সমর্থকদের কলা নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটির কোচ
খেলাধুলা ডেস্কঃ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১০০টিরও বেশি আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এখন শাস্তি ঘোষণা না করলেও, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সেই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠের ফুটবলে ক্লাব-ফুটবলার-সমর্থক সবার মাঝে ঐক্য তৈরির লক্ষ্য হিসেবে ম্যাচ চলাকালে ওড়ানো হয় কলা আকৃতির বেলুন!
এটি মূলত আশির দশকের শেষদিকে একটি ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা, যখন ইংরেজ ফুটবলের এক কঠিন সময়ে সমর্থকরা ম্যাচে কলা ও অন্যান্য বাতাসভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে আসতেন। ওই ধারণাটি ‘১৮৯৪’ নামক সমর্থক গোষ্ঠী দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্লাবের কোনো মতভেদ তৈরি হলে খেলায় আনন্দ ফিরিয়ে আনার একটি ইঙ্গিত। গত সপ্তাহে গোষ্ঠীটি এক টুইট বার্তায় বলেছিল, ‘এই ভক্তরা সবসময় একটি রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে গেছে।’
মাঠে দলের কঠিন সময়েও পরিবেশকে প্রাণবন্ত রাখতে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা ম্যাচে এমন কলা নিয়ে যেতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরে এসেছে সেই দৃশ্য। এই পরিস্থিতিতে মাঠের পারফরম্যান্সে খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে ঐক্য দেখা গেছে। একইসঙ্গে সমর্থকরাও দেখিয়েছেন নিজেদের দৃঢ়তা ও ক্লাবের প্রতি আনুগত্য।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিভারপুলের মাঠে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল এনজো মারেসকার দল ম্যানসিটি। সেই ম্যাচে সমর্থকদের কলা নিয়ে হাজির হওয়াকে বাইরের তীব্র সমালোচনার মুখে ক্লাবের প্রতি সমর্থকদের অবস্থানের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
আজ শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইপচউইচ টাউনের বিপক্ষে খেলবে ম্যানসিটি। ওই ম্যাচেও কলার বেলুন নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন কোচ মারেসকা, ‘এটা খুবই সুন্দর। কলার পেছনের ইতিহাস আমি জানতাম না। তবে আশা করছি আগামীকাল স্টেডিয়ামে অনেক কলা দেখতে পাব। আমার মনে হয় এটি সমর্থক এবং স্টেডিয়ামে থাকা সবার জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করে।’
ক্লাবকে ঘিরে চলমান বিতর্কময় পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করার কথা জানিয়ে মারেসকা বলেন, ‘আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে পারি, এই আলোচনা-সমালোচনার পর সমর্থক, ক্লাব ও দলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ মনে হচ্ছে। আমার চার সন্তান। তারাও ইতোমধ্যে আমার কাছে কলা চেয়েছে। আগামীকাল তারা স্টেডিয়ামে থাকবে। দেখা যাক কী হয়।’
মাঠের বাইরের পরিস্থিতিতে কোনো চাপ নেই বলেও জানিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমি অনেকবার বলেছি, বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে আমি কোনো ধরনের চাপ অনুভব করি না। কারণ বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি শুধু পরবর্তী ম্যাচটি কীভাবে জেতা যায়, সেদিকেই মনোযোগ দিই। আসন্ন ম্যাচটিও তিন পয়েন্টের লড়াই, অ্যানফিল্ডের ম্যাচের মতোই। তাই আমাদের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং আরেকটি জয় পাওয়ার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।’