• শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৭:২৯ অপরাহ্ন |
  • Bangla Version
নিউজ হেডলাইন :
করোনা শনাক্তের হার ১৫ শতাংশের বেশি, মৃত্যু ১ Avodate Evaluation: Is It Easy To Date Online? Unveiling The Enigmatic Beauty Of Dominican Brides PinCo Çevrimiçi Casino’yu Keşfedin: Oyun ve Ödüller “20bet App Felülvizsgálata ᐈ Link A Letöltéshez Magyarországo ঈদে রুনা লায়লার নতুন গান ধারাবাহিক থেকে সিনেমা ‘সাত ভাই চম্পা’ ৭৪–এ বরিশালের মিঠুন, রইল তাঁর জানা–অজানা কিছু তথ্য ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা পাইরেসি: অভিযুক্তদের হতে পারে চার বছরের কারাদণ্ড অতীত ভোলেননি বিজয় মুক্তির জন্য প্রস্তুত পাঁচ সিনেমা, আলোচনায় ‘তুফান’ আজ মুক্তি পাচ্ছে ‘বাজি’ আগে টি-টোয়েন্টি শাসন করলেও এখন পাকিস্তান পেছনে পড়ে গেছে: ইমাদ মালয়েশিয়ান ওপেনে এবার রুপা জিতলেন মাহফুজুর সাকিবদের সুপার এইটে ওঠার ম্যাচ বিশ্বকাপে প্রথম রিটায়ার্ড আউট, ফিরে এল বাংলাদেশের সেই স্মৃতিও

শিল্প-কারখানার অগ্নিকান্ডের নেপথ্যে: ১০ বছরে নিহত ১১৭৬ শ্রমিক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, দায় কার?

বিশেষ প্রতিবেদক॥ দেশ দ্রুত শিল্পায়ন হচ্ছে। নিরাপদ শিল্পায়নের সাথে সাথে শ্রমিকদের নিরাপত্তায় নেয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব কর্মস্থল কিন্তু তারপরও থেমে থাকছেনা অগ্নিকান্ডের মত মারত্মক দূর্ঘটনা। আগুনের লেলিহানে প্রতিবছর পুড়ছে হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ নানা শিল্প-কল-কারখানা, বসতবাড়ি, কেমিক্যাল গুদাম, গার্মেন্টস, ওয়ার হাউজ, কোল্ড স্টোরেজ, বড় বড় শপিং-কমপ্লেক্সে, সাধারণ মার্কেটে, ফ্ল্যাট-বাড়ি এমনকি গরিবের একমাত্র আশ্রয়স্থল বস্তিতেও। শুধু বিগত ১০ বছরেই দেশের বিভিন্ন শিল্প-কল-কারখানায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজারের মত আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দূর্ঘটনায় পুড়ে মারা গেছে প্রায় ১২ শতাধীক শ্রমিক। অথচ যে কোন ছোট-বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়। কমিটি প্রতিবেদনও দেয়। কিন্তু শিল্প-উদ্যোক্তাদের ক্ষমতার পরিধি এতো ব্যাপক যে দোষীদের বিরুদ্ধে কখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভাবপর হয়ে ওঠে না। ফলে বার বার মারাত্মক অগ্নিকান্ডের বলি হচ্ছে নিরীহ শ্রমিকরা।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে কারখানায় আগুনের ঘটনায় নিহত ২১০ জন ও আহত হন ৮০৩ জন, ২০১৩ সালে নিহত হন ১৬১ জন ও আহত হন ১৪৭১ জন, ২০১৪ সালে নিহত ৭০ জন ও আহত হন ২৫০ জন। একইভাবে ২০১৫ সালে আগুনের ঘটনা ছিল এক হাজার ১৩টি। এত নিহত হন ৬৮ জন। ২০১৬ সালে এক হাজার ১৬৫টি আগুনের ঘটনায় মারা গেছেন ৫২ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ১৯টি শিল্প কারখানার আগুনে মারা যান ৪৫ জন। ২০১৮ সালে ১১৩১টি দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা যান ১৩০ জন। ২০১৯ সালে ৯৯৭টি আগুনের ঘটনায় মারা যান ১৩৪ জন। ২০২০ সালে ৭৫৬টি আগুনে ১৫৩ জন মারা যান। তথ্য বলছে, ২০২১ সালেই আগুনের ঘটনায় ১৪২ জন মারা যান। যার বেশিরভাগই শ্রমিক। এর মধ্যে ৫৭ জন পুরুষ ও ৮৫ জন নারী। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ সারাজবিনের মত পঙ্গু হয়ে গিয়েছে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, চলতি বছর ২০২২ এর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কারখানায় আগুন লেগে মারা গেছেন ১১৭৫ জন মানুষ। তবে এসব আগুনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কোনো আহত বা নিহত হবার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

