দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এ সময় তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও সংস্থাটি জানায়।

শনিবার ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ।




পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

ডেস্ক নিউজ : নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের আগে শেষ মুহূর্তের কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের গেজেটের খসড়া এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গেজেটটি পরবর্তী ধাপে যাবে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে পে-স্কেলের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন। এসব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়েই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। ফলে আগামী রোববারই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।

এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে আগামী রোববার প্রজ্ঞাপন জারির নতুন সময়সীমা জানানো হয়।

এদিকে অর্থসচিব জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন নজর রয়েছে বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

নতুন স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে বেসরকারি খাতের সবখানে, এমনকি সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো হওয়া দরকার। আবার সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়েও আনা যেতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে।

নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:১.৯৪৫ থাকলেও নতুন স্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে বেতন কাঠামোয় ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বাড়বে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে মিলবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।




রাশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি বেড়ে ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস-রাসায়নিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

মাহিন উদ্দিন নামের ওই বাংলাদেশি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে।

মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদীতে।

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরদিন এক বিবৃতিতে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানায় এজিসিসি। পরে টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।

দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এজিসিসি প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকায় সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল।

এজিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি আরেক বাংলাদেশির নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছিলেন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরে ওই দুজনের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুস নামের আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে। অপর নিহত আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়।

দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত জাকির হোসেন ও আলাল হোসেন রাজুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে করে লাশ দুটি ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, অপরদিকে মস্কো হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও ছয় থেকে সাত দিন লাগতে পারে। এরপর তাদের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।



নেপালের চেয়েও মহাবিপর্যয়ের শঙ্কায় সিকিম, ঝুঁকিতে ৪০ হিমবাহ হ্রদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রাজ্যটির ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে তীব্র ঠান্ডার কারণে বরফ জমে বিশাল হিমবাহ ও হ্রদ তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এসব হ্রদে পানির পরিমাণ ও চাপ বাড়ছে। পাহাড়ধস, ভূমিকম্প কিংবা অতিরিক্ত পানির চাপে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সিকিমের অতীত অভিজ্ঞতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তেও একই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সিকিম সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ‘শাকো ছা’ হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হ্রদগুলোর বিপুল পরিমাণ পানি কীভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বড় পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া, সাইফন পদ্ধতি এবং সুরঙ্গ তৈরি করে পানির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।




শনিবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ডেস্ক নিউজ : জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) টানা আট ঘণ্টা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ জোনাল অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেবীগঞ্জ জোনাল অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা পরিষ্কারের কাজ (রাইট অব ওয়ে) করা হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার বিষয়টি জানিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।




বাংলা একাডেমিতে ৯ দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ শুরু : উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ থেকে শুরু হয়েছে ৯ দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি এই মেলার আয়োজন করেছে।

উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান মেলার বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। তিনি ‘প্রতিভা প্রকাশ’-এর ৩৭ নম্বর স্টলসহ বেশ কিছু স্টলে যান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই গভীর আগ্রহের সাথে দেখেন ও খোঁজখবর নেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ছড়িয়ে পড়ুক। তিনি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও নিষ্ঠা বদ্ধমূলভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশে নিজের লেখা ‘তুমি নির্ভীক’ কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে যশোর ও মানিকগঞ্জ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারকে শ্রেষ্ঠ পাঠাগার হিসেবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আয়োজক কমিটির সহ-সভাপতি ও মেলার আহ্বায়ক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও পাঠকদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। উদ্বোধনী দিনে লেখক, গবেষক এবং বিপুলসংখ্যক বইপ্রেমী মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।




আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাজস্ব আয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা

ক্রীড়া ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া বার্সেলোনা এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রাজস্ব আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

বার্সেলোনার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরোতে। আগের মৌসুমে এই অঙ্ক ছিল ৯৯৪ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারকাজ চলার কারণে মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। মৌসুমের শুরুতে কিছু ম্যাচ এস্তাদি জোহান ক্রুইফ ও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার পরও দর্শক ধারণক্ষমতা সীমিত ছিল ৪২ হাজারে।

এসব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের প্রায় পুরোটা রাজস্ব আদায় করতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। বার্সেলোনার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মৌসুম, যেখানে প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

ক্লাবের মতে, স্টেডিয়াম পরিচালনা ও ম্যাচডে আয়ের বৃদ্ধি এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। ক্যাম্প ন্যু পুরোপুরি চালু হলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বার্সা কর্তৃপক্ষ।

স্টেডিয়াম আয় ছাড়াও পৃষ্ঠপোষকতা খাত এবং ক্লাবের মার্চেন্ডাইজিং প্রতিষ্ঠান বার্সা লাইসেন্সিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং (বিএলএম) থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। গত মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার সমান।

এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য বার্সেলোনা প্রথম নির্ধারণ করেছিল ২০১৮ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব সেই পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দেয়। আট বছর পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি।

অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিল বার্সেলোনা। জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্প্যানিশ লা লিগা শিরোপা জিতেছে দলটি।

