মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম চলছে। তাই তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গত কয়েকদিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করায় জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে সেবা গ্রহীতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দশম গ্রেড প্রদানের দাবিটি দীর্ঘদিনের পুরানো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল কর্মকাণ্ড ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে অবহিত করেছে।

এই দাবি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোভাবও ইতিবাচক এবং তারাও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, কাজেই তা সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।

এরপরও তারা দাবি আদায়ের নামে রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। যা স্বাস্থ্যসেবার মত মহান পেশায় নিয়োজিত সেবাপ্রদানকারীদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায়, সরকারের সকল পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব, উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড চলমান অবস্থায় কর্মবিরতির নামে রোগীদের সেবাবঞ্চিত করার পথ পরিত্যাগ করে অবিলম্বে কাজে যোগদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যথায়, এ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় সেবা বন্ধের মত জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।




ঢাকা-১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়ন পাওয়ায় অভিনন্দন জানালেন আজমুল হুদা মিঠু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মনোনয়ন পাওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরা পশ্চিম বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজমুল হুদা মিঠু। মনোনয়ন ঘোষণার পর তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন,
“একজন ত্যাগী নেতাকে দল সঠিক সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করেছে। এস এম জাহাঙ্গীর মানে—ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতীক।”

তিনি আরও বলেন,
“এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ত্যাগী, দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারী। দল তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করায় আমরা আনন্দিত। ইনশাল্লাহ, আগামী নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবেন।”

নেতাকর্মীদের মধ্যেও মনোনয়ন ঘোষণা ঘিরে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সবাই আশা করছেন, এস এম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী মাঠ আরও শক্তিশালী হবে।




ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মনোনয়ন পেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সকল জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দলের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার মূল্যায়ন হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ মনোনয়ন প্রদান করে।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মনোনয়ন পেলেন-

সকল জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দলের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার মূল্যায়ন হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ মনোনয়ন প্রদান করে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,
“আমার একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ পাক আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দিন। তার নেতৃত্বে যদি আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করেন, আমরা দেশমাতার নেতৃত্বে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

তার মনোনয়নকে ঘিরে ঢাকা-১৮ আসনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই জানান, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এই সিদ্ধান্তে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

নেতাকর্মীদের মতে,
“এই মনোনয়নের মাধ্যমে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সম্মান করা হয়েছে।”

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী মাঠ এখন আরও সরব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,
“আমার একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ পাক আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দিন। তার নেতৃত্বে যদি আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করেন, আমরা দেশমাতার নেতৃত্বে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে চাই।”

তার মনোনয়নকে ঘিরে ঢাকা-১৮ আসনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই জানান, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এই সিদ্ধান্তে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

নেতাকর্মীদের মতে,
“এই মনোনয়নের মাধ্যমে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সম্মান করা হয়েছে।”

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী মাঠ এখন আরও সরব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।




গজারিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আখি সরকার: ক্ষমতা, প্রভাব আর বিতর্কের এক লুকানো অধ্যায়

এসএম বদরুল আলমঃ গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজা আক্তার আখি সরকার আবারও আলোচনায়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আওয়ামী লীগকে পুনরায় সুসংগঠিত করার চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় তাঁর কর্মস্থল যমুনা ব্যাংকের অফিস থেকেই তিনি নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করছেন, যেখানে প্রতিনিয়ত গজারিয়ার বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়।

আখি সরকারের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। দলীয় প্রতীকে তিনি গজারিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ক্ষমতার শীর্ষে থাকা সময়ে তিনি নিজের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সময় উপজেলা পরিষদ নিতান্তই তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, টি.আর., কাবিখা, বিভিন্ন টেন্ডার—সবকিছুই তাঁর নির্দেশেই পরিচালিত হতো। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক সময় সাধারণ অবস্থায় থাকা আখি সরকার ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

গজারিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার ভবেরচর বাজারটিও ছিল তাঁর পরিবারের চাঁদাবাজির দখলে। তাঁর ভাই-বোন এবং বাবা আয়নাল মিলেই নাকি ওই বাজারকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন। শুধু বাজার নয়—সুপারবোর্ড, পলিক্যাবেলস, বসুন্ধরা গ্রুপসহ এলাকার বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও তাঁর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বালুমহল থেকেও নিয়মিত মাসোহারা নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ ব্যবহার করে তিনি যমুনা ব্যাংকে চাকরিও নিশ্চিত করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গজারিয়া উপজেলার অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু আখি সরকার সেই সময়েও বহাল তবিয়তে থাকেন। অভিযোগ আছে, তিনি উপরমহলের একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ম্যানেজ করে নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।

প্রায় বছরখানেক নীরব থাকার পর সম্প্রতি আবারও তাঁকে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় অনেক নেতা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টায় নেমেছেন আখি সরকার।

গজারিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ছায়ায় থাকা আখি সরকারের এই নতুন কর্মকাণ্ডের পেছনে আসল লক্ষ্য কী? তদন্ত না হলে এসব অভিযোগের সত্যতা হয়তো জানা যাবে না, তবে স্থানীয়দের উদ্বেগ দিনদিন বাড়ছে।




গণপূর্ত অধিদপ্তরে অস্থিরতা: প্রধান প্রকৌশলীর চারপাশে বাড়ছে চাপ, বদরুল আলমের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বস্তি ও অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী নাকি ধীরে ধীরে আটকা পড়ছেন সাভার গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের প্রভাবের মধ্যে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছ পেশাগত ভাবমূর্তি থাকায় খালেকুজ্জামানকে যারা বিভাগের জন্য আশার আলো ভেবেছিলেন, কয়েক মাসের মাথায় তারা এখন হতাশ।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বদরুল আলম খান সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অংশ ছিলেন। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকার নানা ঠিকাদারি কার্যক্রমে তিনি দাপটের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করতেন। তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর এলাকার লোক হওয়ায় নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর অবস্থান ছিল প্রভাবশালী। ভোলায় নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে—যা তাঁকে আরও বেপরোয়া করে তোলে বলে সহকর্মীদের অভিযোগ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে গেলে বদরুলও নাকি দ্রুত নিজের অবস্থান পাল্টান। সূত্র জানায়, তিনি নিজেকে নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সচিব মো. নজরুল ইসলামের নিকটমহলে প্রবেশ করেন। এই পরিচয়ের জোরেই আবারও গণপূর্ত অধিদপ্তরে তাঁর অদৃশ্য প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।

২৮ অক্টোবর মো. খালেকুজ্জামান প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পরদিন থেকেই বদরুলের প্রভাব নিয়ে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। হঠাৎ করে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পর বহু কর্মকর্তা বলেন—বদরুল নিয়োগ, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরাসরি চাপ দিচ্ছেন এবং নতুন প্রধান প্রকৌশলী এই চাপের কাছে নরম হয়ে পড়ছেন।

অনেকের মতে, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার কারণে খালেকুজ্জামান অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। আর সেই সুযোগেই বদরুল তাঁর চারপাশে প্রভাবের বলয় গড়ে ফেলেছেন।

বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার ঠিকাদারদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্কে ঢাকার কয়েকজন বিএনপি–জামাতপন্থী ঠিকাদারও যুক্ত আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পেতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা কুমিল্লার ইএম টেন্ডার। অভিযোগ রয়েছে—একজন ভুয়া সার্টিফিকেটধারী ঠিকাদারকে কাজ দিতে বদরুল MIS সেল ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হতে হয়।

মিরপুর ডিভিশনেও ‘আসিফ’ নামের এক ঠিকাদারকে বিভিন্ন থানার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভাষানটেক থানার নতুন ভবন—পুলিশের ১০৭ থানা প্রকল্পের অংশ—পছন্দের ঠিকাদারকে দিতে বদরুলের জোরাজুরির কথাও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এমনকি আরবরিকালচার বিভাগের কাজও নিয়ম ভেঙে মিরপুর ডিভিশনের মাধ্যমে টেন্ডার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বদরুল আলম খান ও তাঁর ভাইদের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। এক কর্মকর্তা বলেন, “বাইরের এসব ব্যবসা তদন্ত করলে পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।”