অসচেতনতা, অসতর্কতা বা অসাবধানতাই অগ্নিকান্ডের মূল কারণ। কিন্তু এর বাইরেও যে সমস্ত কারণগুলি তদন্তকারীগণ বিবেচনা করে থাকেন, তাহলো- ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ও ওয়্যারিং, বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট, সেলাই মেশিনের মটরের ঘর্ষণ, বৈদ্যুতিক জেনারেটর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হলে, বয়লার লিকেজ, জ্বলন্ত বিড়ি/সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, জলন্ত আগুনের শিখা থেকে, ওয়েল্ডিং করা, বৈদ্যুতিক আয়রণ ও থিনারের অসতর্ক ব্যবহার, সাবোটাজ বা উদ্দেশ্যমূলক আগুন বা কারখানার ভিতর অসতর্কভাবে কেমিক্যাল সংরক্ষণ হয়েছে কি-না ইত্যাদি। কিন্তু আগুন লাগার জন্য এর চেয়ে বড় একটি কারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায়, যা কখনো খতিয়ে দেখা হয় না। বা এসব বিষয়ে মিডিয়ায় সচারাচার কোন প্রশ্ন ওঠায় না। আর তাহলো আগুন লাগা ঐ প্রতিষ্ঠানে ব্যাবহৃত এইচভিএসি (হিটিং, ভেন্টিলেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং)’টি নকল না আসল? মূলত: আগুন লাগার অন্যতম একটি প্রধান কারণই এই নিম্নমানের এসি’র প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্যে নিহিত।

বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব কর্মস্থল নিশ্চিতে শিল্প ইন্ডাস্ট্রিজগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা চালুর জন্য বৈদেশিক বায়াররা চাপ দিয়ে চলেছে। যারা এই শর্ত মানবে না, তারা অর্ডার পাবে না। এসব শর্ত মানতে গিয়ে অনেক ছোট বড় কোম্পানী তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা করতে গিয়ে শ্রমিকদের জীবনকে দূর্ঘটনার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

একটি গোপনসূত্রে জানা যায় যে, অধিকাংশ দূর্ঘটনার মূলে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, নকল ও স্থানীয়ভাবে নির্মিত কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা স্থাপনের কারণে ঘটছে। বাংলাদেশের সাভার ও কেরাণীগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, সেন্ট্রাল এসির এইচভিএসি’র চিলার কুলার তৈরী করে আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানী, যেমন- কেরিয়ার, ব্রায়ান্ট, গুডম্যান, লেনক্স, ট্র্যান, রিহিম, ইয়োর্ক, আমানা, কোলম্যান ইত্যাদি ব্রান্ডের নকল নেমপ্লেট/স্টিকার মেরে দেশের বিভিন্ন নামি-দামি শিল্প-কারখানায় বিক্রি করছে। ফলে ক্যাপাসিটি বিভ্রাটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ হয়ে দূর্ঘটনাগুলি ঘটছে। মালিকপক্ষ হয়তো কিছু লাভের আসায় কমদামে এসব নিম্নমানের যন্ত্রাংশ/মেশিন কিনছে কিন্তু আদতে তারা হয়তো জানেই না যে, এসির নামে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে এক একটি এটমবোমা স্থাপন করছে।

এসব নকল যন্ত্রাংশ তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এইচভিএসি (হিটিং, ভেন্টিলেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং)’র প্রযুক্তিগত সমস্যা বৈদ্যুতিক ক্যাপাসিটির সাথে জ্যামিতিক ও সাংকেতিক মাপ-জোপ ও লোড ক্যালকুলেশন করে তবেই তৈরী করা হয়। অন্যথায় বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ ও প্রেসার লেভেল উঁচু স্তওে পৌছে কম্প্রেসার মারাত্মক গরম হয়ে বিস্ফোরীত হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে। জাহাজ-ভাঙ্গা পূরাতন লোহা লক্কড় ও যন্ত্রাংশ দিয়ে দিয়ে তৈরী এসব নকল সেন্ট্রাল এসি ইতিমধ্যে আসল হিসেবে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যা প্রতিনিয়তই অনাকংখিত দূর্ঘটনার আশংকা সৃষ্টি করে চলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.