ক্রীড়া ডেস্ক : দীর্ঘ ২১ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এবং দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ এই মহারণকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই ফুটবল বিশ্বে ফিরে এসেছে গত কয়েক দশকের মাঠের নানা নাটকীয় ঘটনা, বৈরিতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ।
তবে মাঠের বাইরের সেই রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক আবহকে দূরে ঠেলে সেমিফাইনালের মহারণের আগে কেবল ফুটবল নিয়েই কথা বলতে চান আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াই ২-২ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ঠিক ৪ বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।
এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসছে ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। তিনি বলেন, এটা স্রেফ একটা ফুটবল ম্যাচ। এটা নিয়ে মাঠের বাইরে আর কোনো কথা বা তর্কের অবকাশ নেই। আসুন আমরা ফুটবলের বাইরে অন্য কিছু না খুঁজি। দারুণ একটি জাতীয় দলের বিপক্ষে আমরা একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি, যাদের একজন চমৎকার কোচ আছেন, যার প্রতি আমার গভীর পছন্দ ও শ্রদ্ধা রয়েছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে এখানে সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। সেই সময় থেকে আজও দুই দেশের মধ্যে ওই প্রসঙ্গ খুব সংবেদনশীল। ফকল্যান্ডের উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে যুক্তরাজ্য এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখে। অন্য দিকে কূটনৈতিক মাধ্যম ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে আর্জেন্টিনা।
টুর্নামেন্ট চলার সময়েও এই প্রসঙ্গ এসেছে। আর্জেন্টিনার জয়ের পর দর্শকরা গানে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ, মারাদোনা ও আরেকটি বিশ্বকাপ দিয়ে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার কথা বলেছেন।
ম্যাচের পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে মানুয়েল লোপেস। তবে তিনিও কেবল মাঠের ফুটবলেই মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, অবশ্যই, মাঠের বাইরে এটি এমন এক ম্যাচ- যার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, অনেক বেদনা এবং আরও অনেক কিছু। তবে আমরা পেশাদার। অন্য ম্যাচগুলো যেভাবে খেলি, এই ম্যাচও সেভাবেই খেলব। আজ যেমন দেখিয়েছি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে নিজেদের সবটুকু দেব।
তিনি আরও বলেন, এটা বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল, আমি মনে করি, আমার সব সতীর্থই বলে প্রথম লাথি মারার মুহূর্ত থেকে এই ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছে। এর বাইরে অন্য কোনো অনুপ্রেরণা আমাদের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে ইংল্যান্ড। এবার মাঠের লড়াইতে স্কালোনির শিষ্যরা থ্রি-লায়ন্সদের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে যেতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।









