির প্রায় ৭২ কোটি টাকার মধ্যে কেবল লিফট কেনার ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩১ কোটি টাকার বেশি।
লিফটের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন খাতেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবে ১০টি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সংশোধনীতে সাবস্টেশনের সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে ৮টি করা হলেও ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ ইউনিটের সংখ্যা কমার পরও এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
একইভাবে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের সংখ্যাও ১০টি থেকে কমিয়ে ৮টি করা হয়েছে। অথচ মূল প্রস্তাবে এ খাতে ২ কোটি ৯১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে জেনারেটর খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
বৈদ্যুতিক পাম্প-মোটরের ক্ষেত্রেও ব্যয় বেড়েছে। মূল প্রস্তাবে প্রতি সেটের দাম ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সংশোধনীতে প্রতি সেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর ফলে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ ২১ হাজার টাকা।
নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থাপনা খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মূল প্রস্তাবে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সংশোধনীতে জব সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে মাত্র ২টি করা হলেও ব্যয় বাড়িয়ে ৯ কোটি ৮২ লাখ ১৭ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ কাজের পরিমাণ বা জব সংখ্যা কমার পরও এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
ফোর্স ভেন্টিলেশন খাতেও ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূল প্রস্তাবে এ খাতে ব্যয় ছিল ৪৮ লাখ টাকা। সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯ হাজার টাকা।
জাগৃকের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রকল্পে এসব ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে। তাদের দাবি, ডিপিপিতে অপেক্ষাকৃত কম ব্যয় নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বাড়ানো হয়। এভাবে প্রকল্পের মোট ব্যয়ও বাড়ানো হয়।
মিরাজ হোসেনের দীর্ঘদিন একই পদে থাকার বিষয়টিও কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। তাদের ভাষ্য, ডলার সংকটের কারণে সরকার যখন ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে, তখনও গৃহায়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর থেমে থাকেনি।
জাগৃকের কর্মকর্তারা জানান, গৃহায়নের দুটি প্রকল্প থেকে মোট নয়জন বিদেশ সফর করেছেন। তাদের অভিযোগ, লিফট কেনার নামে মিরপুরের ‘স্বপ্ননগর-২’ ১৪ তলা আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের অর্থে প্রকৌশলী মিরাজ হোসেনসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করেছেন।
এ ছাড়া ৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট এবং কর্মচারীদের জন্য ৫৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের অর্থে কয়েকজন কর্মকর্তা সুইজারল্যান্ড সফর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব বিদেশ সফরের কারণে সংশ্লিষ্ট অনেকের বদলি হলেও মিরাজ হোসেনের বদলি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম ডিভিশন) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, তাদের ডিপিপিতে ‘বি’ ক্যাটাগরির লিফট ধরা হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটি ‘এ’ ক্যাটাগরির লিফট ধরার সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট বা পিডব্লিউডির শিডিউল অনুযায়ী ‘এ’ ক্যাটাগরির লিফটের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
লিফটের দাম কেন এত বেড়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে ক্যাটাগরির লিফট ধরা হয়েছে, সেগুলোর দাম বেশি এবং তা আগের দামের দ্বিগুণেরও বেশি। পিডব্লিউডির শিডিউলে পরিবর্তন এনে যে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই দরই প্রকল্পে ধরা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দুর্নীতির সুযোগ থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। মিরাজ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভা হয়, প্রকল্প পরিচালক আছেন, তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা আছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমাকে দেবে কোথায়, যাওয়ার তো জায়গা নাই।’
অতিরিক্ত দামে লিফট কেনার কারণ এবং প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা: ফেরদৌসী বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি প্রতিউত্তরে বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করুন। সকল তথ্য পাবেন।’
প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীতে মাত্র ৭২ কোটি টাকার মতো মোট ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে লিফট খাতেই ৩১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ, আবার সাবস্টেশন, জেনারেটর, পাম্প-মোটর, অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থাপনা ও ফোর্স ভেন্টিলেশনসহ একাধিক খাতে একই সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা প্রকল্পটির ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কেনাকাটার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে সরঞ্জামের সংখ্যা কমার পরও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।