উন্নয়নকাজের বরাদ্দে কমিশন আদায়ের অভিযোগ, নবাবগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বরাদ্দ থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা না দিলে কাজের ফাইল অনুমোদন, প্রাক্কলন তৈরি এবং চূড়ান্ত বিল পেতে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে এই কমিশন বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় একাধিক ঠিকাদারের দাবি, নবাবগঞ্জে এলজিইডির অধীনে কোনো উন্নয়নকাজ করতে গেলে শুরু থেকেই উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের চাপ তৈরি হয়। প্রকল্পের কারিগরি অনুমোদন, নকশা তৈরি, কাজের প্রাক্কলন এবং বিল ছাড় করার ক্ষেত্রে কমিশন দিতে হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। নির্ধারিত টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ শুরুর আগেই বরাদ্দের একটি অংশ কমিশন হিসেবে দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, কাজ চলাকালে সামান্য ত্রুটি বা নিয়ম ভঙ্গের কথা তুলে ধরে বিল আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে সেই সমস্যা সমাধানের কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়। এতে অনেক ঠিকাদার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হন। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের কমিশন লেনদেনের প্রভাব পড়ছে উন্নয়নকাজের মানের ওপরও। ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কমিশন দেওয়ার পর নির্মাণকাজে ব্যয় কমিয়ে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। এর ফলে বিভিন্ন সড়কে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার, যথাযথ পুরুত্ব বজায় না রেখে পিচ ঢালাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কারে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ব্রিজ-কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণেও কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ হলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন এর ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাঁদের মতে, প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধেই কমিশন নেওয়ার অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, নিউজ পাবলিশ করে দেন।’ তবে তাঁর এই বক্তব্যকে অভিযোগের স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, নবাবগঞ্জে এলজিইডির অধীনে চলমান ও সম্প্রতি শেষ হওয়া প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলন, কাজের মান, বিল পরিশোধ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।