বিশেষ প্রতিবেদকঃ তিতাস আর হোমনায় হঠাৎ করেই এক নাম নিয়ে পুরো এলাকা সরগরম—রাজউকের ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম টিপু। সরকারি চাকরির একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি শ্বশুরবাড়ির গ্রাম দাশকান্দিতে যে বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তা দেখে স্থানীয়দের মনে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সবাই এক ভাষায় জানতে চাইছে—“টিপুর এত টাকা আসে কোথা থেকে?”
হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) সিরাজুল ইসলাম মোল্লার ছেলে টিপুর শ্বশুরবাড়ি তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাশকান্দি গ্রামে। শ্বশুর আব্দুল মান্নানের পরিবারে ঘরজামাই হয়েও তিনি কয়েক বছরের মধ্যেই এমন অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে ফেলেছেন যে, এলাকায় এখন তা প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে। কেউ আর আড়াল করে বলছে না—টিপুর সম্পদ বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো অস্বাভাবিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় বড় নেতাদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজউক থেকেই নাকি শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন। সেই টাকার জোরেই শ্বশুরবাড়ির এলাকায় জমি ক্রয় থেকে শুরু করে দখল—সবকিছুই করেছেন দাপটের সঙ্গে। অভিযোগ আছে, তার স্ত্রী লাকি আক্তারের নামে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমি কিনেছেন। আবার শ্বশুর আব্দুল মান্নানের কাছ থেকেও নাকি কয়েক বিঘা জমি দখলে নিয়েছেন। এসব জমি বালু ভরাট করে এখন তিনি একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করছেন, যার খরচ সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।
নির্মাণ শ্রমিকদের ভাষায়, শুধু মিস্ত্রিদের বিলই প্রায় আটাশ লাখ টাকার মতো দাঁড়িয়েছে। দুইতলা ভবনের নিচে যে অঢেল টাকা ঢালা হচ্ছে, তার হিসাব করা তো দূরের কথা—তা শুনলেও সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরে যায়। এলাকাবাসীর অনেকে বলছে, “রাজউকের এক ইঞ্জিনিয়ার কি এমন বাড়ি তুলতে পারে?” আবার অনেকে মনে করে, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিপুর রাজত্ব ছিল। মান্নানের মেয়ের জামাই টিপু এখন গ্রামের গডফাদার।”
টিপুর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে—তিনি সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে রাজউকে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। এমনকি নিজের ছোট ভাই সাইদুর আলম অপুকে নৌকার প্রার্থী বানিয়ে ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক মাঠেও নামিয়েছিলেন তিনি। সেলিমা আহমাদ মেরির রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ানোই ছিল তার উদ্দেশ্য—এমনটাই বলছে স্থানীয়রা।
এই সব অভিযোগ নিয়ে বদিউল আলম টিপুর বক্তব্য জানতে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা যায়নি।
চায়ের দোকান, বাজার, রাস্তা—এলাকার যেখানেই যান না কেন, এখন একটাই আলোচনা—রাজউকের সরকারি চাকরি করে বদিউল আলম টিপু কীভাবে এমন সম্পদের মালিক হলেন? সন্দেহ, ক্ষোভ আর আতঙ্ক মিলিয়ে বিস্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার এই রহস্যময় সম্পদ বিস্তার।









