রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড এখনও নিরাপদ হয়নি

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো এখনও নিরাপদ নয়। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতে না পারায় এ অবস্থা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দাবি করছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখনও দুই সিটি করপোরেশন পুরনো পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রনের ওপর আস্থা রাখছে। সকালে লার্ভিসাইডিং ও সান্ধ্যকালীন ফগিংয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়েও ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। চলছে মশার ওষুধ ছিটানো, লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমছে না। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫১০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৫৮ জনের। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন।

তবে সংখ্যাগত এই পরিসংখ্যান ঢাকার বাস্তব চিত্র নয় বলে মনে করেন সংস্থা দুটির স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদের মতে, ঢাকার বাইরে থেকে রোগী এসে ঢাকায় চিকিৎসা গ্রহণকালে মৃত্যু হওয়াতে সংখ্যাটা ঢাকায় দেখায়।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আমরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি জনসম্পৃক্ততা এলাকা ও হাসপাতালগুলোতে অ্যাক্টিভ কেইস সার্ভিলেন্সে (পরিস্থিতিকেন্দ্রিক সক্রিয় অনুসন্ধান)। ডেঙ্গুর উৎসগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করার ওপর জোর দিয়েছি।

ঝুঁকিতে ডিএসসিসির ৫৭ ওয়ার্ড : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৭টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। এর মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ২৯টি আর মাঝারি ঝুঁকিতে ২৮টি। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বিষয়ে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

অন্যদিকে ডিএনসিসিও সকালে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও সান্ধ্যকালীন ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। তবুও উত্তর সিটির ১৫টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ওয়ার্ড অতি ঝুঁকিপূর্ণ আর মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে ১৪টি ওয়ার্ড।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার আমাদের সময়কে বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রথম কাজ। ঘরবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, পার্কিং এলাকা, ছাদের পানির ট্যাংক, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশা জন্মাতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না করলে সড়ক ও নালা পরিষ্কার করেও মশার বিস্তার ঠেকানো কঠিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ আমাদের সময়কে বলেন, এখন বৃষ্টি নেই। তাই ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আবার বৃষ্টি হলেই বিস্তার বাড়তে পারে। ডিসেম্বরে মোটামুটি ভালো উন্নতি ঘটতে পারে। এটি পুরোপুরি বৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে।

নগরবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি রাজউক, ভবনমালিক, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তবে নাগরিক সচেতনতার কথা বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই।