আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এতদিন ইরানের হুমকির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। হরমুজ প্রণালি ঘিরেও তৈরি হয়েছিল নতুন উত্তেজনা। কিন্তু এবার ইরানের এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এমন মন্তব্য করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পুরো হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য—পরিস্থিতি যদি আরও এক ধাপ এগোয়, তবে ইরান এমন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারে, যা নিয়ে বহু বছর ধরে পশ্চিমা বিশ্ব সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। অর্থাৎ, তেহরানের সমরাস্ত্র হুমকির কেন্দ্রে এবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে পারমাণবিক অস্ত্র।
এই বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা বিশ্ব। প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কি সত্যিই তার দীর্ঘদিনের পরমাণুনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? তবে বিশ্লেষণ বলছে, এটি এখনো ইরান সরকারের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। তা সত্ত্বেও বক্তব্যটির রাজনৈতিক গুরুত্ব কম নয়। মুসাভিফার্দ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি দেশটির অভ্যন্তরীণ এখতিয়ার। অর্থাৎ, তেহরানকে পরমাণু শক্তি নিয়ে ক্রমাগত চাপে ফেললে ইরান আরও কঠোর সামরিক অবস্থানে যেতে পারে—সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে সতর্ক করে দেন। মুসাভিফার্দ বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে, যা থেকে উত্তরণ তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তেহরান সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক চাপে রূপ দিতে চায়, যেখানে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক পথগুলো মার্কিন স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবারও এক পৃথক বক্তব্যে আরও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরানের নীতিগত শর্তগুলো পূরণ করা না হলে চলমান পরিস্থিতি ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পর্যায়ে’ মোড় নিতে পারে।
অর্থাৎ, ইরানের তরফ থেকে এখন দুটি স্পষ্ট কৌশল দৃশ্যমান—একদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ রক্ষা, অন্যদিকে চাপ বাড়লে সর্বাত্মক সামরিক প্রতিরোধ। আর এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রের সরাসরি ব্যবহার সম্পর্কিত নতুন সতর্কবার্তাটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।