তবে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এখনো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পেছনে রয়েছে বার্সা। গত মৌসুমে রিয়ালের আয় ছিল প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যদিও দুই ক্লাবের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। দল শক্তিশালী করতে গত গ্রীষ্মে খেলোয়াড় কেনার পেছনে বার্সেলোনা ব্যয় করেছে প্রায় ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরো রাজস্ব আয়ের কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সেই মাইলফলক স্পর্শ করা ক্লাবটির পর এবার একই কাতারে নাম লেখাল বার্সেলোনা।

 




সালমান শাহকে স্মরণে বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহকে স্মরণ করতে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)।

তিন দিনের এই আয়োজনে বড় পর্দায় দেখানো হবে প্রয়াত এই নায়কের জনপ্রিয় ও কালজয়ী তিন সিনেমা। বিএফডিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে চলবে এই উন্মুক্ত প্রদর্শনী। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় সালমান শাহ অভিনীত একটি করে সিনেমা দর্শকদের জন্য প্রদর্শন করা হবে।

আয়োজনের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর পর্দায় উঠবে সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর দেখানো হবে নায়ক-নায়িকার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।

তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিন ৮ সেপ্টেম্বর দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন সালমান শাহ অভিনীত আরেক জনপ্রিয় সিনেমা ‘তোমাকে চাই’।

নব্বইয়ের দশকে অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন সালমান শাহ। তার অভিনীত সিনেমা ও অনবদ্য স্টাইল আজও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাই প্রিয় নায়কের সিনেমাগুলো বড় পর্দায় দেখার এই আয়োজন সালমান শাহর ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছে বিএফডিসি।

চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সালমান শাহর অনুরাগীদের জন্য বিএফডিসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই তিন দিনের প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।




আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাত ধ্বংসের মাশুল দিচ্ছে সরকার: প্রিন্স

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সংকট উত্তরণে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গোহাটা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে বিএনপি কিংবা সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপির সঙ্গে ছিল। ভবিষ্যতেও জনগণ বিএনপির পাশে থাকবে। তবে বিরোধী দল লংমার্চের নামে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক শামছু, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান সোহেল, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার এবং জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হযরত আহম্মেদ সাকিবসহ স্থানীয় নেতারা।

সভা শেষে গোহাটা মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে সাজানো র‍্যালিটি তারাকান্দা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।




ইসরায়েলে হামলা চালালে তা হবে ইরানের ‘শেষ সিদ্ধান্ত’: নেতানিয়াহু

ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানোর দুঃসাহস করে, তবে তা হবে দেশটির শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘শেষ সিদ্ধান্ত’—এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার দেশটির সদেরোত এলাকার আফিকি দাত হেজদের ইয়েশিভা পরিদর্শনের সময় গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান পুরো অঞ্চল ও আশপাশের সবাইকে আক্রমণ ও হুমকি দিচ্ছে, তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিণাম কী হতে পারে তা বুঝতে পেরে তারা এখানে কোনো উসকানি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।

সদেরোতের ওই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, পুরো গাজাজুড়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যারা ইসরায়েলের ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে তাদের বেছে বেছে নির্মূল করা হচ্ছে। এমনকি আগের দিনই গাজায় হামাসের শিন বেত প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজায় এখন মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ সময় ৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর থেকে নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। এই তালিকায় তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়াহ, মোহাম্মদ সিনওয়ার, হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইজ্জ আল-দ্বীন আল-হাদ্দাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রটির প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিটি হুমকিকে একে একে উপড়ে ফেলছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তোরাহ শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদেরোতের মেয়র আলোন দাবিদির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের একাংশকে নেতানিয়াহুর সামনেই ফিলিস্তিনবিরোধী চরমপন্থী গান গাইতে দেখা যায়। ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনিদের হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতির স্মরণে তৈরি ডোভ শুরিনের বিতর্কিত গান রিমেক করে তারা প্রতিশোধের ডাক দেয় এবং ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার মতো উগ্র স্লোগান সংগীতে তুলে ধরে।

এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, যেকোনো মুহূর্তে ও সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক প্রবর্তিত অর্থনৈতিক অবরোধ শুরুর পর থেকে তেহরান কেবল উপসাগরীয় অঞ্চল ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে, কিন্তু ইসরায়েলে হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান হয়তো ইসরায়েলকে পরবর্তী কোনো কৌশলী সময় ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছে, নয়তো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাল্টা জবাবের তীব্রতাকে ভয় পাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েল মূলত দেশটির অবশিষ্ট পরমাণু প্রকল্পগুলোকে একবারে ধূলিসাৎ করাকে প্রাধান্য দেবে। বিগত জুন মাসে এবং চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে ইরানের অস্ত্র-মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা ধ্বংস করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের মূল শাসনব্যবস্থা বা সাধারণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে তারা দ্বিতীয় সারির লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ কিংবা মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার কাজগুলোকেও নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে না জেরুজালেম।

নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে তা নেই। তাদের কৌশলগত হিসেব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবেন না, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ, এই অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরান ইতিমধ্যেই মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট