সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: বাতিল-স্থগিত ১৪৪ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী

ডেস্ক নিউজ : সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী।

বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৭টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২২ অক্টোবর রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইট ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর আগে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু করেছিল সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট ছেড়ে যায়। পরে আবার ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিমান জানিয়েছে, ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে। রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।




বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরব লক্ষ্য করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার যে দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে, তা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ১১৭.৪৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে শনিবার এক পর্যায়ে তা ১১৬.৭২ ডলারে নেমে আসে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এই দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৩.২৭ ডলার। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।

এক বছর আগের তুলনায় দাম বেড়েছে ৭৯.০২ শতাংশ। অন্যদিকে গত এক মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬৭.৯২ শতাংশ। তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত শুক্রবারের ভবিষ্যৎ চুক্তির দর অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরেই থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। এ বিষয়ে ‘খুব শিগগিরই’ কিছু একটা ঘটবে। ট্রাম্পের এ রহস্যজনক মন্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলে আবারও ইরানে হামলা জোরদার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিপরীতে ইরানের সেনাপ্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানান, তাঁদের সামরিক বাহিনী যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় শিগগিরই প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছতে পারে। এ ছাড়া সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। হুতিদের চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি আরামকো তাদের কর্মীদের প্রধান কার্যালয় ছেড়ে যেতে বলেছে। তারা কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্রে সরবরাহকারী একটি পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। এতে হামাদা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেল এবং তাহারা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমেছে।




মারা গেলেন তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়

ক্রীড়া ডেস্ক : জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল ফেনীর তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের। চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলা এই প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানলেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

হৃদয় ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের আবুল কাশেমের একমাত্র ছেলে। পরিবারের বড় সন্তান হৃদয়ের এক ছোট বোন রয়েছে।

অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া রক্ত ও অস্থিমজ্জার এক ধরনের ক্যানসার। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই হৃদয়ের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

গত ২ জুলাই বিসিবি কার্যালয়ে হৃদয়ের বাবা আবুল কাশেমের হাতে চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় বিসিবিও। দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফেনীর স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের আর্থিক সহায়তায় তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।

হৃদয়ের মৃত্যুতে ফেনীর ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের অকালমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিসিবির ফেনী জেলা কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম অপু বলেন, ‘মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যু জেলা ও দেশের ক্রিকেটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সে ছিল সম্ভাবনাময় একজন তরুণ ক্রিকেটার। তার স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের হয়ে খেলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তাকে চলে যেতে হলো। হৃদয়ের এই অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’




‘হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিলাম আমি’, গাড়িতে গুলির পর সংগীতশিল্পী আসিফ

বিনোদন ডেস্ক : রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় অক্ষত রয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আসিফ আকবর জানান, গুলির সময় তিনি নিজের কার্যালয়ে ছিলেন। তার ধারণা, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিলেন তিনি নিজেই। তারা তার যাতায়াতের সময় সম্পর্কে জানত। তবে কারা বা কেন হামলা চালিয়েছে, তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় ছেলের সঙ্গে কথা বলায় কার্যালয়ে কিছুটা বেশি সময় অবস্থান করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তার মতো দেখতে একজনকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। হামলাকারীরা ওই ব্যক্তিকে আসিফ ভেবে গুলি চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা তার।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে পুলিশ গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীদের শনাক্ত ও ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।




শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও ১৮ দেশের মুদ্রা

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো শনিবার গণনা করা হয়েছে। ৩৫ দিন পর দানবাক্স খুলে মিলেছে প্রায় সাড়ে ৮৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মিলেছে স্বর্ণ এবং ১৮টি দেশের মুদ্রা।

শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বাক্সে পাওয়া দানের হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এদিন সকাল ৯টা থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে বসানো ৩টি দানবাক্স ও ৩টি ডেগ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের সিলগালা খুলে সংগ্রহ করা হয় টাকা। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী মিলে দিনভর সেগুলো গণনা করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রাপ্ত দানের হিসাব ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রৌপ্য, ব্রিটিশ ১৪ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি ৭ হাজার ৬৪৭, থাইল্যান্ডের ২০ বাথ, সৌদি আরবের ৯৩ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ১১ রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ওমানের ১৩৫০.৫০ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৬৫ দেহরাম, মালদ্বীপের ১৫ রুফিয়া, কাতারের ১৭ রিয়াল, ৭.৩৩ ইউরো, বাহরাইনের ১ দিনার, হংকংয়ের ১০ ডলার, ব্রুনাইয়ের ১ ডলার, নেপালের ৫৫ রুপি, পাকিস্তানের ১০০ রুপি, রাশিয়ান ৫০ রুবল ও শ্রীলঙ্কান ৫০০ রুপি। এ ছাড়া দান হিসেবে ৭টি গরু ও ৩১০টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৩৪ দিন পর চতুর্থবারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় পাওয়া গিয়েছিল ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা, স্বর্ণ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।




আলেমদের জন্য রক্ত দিতেও দ্বিধা করব না: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের ধারক-বাহক ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতে হলেও পিছপা হব না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইমাম-আলেম, কওমি ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, যারা ইসলামের ধারক-বাহক; তাদের জন্য যদি গায়ের রক্ত দিতে হয়, তবে রক্ত দেব, দ্বিধা করব না ইনশাআল্লাহ।

অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কেউ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

একই সঙ্গে জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।




এনআইডি সংশোধনে সাড়ে ৬৪ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি, অপেক্ষায় সোয়া লাখ

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন। 

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। আবেদন নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি হলেও অযৌক্তিক আবেদন বাছাই, জালিয়াতি প্রতিরোধ ও অপেক্ষমাণ আবেদন কমানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। এ জন্য নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর মধ্যে সংশোধনযোগ্য নয় এমন আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতাও রয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ রয়েছে ৯৮৩টি আবেদন। সব মিলিয়ে এ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

আবেদন নিষ্পত্তিতে গতি আনতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।

তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদন সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয় এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আখতার আহমেদ আরও বলেন, সংশোধনের জন্য জমা পড়া কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এখন আর সংশোধনের প্রয়োজন নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। যাচাই করে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রমে নজরদারি বাড়িয়েছে কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

নির্দেশনায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

অপেক্ষমাণ ও বাতিল আবেদনের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার সংশোধনের পর কোনো ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল বলে দেখা যায়। এসব অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে। অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তিতে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসি। সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতি ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রতারক চক্রের প্রলোভনে না পড়তে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় শুধু নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ।




টেলিভিশন সাংবাদিকতায় জান্নাতুল কলির এক দশক

বিনোদন ডেস্কঃ করপোরেট জগতে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে কর্মজীবনের প্রস্তুতি শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতাকেই নিজের পরিচয় গড়ার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন জান্নাতুল কলি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, নিরলস পরিশ্রম আর পেশার প্রতি ভালোবাসায় পেরিয়েছেন এক দশকের পথ। বর্তমানে নিউজ টোয়েন্টিফোরের অনুষ্ঠান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপস্থাপনা করছেন দুটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। সংবাদ উপস্থাপনা থেকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা—বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর পেশাগত জীবন।

এমন একটি জগতে নিজেকে খুঁজে পান, যেখানে প্রতিদিন নতুন মানুষের গল্প, সমাজের পরিবর্তন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং সময়ের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। খুব অল্প বয়সেই কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম হয়ে ওঠে তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র। এক দশকের এই পথচলায় নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিনিয়ত শেখা, দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।

তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংবাদ উপস্থাপনা। তবে তাঁর কাছে উপস্থাপনা কেবল সংবাদ পড়ে শোনানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন উপস্থাপকের দায়িত্ব শুধু দর্শকের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং খবরের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো বুঝতে সহায়তা করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সংবাদ তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং চারপাশের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন করে।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই পেশার প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও গভীর করেছে। সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নানা বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগকেও পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন তিনি।

নিজের পরিচয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে জান্নাতুল কলি নিজেকে একজন পরিশ্রমী ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেই দেখতে চান। তাঁর কাছে সাফল্য কোনো নির্দিষ্ট পদবি বা পরিচয়ে পৌঁছানোর নাম নয়; বরং নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকা, দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সাফল্যের অংশ। পেশাগত জীবনের উত্থান-পতনকেও তিনি শেখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখেন।

দশ বছর আগে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা এখনো চলমান। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহীদের উদ্দেশে জান্নাতুল কলির পরামর্শ, সাংবাদিকতাকে শুধু চাকরি বা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে এই পেশার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

তাঁর মতে, সাংবাদিকতার প্রভাব সময় ও আর্থিক প্রাপ্তির হিসাবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মানুষের কথা বলা, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা, জনস্বার্থের প্রশ্ন সামনে আনা এবং দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সুযোগের মধ্যেই এ পেশার গভীরতা নিহিত।




ময়মনসিংহ মেডিকেলে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তদন্তের নির্দেশ

ডেক নিউজঃ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকা এবং চিকিৎসক-নার্সদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ে ক্যানুলা, সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব অব্যবস্থাপনা দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও ওয়াশরুমের অবস্থাও তদারকি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার হঠাৎ পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এর আগে হাসপাতালের ব্যবহৃত ক্যানুলা, সিরিঞ্জ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ময়লার ভাগাড়ে পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনের হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হয়েছে কেন, তা জানতে চান মন্ত্রী। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ওই রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা দেন।

এ ছাড়া হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ জানতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জবাবে ছুটির কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়।

এর আগে সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা আনা এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তর করে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলল আফগানিস্তান

খেলাধুলা ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি পেল আফগানিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়ের পর আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে দলটি। আট নম্বর থেকে সাত নম্বরে উঠে এসেছে আফগানরা। অন্যদিকে টানা দুই হারে দুই ধাপ পিছিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে ইংল্যান্ড।

শারজাহতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে গতকাল জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানে অলআউট করে আফগানিস্তান। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিন উইকেট নেন অধিনায়ক রশিদ খান। এ ছাড়া ফজলহক ফারুকী, মোহাম্মদ নবি ও বিলাল সামি দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৫তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইব্রাহিম জাদরান। ৯৬ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।

উদ্বোধনী জুটিতে রহমানুল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে ৬৮ রান যোগ করেন ইব্রাহিম। গুরবাজের ৩৬ রানে সাজানো ইনিংসের পর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক রহমত শাহর সঙ্গে আরও ৮২ রানের জুটি গড়েন তিনি। রহমত করেন ৪৩ রান। ম্যাচজয়ী ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে ইব্রাহিমের হাতে।

অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন রশিদ খান। ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার জেতেন আফগান এই তারকা।

সিরিজ জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়েও। দুই পয়েন্ট অর্জন করে সাত নম্বরে উঠে এসেছে আফগানিস্তান। বিপরীতে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে ছয় নম্বর থেকে আট নম্বরে নেমে গেছে ইংলিশরা।

ইংল্যান্ডের এই পতনে লাভ হয়েছে শ্রীলঙ্কার। র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে লঙ্কানরা। ফাইনালে ওঠার সুবাদে দুই পয়েন্ট পেলেও ১১ নম্বরেই রয়েছে জিম্বাবুয়ে।

এদিকে পুরো সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে না পারায় দুই পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে পয়েন্ট কমলেও র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম অবস্থান ধরে রেখেছে টাইগাররা।