• সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ন |
  • Bangla Version
নিউজ হেডলাইন :
করোনা শনাক্তের হার ১৫ শতাংশের বেশি, মৃত্যু ১ Aviator Betting Video Game: Exactly How To Play, Win And Register ছেলেকে নিয়ে খবর, মেসি বললেন—এটা মিথ্যা এমবাপ্পেকে পিএসজির কট্টর সমর্থকদের ‘হুমকি’ আইপিএল মানে বলিউড নয়, কেকেআর খেলোয়াড়দের গম্ভীর অষ্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করছেন রুপা, বাবা পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে মঞ্চে গাইলেন এ এমন পরিচয়… ক্ষোভ–অভিমান থেকে বিদায় নিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন, বললেন অনেক কথা নতুন বিজ্ঞাপনচিত্রে মুশফিক ফারহান এবারের ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জিতলেন কে প্রিন্সেস টিনা খানের মেয়ের ‘ভুলে ভরা’ জীবন ‘অবিকল ঐশ্বরিয়া’ শিল্পী সমিতির বনভোজনে হাতাহাতির ঘটনায় মামলা বৈশাখীর ‘সকালের গানে’ গাইবেন সুস্মিতা সাহা বিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন, জবাবে যা বললেন জয়া আহসান চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন অঙ্কিতা! নেপথ্যে কোন ঘটনা? আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি : রিজভী

আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস আজ

ডেস্ক রিপোটঃ আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস আজ। প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পরিচিত প্রাণীটিকে বাঁচাতে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের প্রথম শনিবার দিবসটি পালন করা হয়।

প্রাণীকুলে শকুনের যে আধিপত্য, সেটি বেশ আগেই ভেঙে তছনছ হয়েছে। এখন এটি শুধু বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণী নয়, একেবারে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথেই বলা যায়। মাত্র তিন দশক আগেও কমপক্ষে ১০ লাখ শকুনের বিচরণক্ষেত্র ছিল দেশের আকাশ। সেটি এখন নেমে এসেছে ২৬০-এ।

আমাদের দেশে গত শতকের সত্তর এর দশক থেকে এ পর্যন্ত শকুনের সংখ্যা হ্রাসের পরিমাণ ৯৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে বন অধিদপ্তর। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) এর ক্রিটিক্যালি এন্ডেনজার্ড এর তালিকায় রয়েছে শকুনের সব কয়টি প্রজাতি। আর এ জন্যই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগ। আর এর মধ্যে অন্যতম অ্যানথ্রাক্স। এছাড়াও রয়েছে গবাদিপশুর যক্ষা, খুরা রোগ।

বাংলাদেশে মোট ছয় প্রজাতির শকুন দেখা পাওয়া যেত। শকুন, রাজ শকুন, সাদা গিদরী বা গিন্নী শকুন, লম্বা ঠোঁট শকুন আমাদের দেশীয় প্রজাতি। আর ভ্রমণকারী হিসেবে কালো শকুন আর গ্রিফন শকুন ছিল। রাজ শকুন শেষবারের মতো দেখা গেছে ৮০’র দশকে। এখনও হয়ত কোথাও টিকে রয়েছে। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে।
লম্বা ঠোঁট শকুন ১৯৯২ সালে ভৈরবে পক্ষিবিদ পল থমসন শেষবারের মতো দেখেন। গিন্নী শকুনের শেষ দেখাও ১৯৮৪ সালে পল থমসনের চোখে। কালো শকুন ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে ধরা পড়ে চাঁদপুরে। গ্রিফন শকুন ১৮ নভেম্বর ১৯৯২ সালে শেষবারের মতো দেখা যায় ভৈরবে। বাংলা শকুন টিকে রয়েছে কোনো রকমে। অথচ সত্তর দশকে রাজ শকুন আর বাংলা শকুনে ছেয়ে ছিল ঢাকা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্রগুলোতে দেখা যায় দল বেধে মৃতদেহের উপর বসে আছে তারা। সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির বুদ্ধ নারিকেল গাছের সারিতে আর পলাশী ব্যারাকের কাছের উঁচু গাছগুলোতে দেখা যেত বাংলা শকুনের। এখন বাংলা শকুন ছাড়া আর কোন শকুন কারো চোখে পড়ে না। এর বৈজ্ঞানিক নাম জেপস বেঙ্গালেনসিস।

এদেশে বেশি দেখা যেত বলেই তাদের নামের শেষে বাংলা শব্দটি চলে এসেছে। এখন পুরো পৃথিবীতেই এর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সংখ্যায় ১০ হাজারের বেশি হবে না। বাংলাদেশে বাংলা শকুন এখন বিরল প্রজাতি। সব মিলে এদেশেও এদের সংখ্যা ৫০০ এর বেশি হবে না। তাও আবার বেশিরভাগই দেখা যায় সুন্দরবন এলাকায়। এছাড়া বেশ বড় কয়েকটি দল এখন রয়েছে শ্রীমঙ্গলের কালাছড়া ও হবিগঞ্জের রেমা কালেঙ্গা এলাকায়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এদেশও শকুন শূন্য হয়ে পড়বে। পুরো বাংলাদেশ জুড়ে মোট শকুনের সংখ্যা দুই হাজার নয় বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের।

