মিরপুরের মাঠে ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’

ক্রীড়া ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য নির্মিত নতুন লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’ ঘুরে দেখান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। লাউঞ্জটির কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর স্টেডিয়ামের ম্যানুয়াল স্কোরকার্ডের পাশে নির্মিত এই লাউঞ্জটি জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান নারী-পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতদিন ম্যাচ চলাকালে অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স বক্স’ থাকলেও অন্য ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা ছিল না। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই ‘টাইগার্স ডেন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিসিবি।

এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘টাইগার্স ডেন এমন একটি জায়গা, যেখানে বাংলাদেশের হয়ে একদিনের জন্যও প্রতিনিধিত্ব করা সব নারী ও পুরুষ ক্রিকেটার খেলার দিনে বসে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে তারা এসে সময় কাটাতে পারবেন। তাদের জন্য একটি নিজস্ব পরিসর তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক—সব ক্রিকেটারকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের অংশ হিসেবে সম্মান দিতে হবে। তাদের মধ্যে মালিকানাবোধ তৈরি করতে বোর্ডের যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করার চেষ্টা করব। অধিনায়কদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাপ্টেন্স বক্স রয়েছে, কিন্তু অন্য ক্রিকেটারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। এটি সেই জায়গা থেকে একটি ছোট উদ্যোগ।’

তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লাউঞ্জটি চালু করা হয়নি। তামিম জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটের গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরতে সেখানে বিভিন্ন স্মারক ও ছবি সংযোজনের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, নারী এশিয়া কাপ শিরোপা, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়—এমন অনেক স্মরণীয় অর্জনের স্মৃতি আমরা এখানে তুলে ধরতে চাই। এসব কাজ শেষ হলে ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে টাইগার্স ডেন উদ্বোধন করা হবে। বর্তমানে কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, শুধু ছবিগুলো স্থাপনের কাজ বাকি আছে।’




তাহসান ভক্তদের জন্য সুখবর

বিনোদন ডেস্ক : অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর নতুন গান থেকেও অনেকটা দূরে আছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। এবার হাজির হচ্ছেন উপস্থাপক হিসেবে। এর আগেও একাধিক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন সং কনটেস্টের বাংলাদেশ পর্ব ‘ভয়েজ অব বাংলাদেশ’র সঞ্চালক হিসেবে দেখা যাবে এই গায়ককে।

প্রতিযোগিতার বিচারকের আসনে থাকছেন দেশের সংগীতাঙ্গনের পাঁচ পরিচিত মুখ। তারা হলেন- ফাহমিদা নবী, হামিন আহমেদ, বাপ্পা মজুমদার, শওকত আলী ইমন এবং আঁখি আলমগীর।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘতম লাইভ মিউজিক প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন সং কনটেস্ট ১৯৫৬ সাল থেকে আয়োজন করে আসছে ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (EBU)। এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোভিশনের আঞ্চলিক সংস্করণ ‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া’-তে অংশ নিতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচন করতেই আয়োজন করা হয়েছে ‘ভয়েজ অব বাংলাদেশ’। প্রাথমিক বাছাই শেষে বর্তমানে সেরা ১২ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলছে বিশেষ গ্রুমিং পর্ব। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে বাংলাদেশের চূড়ান্ত প্রতিনিধি।

নির্বাচিত শিল্পী আগামী ১৪ নভেম্বর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোভিশন সং কনটেস্ট এশিয়া ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এশিয়ার এই আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া ও লাওস।

এদিকে, আগামীকাল বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। একই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে উপস্থাপক তাহসান ও পাঁচ বিচারককে।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব ও গ্র্যান্ড ফিনাল সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ এবং এনটিভি।




‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক

ডেস্ক নিউজঃ র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) ও ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) তথা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারক।

মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরে ট্রাইব্যুনালকে পরিদর্শনে যাওয়ার আবেদন করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে নির্যাতনসহ গুমের বর্ণনা দেন। পরে আবেদনটি বিবেচনায় নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরিদর্শনে যাওয়ার সম্মতি জানান।

এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ​আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন আয়নাঘরে রাখা হতো, যা জেআইসি বা টিএফআই সেল হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে র‍্যাব-১ এ টিএফআই সেল, জেআইসি ও ডিবি কার্যালয়ে কয়েকটি আয়নাঘরের সন্ধান রয়েছে।

মামলার স্বার্থে এসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি আবেদন করেছি। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ সম্মতি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, যেকোনো সময় দিন-তারিখ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে তারা নোটিশ করতে পারেন। এরপরই যৌথভাবে পরিদর্শন কার্যটি সম্পন্ন হবে।




তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক তদন্তের স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বী (রাব্বী)-এর ডিএনএ সংগ্রহের অনুমতি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।

এর আগে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জাহিদুজ্জামানের অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন রয়েছে।




জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে বদলি নিয়ে নতুন বিতর্ক, অভিযোগের মুখে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ ও পুরনো সিন্ডিকেটের প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি আদেশকে ঘিরে আবারও তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে প্রভাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি বা পদায়নের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যারা বিভিন্ন সময় বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। সাম্প্রতিক বদলি আদেশেও সেই চক্রের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পছন্দের শাখায় বা লাভজনক হিসেবে পরিচিত দপ্তরে পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) মো. মুশফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। আদেশ প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, যাদের মাত্র ছয় মাস আগে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়েছিল, তাদের আবারও হঠাৎ করে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক প্রয়োজনের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই এবং এটি প্রচলিত বদলি নীতিমালার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বদলি আদেশে প্রকৌশল বিভাগের একজন ড্রাফটম্যানকে অন্য শাখায় সংযুক্ত করার বিষয়টিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই ড্রাফটসম্যানের সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক জনবল এনে কাজ চালাতে হচ্ছে। অথচ সংকট নিরসনের পরিবর্তে ড্রাফটম্যান মো. হানিফ মিয়াকে স্থাপত্য শাখা থেকে উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি কর্মকর্তা) দপ্তর-২-এ সংযুক্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, এটি প্রশাসনিক প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে হিসাব সহকারী মো. মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদকে ঘিরে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সরকারি চালান জাল করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একসময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ভুয়া ও জাল চালানের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার পর তিনি চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ পান। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এমন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে কীভাবে আবার গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব দেওয়া হলো। তাদের মতে, এতে প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার বার্তা না গিয়ে উল্টো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে ফুয়াদের খালাতো ভাই ফারুককেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, ফুয়াদ ও ফারুক দীর্ঘদিন ধরে একই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রশাসনের একটি অংশের সহযোগিতায় তারা নিজেদের পছন্দের দপ্তরে বদলি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি এবং অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সাম্প্রতিক বদলি আদেশে মো. মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরকে উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি কর্মকর্তা) দপ্তর-১-এ এবং মো. মাজেদুল ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়, ঢাকা-২-এ পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব দপ্তর জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ইউনিটগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই এসব পদায়ন নিয়েই বেশি প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) মো. মুশফিকুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনদ্বীপ গড়াইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে জানানো হবে। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেন, অভিযোগগুলো তার নজরে এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও সেখানে যদি অর্থের লেনদেন, ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা সিন্ডিকেটের ভূমিকার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জনআস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাই তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।




মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: মানসিক ট্রমায় অনেক শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজঃ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক ও বিমানের একজন পাইলট। আহত ১৭৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ৬৩ জন। আহতরা দীর্ঘ চিকিৎস শেষে ক্লাসে ফিরলেও অধিকাংশই এখনো স্বাভাবিকে ফিরে আসতে পারেনি। ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থী যারা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, আজও তাদের বুকের ভিতর শূন্যতা আর হাহাকার। হূদয়ে রক্তক্ষরণ থামলেও দগদগে বিষাদের সেই ক্ষণ, আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ, বন্ধুদের হারানোর শোকসহ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। অভিভাবকরা বলেন, আহত শিক্ষার্থীরা সবকিছুতেই এখন বিরক্ত দেখায়, হঠাত্ রেগে যায়। আকাশে বিমানের আওয়াজ শুনলে এখনো অনেকে আতঙ্কে শিউরে ওঠে ও কান চেপে ধরে। বেশির ভাগই ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না, আবার কেউ মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিশুদের মনে গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, যা তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেবল শারীরিক চিকিৎসাই যথেষ্ট নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য এখনো কাঁদেন স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আর যারা সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন, তাদের জীবন চলছে এক অজানা আতঙ্কে। এতদিনেও বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য এখনো অনেকের কাছে ধূসর স্মৃতি। যত দিন যাচ্ছে অস্বাভাবিক আচরণ বাড়ছে দুর্ঘটনায় আহত ৬ষ্ঠ শ্রেণির (ইংরেজি ভার্শন) শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের। সে প্রায়ই বলছে, ‘মরে গেলে ভালো হতো’। গতকাল জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, তার মেয়ের এখনো ভয় কাটেনি। হুটহাট রেগে যায়। কোন কথা বললেই বিরক্ত বোধ করে। প্রতিদিন ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠে। দিনদিন এই অস্বাভাবিক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনে ও রাতে প্রায়ই বলে, আমি কেন ঐ দিন মারা গেলাম না? মরে গেলে ভালো হতো, আমার কিছু ভালো লাগে না। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা পরিপাটি ছিল। হাতে মেহেদি দিত, ব্রেসলেট পরত। ওর হাত পুড়ে গেছে। সে বলে, হাত জম্বির মতো হয়ে গেছে। ওর প্রশ্নের উত্তর আমি কী দেব? এই বাচ্চাগুলোকে সমাজ কোন চোখে দেখবে? তিনি আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানান।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেও হতাহতের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ করে টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা খুবই সীমিত সহায়তা হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিভাবকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে সানজিদা বেলায়েত বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সাক্ষাত্ পাইনি। গত ২১ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেদিন তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি সরকার গঠন করতে পারলে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। সানজিদা বেলায়েত বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় কোন পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে আহত শিশুরা দগ্ধজনিত জটিলতা, প্লাস্টিক সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমার কারণে মানবেতন জীবন যাপন করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য লিখিত আবেদনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—শহীদ পরিবারের সুরক্ষায় ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত হাইকোর্টের রিটের বাস্তবায়ন। আহতদের জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সিএমএইচ থেকে বিশেষ মেডিক্যাল কার্ডের ব্যবস্থা করা। নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা ও সনদ প্রদান করা। ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা এবং শহীদদের স্মরণে উত্তরায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।
নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা: দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত ইউসার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়। গত বছরের ২২ জুলাই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ঐ বছরের ১১ আগস্ট হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এখন নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে ইউসা বলে, একসময় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, এখন বিমান উড়ে গেলেই ভয় পেয়ে দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে সে, আর পাইলট হওয়ার ইচ্ছা নেই তার।
সেদিন কি দেখেছিল শিক্ষার্থীরা: ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সোমবার সকালটা ছিল একদমই সাধারণ। কলেজের প্রজেক্ট-২ ভবনের প্রতিটি কক্ষে তখন চলছিল পাঠদান। তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুমে বসে ছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। পরনে ইউনিফর্ম আর বইভরা ব্যাগ। এক হাতে খাতা, অন্য হাতে কলম। দুপুর ১টায় ছুটি হয়। বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি ঢাকার বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর-উত্তম এ কে খন্দকার থেকে বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ১টা ১৮ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এক মুহূর্তে পালটে যায় সব কিছু। হতবিহ্বল ও দিশাহারা হয়ে শিক্ষার্থীদের দিগ্বিদিক ছুটোছুটি, চিত্কার, কান্না, ধোঁয়া, ধুলোয় ভরে যায় স্কুল। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর মধ্য থেকে একের পর এক দগ্ধ শিক্ষার্থী বের করে আনা হয়। বিধ্বস্ত প্লেনটি ছিটকে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ভবনের সিঁড়ির সামনে চলে যায়। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ‘নাক’ ঢুকে যায় ভবনের সিঁড়ির অংশে, আর এর দুই পাখার আঘাতে পুড়ে ছাই হয় শিশুদের দুটি ক্লাসরুম।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাত্ দেখি আগুন ধরা প্লেনটা আমাদের বিল্ডিংয়ে আঘাত করছে। আমার এক বন্ধুই আমার চোখের সামনে মারা গেছে। এই দৃশ্য ভুলতে পারছি না।’ ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের শিক্ষার্থী হাসবিয়া রহমান আঝরা জানান, ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সময় তারা ক্লাসে ছিল। চারপাশ কেঁপে ওঠা বিকট শব্দ, আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষ আর বাচ্চাদের করুণ আর্তনাদ—এই সবই তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। এখন বিমানের শব্দ শুনলে সেই ভয়াবহ স্মৃতি তার মনে পড়ে যায়।
ট্রমা কাটাতে বিশেষ পুনর্বাসনের উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের এই গভীর মানসিক ক্ষত ও ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা এবং ছুটি রিসোর্টের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরের পুবাইলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ‘মেন্টাল হিলিং’ বা মানসিক নিরাময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম পরিবেশ থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা দিনভর মেডিটেশন, ছবি আঁঁকা, ফুটবল খেলা এবং উন্মুক্ত কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নেয়। নিহত সহপাঠীদের স্মরণে এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে এই নিরাময় অনুষ্ঠানে চারাগাছ রোপণ করা হয়।
নিহতদের স্মরণ, আহতদের সুস্থতা কামনা: মাইলস্ট্রোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে এই দোয়া ও স্মরণসভা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কলেজটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মরণ করতে এখানে হাজির হয়েছে। তারা নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। শিক্ষার্থীসহ যারা এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, তাদের সুস্থতা কামনা করছে।
দুর্ঘটনাস্থলটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে আজ: এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি আজ মঙ্গলবার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানান অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হবে। আজকের আয়োজনে অভিভাবকেরাও উপস্থিত থাকবেন।



হারের পরেও বীরের সম্মান, আর্জেন্টিনাকে বরণে সমর্থকের ঢল

ক্রীড়া ডেস্কঃ চার বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে যে দেশ উৎসবে মেতেছিল, এবার সেই আর্জেন্টিনাই ফিরেছে শিরোপা হারানোর আক্ষেপ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

সোমবার সকালে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দলের বহনকারী বিমান। রানওয়েতেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানানো হয়।

তবে পুরো স্কোয়াড একসঙ্গে দেশে ফেরেনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগেই জানিয়েছিল, অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাবেন। ফলে বিমানবন্দরে মেসিকে দেখা যায়নি।

বৃষ্টি আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিমানবন্দরের বাইরে ও জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। জাতীয় পতাকা ও নীল-সাদা ছাতা হাতে তারা করতালি ও স্লোগানে প্রিয় দলকে স্বাগত জানান। শিরোপা হাতছাড়া হলেও দলের লড়াইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সমর্থকেরা।

ফাইনাল শেষে রবিবার রাতেও বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। আতশবাজি, গান আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে অভিনন্দন জানান তারা।

তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। আর্জেন্টাইন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

দেশে ফেরা ১৬ ফুটবলার

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, গনসালো মন্টিয়েল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বার্কো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমেওনে, হোসে ম্যানুয়েল লোপেস,

যারা সরাসরি দেশে ফেরেননি

লিওনেল মেসি,  রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, জেরোনিমো রুলি, নিকোলাস পাস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা ও
হুয়ান মুসো




ছয় বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টি, মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকতে পারে বর্ষণ

ডেস্ক নিউজ : রংপুর, সিলেট, খুলনাসহ দেশের ছয় বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিভাগেও দিনভর মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়।

এ ছাড়া সিলেটে ৮৪ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৯৪ মিলিমিটার, খুলনার মোংলায় ১০০ মিলিমিটার, বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।




সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত এবং সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পায়। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য যেন অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

একইসঙ্গে চিকিৎসকরা যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো আন্তরিক হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে বৈঠক করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সেগুলো উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠকে আলোচনা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে যেন সবাই চিকিৎসা পান। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা।

এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




৪০ বছরের মধ্যে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সোমবার (২০ জুলাই) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসে রাজার কাছ থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি এই ভাষণ দেন।

ভাষণে বার্নহাম স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে তার সরকার। তিনি স্বীকার করেন, গত এক দশকে বারবার প্রধানমন্ত্রী বদল হওয়ায় জনগণ রাজনীতির প্রতি ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এতদিন যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি। এবার আমাদের আরও অনেক ভালো হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্ষমতা আর শুধু লন্ডনকেন্দ্রিক রাখা হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা এবং সরকারি আবাসন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় আগামীকাল থেকেই জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম কাজ হিসেবে দেশ থেকে গৃহহীনতা ও রাস্তায় ঘুমানোর সমস্যার পুরোপুরি অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম।

ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করি। এই মুহূর্ত থেকেই ব্রিটেনকে আবার বিশ্বাস করতে শেখাই এবং দেশে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে আনি।

এই ভাষণে তিনি বারবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।