বদরুল আলম খান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য—এগুলো সবই অপপ্রচার, তাঁকে প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে দূরে সরাতেই এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনো সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন না, বেআইনি চাপ প্রয়োগও করেননি; যদি কেউ তা মনে করেন, তবে সেটি “ভুল ব্যাখ্যা”।

অন্যদিকে অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমানে নিয়োগ-বদলি এককেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, প্রশাসনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং কর্মকর্তারা চাপের মধ্যে কাজ করছেন। এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “প্রধান প্রকৌশলী ভালো মানুষ, কিন্তু তিনি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না। পুরো সিস্টেমটাই যেন এখন অঘোষিত এক শক্তির কাছে বন্দি।”

যারা নতুন নেতৃত্বে বিভাগটির পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলেন, তারা এখন বলছেন—সিন্ডিকেট, টেন্ডারবাজি আর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পুরো বিভাগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তে প্রমাণ হবে কি না সেটি ভবিষ্যৎই বলে দেবে, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।




রংপুরের শাহিনুল ইসলাম: গ্রামের কৃষকদের জন্য স্বপ্নের কৃষি উদ্যোগ

রংপুর প্রতিবেদকঃ ২০০৬ সালে মিঠাপুকুরের ময়েনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহিনুল ইসলাম (বকুল) শখের বশে দুটি হাঁস পালন শুরু করেছিলেন। কয়েক বছরের মধ্যে হাঁসের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর তিনি গরু, হাঁড়িভাঙা আম, শিল আলু ও মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় সাফল্যের নজির স্থাপন করেন।

শাহিনুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করার পরেও কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি দেশি মুরগি, কোয়েল পাখির ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করতে ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এক যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামের কৃষকরা কৃষি তথ্য, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছেন।

সংগঠনটি কৃষি সম্প্রসারণ, বিপণন, হর্টিকালচার ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কৃষকেরা এখানে বিষমুক্ত ফল, সবজি উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শিখছেন। সংগঠনটি ২০২০ সালে করোনাকালে কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিপণনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) থেকে ফুড হিরো পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া, সংগঠনটির উদ্যোগে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যা কৃষকের ফসল ঘরে তোলার সুবিধা দিয়েছে।

শাহিনুল জানান, কীটনাশক ছাড়া আলোর ফাঁদে পোকা দমন, পাচিং পদ্ধতি ও ফুড ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০১৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পান। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা একটি কৃষি হাসপাতাল তৈরি করতে চাই, যেখানে কৃষকের ফসল ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের সহায়তায় গ্রামের চিত্র অনেক বদলেছে। কৃষকরা মৎস্যচাষ, অসময়ে টমেটো, শসা ও মরিচ চাষসহ আধুনিক কৃষিকৌশল শিখছেন। এতে তাদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাহিনুল ইসলাম ও তার সংগঠন প্রমাণ করেছেন, কৃষি শুধুমাত্র জীবিকা নয়, বরং গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। 




নেসলে বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘দ্য গাট নেক্সাস’ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ নেসলে বাংলাদেশের আয়োজনে গত ৪ ও ৫ নভেম্বর রেডিসন ব্লু ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘দ্য গাট নেক্সাস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ২৫০-এর বেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল গাট মাইক্রোবায়োমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ও মানুষের সার্বিক সুস্থতার সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের পেটে থাকা উপকারী জীবাণু বা গাট মাইক্রোবায়োম হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্মেলনে বিভিন্ন সেশন, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা এবং হাতে-কলমে শেখার কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গাট হেলথ সংক্রান্ত আধুনিক গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক আলোচকদের মধ্যে ছিলেন শ্রীলঙ্কার অধ্যাপক ড. শামান রাজেন্দ্রজিথ, যিনি শিশুদের গাট মাইক্রোবায়োমের বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে সঠিক মাইক্রোবায়োম গড়ে উঠলে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। নেদারল্যান্ডসের অধ্যাপক ড. মার্ক এ বেনিঙ্গা শিশুদের কলিক সমস্যা ও গাটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতার ওপর তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশি বাস্তবতা সামনে রেখে ড. মো. ইকবাল হোসেন গাটবান্ধব খাবার, প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক গ্রহণের সুবিধা এবং শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বায়োটিকস যুক্ত হলে হজমশক্তি ও সার্বিক সুস্থতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করে।”