দেশি বা বাংলা শকুন নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম জিপস বেঙ্গালেনসিস। লম্বায় ৯০ সেমি ও ওজনে ৪ দশমিক ৩ কেজি। পালক ময়লা কালচে বাদামি। গলা লম্বা। লোমহীন মাথা ও গলা গাঢ় ধূসর। ঘাড় ও পিঠের সংযোগস্থলের ময়লা সাদা পালকগুলো দেখতে মাফলারের মতো। পশ্চাদ্দেশের পালক সাদা। ডানা, পিঠ ও লেজ কালচে বাদামি। পা কালো। স্ত্রী-পুরুষ একই রকম। বাচ্চার গাঢ় বাদামি, দেহ ও ডানার ওপরের অংশে চিকন সাদা দাগ থাকে। শকুনের দৃষ্টি অসাধারণ তীক্ষ, কিন্তু ঘ্রাণশক্তি নেই। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ প্রজননকাল। বাসার আকার বেশ বড়। একই বাসা ঠিকঠাক করে বছরের পর বছর ব্যবহার করে। স্ত্রী শকুন সাদা রঙের একটি মাত্র ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ৪০-৪৫ দিনে। বর্তমানে এরা মহাবিপন্ন পাখি। ফলে দিন দিন তাদের খাবার একেবারেই কমে এসেছে এবং এরই ফলে হারিয়ে গেছে প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ বাংলা শকুন।

শকুন বিলুপ্তির কারণ:

এক. শকুনের বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার। এ দুইটি ওষুধের প্রভাব মৃত গবাদিপশুর দেহেও থাকে। ওই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে এমন কোনো মৃতদেহ শকুনের খাদ্য তালিকায় চলে এলে শকুনের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কেননা এর পার্শপ্রতিক্রিয়ায় শকুনের কিডনিতে পানি জমে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু ঘটে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন মাত্র ০.২২ মিলিগ্রাম ডাইক্লোফেনাক যথেষ্ট একটি শকুনের মৃত্যুর জন্য। ডাইক্লোফেনাক ৮০’র দশকের শেষদিকে বেশ সস্তায় ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যায় বলে এই ওষুধের ব্যবহার বেড়ে যায়। গবাদিপশুর যে কোনো রোগেই এ ওষুধ ব্যবহার করতে থাকে সাধারণ মানুষ। অথচ পরে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় দেখা যায় মাত্র গবাদিপশুর চিকিৎসায় মাত্র ০.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ডাইক্লোফেনাকের মতো কড়া ওষুধ প্রয়োজন।

দুই. এটাকে মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পাশাপাশি আরো কিছু ব্যাপারকে উল্লেখ করেছে আইইউসিএন-এর সহযোগী সংগঠন বার্ডসলিস্ট অর্গানাইজেশন। তারা কীটনাশক ও সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির দূষণ, খাদ্য সঙ্কট, কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে শকুনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, বিমান-ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ, ঘুড়ির সূতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, ইউরিক এসিডের প্রভাবে বিভিন্ন রোগ, বাসস্থানের অভাব প্রভৃতি। শকুনের বাসা বাঁধার স্থানের অভাবের জন্য তাদের বংশবৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। পাখি বিজ্ঞানীদের মতে এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী পাঁচ বছরেই হারিয়ে যাবে শকুন।

তিন. কীটনাশক-সারের ব্যবহার, ডাইক্লোফেনাকের পাশাপাশি আরো বড় একটি কারণ হল বাসস্থানের অভাব। শিমুল, ছাতিম, দেবদারুর মতো বড় গাছগুলো এখন আর চোখে পড়ে না সেভাবে। এ গাছগুলো নির্বিচারে ব্যবহার হয়েছে চায়ের পেটি, প্যাকিং বাক্স আর দেয়াশলাইয়ের কারখানায়। ইটের ভাটা, তামাক শুকানো আর পিচ গলিয়ে রাস্তা বানানোর জন্য গায়েব হয়ে গিয়েছে রাস্তার পাশের বট, শেওড়া আর গাবের গাছ। সংরক্ষিত বনের ভেতরেও চলে নির্বিচারে বড় গাছগুলোর নিধন। শকুনগুলো বাসা বাঁধবে কোথায়?

কেন সংরক্ষণ প্রয়োজন:
শকুন শবালী পশুপাখির মধ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম সদস্য। প্রকৃতির ঝাড়–দার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। শকুন মরা গবাদিপশু খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি রোগ জীবাণুর বি¯তৃতি রোধেও সহায়তা করে। প্রশ্ন উঠতে পারে কুকুর, শেয়াল বা বেড়াল গোত্রের প্রাণীরাও মড়াখেকো। তবে কেন শকুন সংরক্ষণ প্রয়োজন। অ্যানথ্রাক্স ব্যকটেরিয়া, খুরা রোগ, গবাদি পশুর যক্ষা, হগ কলেরার জীবাণু খুব সহজেই হজম করতে পারে শকুন। যেটা কুকুর, শেয়াল বা বেড়াল গোত্রের প্রাণীরা হজম করতে পারে না, বরং ছড়িয়ে বেড়ায়।শকুনের এই ক্রমহ্রাসমান অবস্থার জন্য বিভিন্ন রোগ জীবানু সহজেই ছড়িয়ে পড়বে। এখনকার মানবদেহে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের ঘটনা তার প্রমাণ দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.