ক্ষমতার পালাবদলেও বহাল রমজান খান, বদলি বাণিজ্য ও বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কিন্তু প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার প্রভাব ও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে এক সরকারের আমল থেকে অন্য সরকারের সময়েও সুবিধা ধরে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনই একজন কর্মকর্তা মুন্সিগঞ্জের বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার মো. রমজান খান। তাঁর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রমজান খান। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁর প্রশাসনিক প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আইনবিষয়ক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন রমজান খান। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বদলি, পদায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে তদবির বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন মো. রমজান খান। এর আগে তিনি জেল পুলিশে চাকরি করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যশোর কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে বন্দীদের ওপর নির্যাতন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর তাঁর সেই চাকরি চলে যায় বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। পরবর্তী সময়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের পর তাঁর কর্মজীবনে দ্রুত পরিবর্তন আসে।

নরসিংদী সদর, কালামপুর, ফতুল্লা, গুলশান, নেত্রকোনা সদর এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় দলিল নিবন্ধন, সরকারি রাজস্ব আদায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন রমজান খান। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি আয় হয় এমন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শুধু ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জন নয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতিতেও তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (BRSA) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদকে কাজে লাগিয়ে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

এমন পরিস্থিতিতে বদলি বাণিজ্য বন্ধ এবং কথিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে গত বছরের মে মাসে আইন উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন একজন ভুক্তভোগী। নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে দেওয়া ওই অভিযোগে রমজান খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রমজান খানের বাড়ি হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগের সুবিধা পেয়েছেন। এই সম্পর্ক ব্যবহার করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক কর্মস্থলে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্বকে ব্যবহার করে তিনি বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন।

রমজান খানের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। ঢাকার গুলশান-১ এলাকার গ্লোরিয়া জিন্স হোটেলে সন্ধ্যার পর বদলি নিয়ে আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের বৈঠক বসত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাব-রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অফিস সহকারীদের বদলি নিয়ে দরকষাকষি হতো বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সদর, গুলশান, শ্যামপুর, কেরানীগঞ্জ, গজারিয়া, রূপগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর সদর, রাঙ্গুনিয়া, কক্সবাজার সদর, পটিয়া, নোয়াখালী সদর, টাঙ্গাইল সদর, নবাবগঞ্জ, মধুপুর, ঘাটাইল, ত্রিশাল, কান্দিরপাড়, ফুলপুর ও খিলগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেড় শতাধিক সাব-রেজিস্ট্রারের বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। এসব বদলির মাধ্যমে গত এক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে এই চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

বদলি বাণিজ্যের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নীলফামারীর জলঢাকা সাব-রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লাকে চট্টগ্রাম সদর অথবা রূপগঞ্জে বদলি করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেন রমজান খান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে সীতাকুণ্ডে বদলি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্যদের কাছ থেকে বেশি অর্থ পাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সদর ও রূপগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে তাঁদের পদায়ন করা হয়।

এ ঘটনার পর সীতাকুণ্ডের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবিবের বদলি আদেশ বাতিলের জন্যও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আনডিউ বদলির বিষয়টি সামনে এনে তাঁর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে লুৎফর রহমান মোল্লার কাছ থেকে নেওয়া ১ কোটি ২০ লাখ টাকার অর্থ যথাযথভাবে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বদলির আশ্বাস দিয়ে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন রমজান খান।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে শুরু করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির কমিটি গঠনেও ভূমিকা রাখার দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকশ ব্যক্তিকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন মামলায় সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামলাবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে মামলা এবং বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সাব-রেজিস্ট্রার থেকে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি এবং মুন্সিগঞ্জে দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে পদোন্নতি নিয়ে একই জেলার জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রমজান খান। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বেশ গুরুতর। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলশান এলাকায় তাঁর নামে-বেনামে প্রায় ৩০টি ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং রয়েছে। গুলশানের নিকেতনে সপরিবারে বসবাস করেন তিনি। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কয়েকশ একর জমি, বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং বিদেশে একাধিক বাড়ি থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের একটি বড় অংশের অর্থ এসেছে বদলি বাণিজ্য, ঘুষ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে। তাঁর শ্যালকের মাধ্যমে লন্ডন, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই তিন দেশে প্রায় অর্ধডজন বাড়ি থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা জেলার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে আসার চেষ্টা করছেন রমজান খান—এমন তথ্যও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, তিনি ঢাকায় দায়িত্ব পেলে জেলার ২২টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাণিজ্য, দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম এবং ঘুষের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রমজান খানের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন ব্যক্তিগত দালালের যোগাযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তার করেন। দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের পছন্দের দলিল সম্পন্ন করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে তাঁর নিয়োগ হলে এই কথিত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সব মিলিয়ে রমজান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একজন কর্মকর্তার বদলি বাণিজ্য বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং নিবন্ধন অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, সরকারি রাজস্ব আদায়, দলিল নিবন্ধন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এ অবস্থায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, রমজান খানের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। বিশেষ করে কথিত বদলি বাণিজ্যে অর্থ লেনদেন, সম্পদের উৎস, বিদেশে বাড়ি কেনার অর্থের উৎস এবং প্রশাসনিক পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একই ব্যক্তিরা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রভাব ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে? শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনের ভেতরে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।