কর্মশালায় প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক সম্পর্কিত আধুনিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান, যা নেসলে বাংলাদেশের গবেষণানির্ভর নিউট্রিশন উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করে।

নেসলে বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার অংশ। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের মাধ্যমে নেসলে বিশ্বব্যাপী গাট হেলথ এডুকেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।




কক্সবাজার সৈকতে দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা দিতে ‘প্লাস্টিকের দৈত্য

পর্যটন ডেস্কঃ সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজার সৈকতে তৈরি করা হয়েছে ভয়ংকর এক প্লাস্টিকের দৈত্য।

জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী এই দানব তৈরি করেছেন। সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে প্রদর্শন করা হচ্ছে ওসান প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি এ ভাস্কর্যের। পাশাপাশি তিন মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় এই ভাস্কর্যয়ের উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম ও বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে আছে প্লাস্টিকে তৈরি ভয়ংকর এক দানব। প্রতীকী হলেও এর হিংস্র থাবায় প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে মানবদেহ, প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য। প্রথম দর্শনে পর্যটকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিলেও কাছে যেতেই তা কেটে যাবে। তারা জানতে পারবেন প্লাস্টিক দূষণে প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির মাত্রা।

আয়োজকরা জানান, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সমাগম ঘটে লাখো পর্যটকের। তাদের অনেকে সৈকতের বালিয়াড়ি ও সাগরের পানিতে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর বর্জ্য ফেলে। এতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দূষণ এবং হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীব ও মানবজীবন। দূষণ রোধে ও সচেতনতা সৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসন সবসময়ই এমন উদ্যোগের সঙ্গে থাকবে। আশা করছি এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে আরও সতর্ক হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক দূষনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পলিসির সাথে সমন্বয় করে আমরা সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি।

তিনি আরও জানান, দেশব্যাপী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ৬ মাসব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কাজ করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ভাস্কর ও শিল্পী আবীর কর্মকার জানান, প্লাস্টিকের দানবটি তৈরি করেছেন বিভাগের একদল শিল্পী। ভাস্কর্য শিল্পীদের দাবি, এটি ওসান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্লাস্টিক দৈত্য’। এটি তৈরি করতে প্রায় ৬ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, প্রায় চার মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে অন্তত ৮০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বর্জ্যর একটা অংশ দিয়ে এই ‘প্লাস্টিক দানব’ নির্মাণ করা হয়েছে।

এটি পুরো পর্যটন মৌসুমে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।




পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময়ের সুবিধা

বিশেষ ডেস্কঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত) শিক্ষার্থী থাকলে তারা পরীক্ষায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিবন্ধী সনদ থাকতে হবে। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ২ কর্মদিবস আগে অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের তথ্য (প্রবেশপত্রের কপি ও প্রতিবন্ধী সনদের কপি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে পাঠাতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পৃথকভাবে সিলগালা করে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অনার্স ৩য় বর্ষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৪ এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। প্যাকেটের উপরে ‘প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র’ লাল কালিতে লিখতে হবে।




টেকনাফে বোটের ইঞ্জিন বিকলে কোস্ট গার্ডের দ্রুত উদ্ধার অভিযান

টেকনাফ প্রতিনিধিঃ টেকনাফের শাহপরীতে ইঞ্জিন বিকল হওয়া যাত্রীবাহী বোটসহ ৪৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ‘এম ভি মায়ের দোয়া’ নামের একটি যাত্রীবাহী বোট টেকনাফের কায়োকখাল ঘাট থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে বোটটি টেকনাফের শাহপরী সংলগ্ন গোলারচর এলাকায় পৌঁছালে শ্যাফট ভেঙে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এ সময় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি টহল দল ভাসতে থাকা বোটটি দেখতে পেয়ে বোটসহ ৪৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।