দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশটির ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (এনইএসএ) ও কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (সিএকে) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, এমপি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, কোরীয় ভাষা শিক্ষা এবং নির্মাণশিল্পে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।




মাছ ধরার নৌকায় করে মিসাইলসহ অন্যান্য অস্ত্র আনছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান ব্যবহার করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মিসাইল, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাচার করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি সমর্থিত সামরিক জোট। এ কাজে নৌকার মালিকদের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি জোটের জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড জানায়, সমুদ্রপথে চার ধরনের নৌকা ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে দেশটির বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিবৃতিতে নৌকার মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়, হুথি বিদ্রোহীরা যেন অস্ত্র পাচারের কাজে তাদের নৌযান ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক একটি পরাশক্তির কাছ থেকে হুথিরা আধুনিক অস্ত্রের প্রযুক্তি পেয়েছে।

সৌদি জোটের দাবি, হুথিরা এসব অস্ত্র ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, সুড়ঙ্গ এবং পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রাখছে। পরে সেখান থেকে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যাত্রীবাহী বিমান, সাবমেরিন ও মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে হুথিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।




নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ নয়, নিহত ১২: প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ : নাটোরের বড়াইগ্রামে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিকভাবে ১৪ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরবর্তীতে মরদেহ গণনা ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিহতের সংখ্যা ১২ বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনের মহাসড়কে এ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস ‘আরপি পরিবহন’-এর সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন মনে হয়েছিল। পরবর্তীতে মরদেহ শনাক্ত ও আনুষ্ঠানিক তালিকা তৈরির পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, তীব্র সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যান। পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ৩০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদ ছিল না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বিআরটিএর রেকর্ড অনুযায়ী বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়ে যায়। তবে গাড়িটির রুট পারমিটের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। ফিটনেসবিহীন এমন লক্কড়ঝক্কড় যান কীভাবে দূরপাল্লার মহাসড়কে চলাচল করছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সার্বিক তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।




রোনালদোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন সাবেক ম্যানইউ কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি অভিযোগ তুলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ। তার অভিযোগ, ইউনাইটেডে থাকাকালে তাঁর কোচিংয়ের সময় রোনালদো তাকে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ করেছিলেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ডাচ এই কোচ।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে এরিক টেন হাগ যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন, তখন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদোও সেখানে ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রোনালদোকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সাজাতে পর্তুগাল উড়ে গিয়েছিলেন টেন হ্যাগ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আমি রোনালদোকে অনেক শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু ম্যানেজার হিসেবে আমাকে একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

২০২২ সালের অক্টোবরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামতে অস্বীকৃতি জানানোয় চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে স্কোয়াডের বাইরে রাখেন টেন হ্যাগ। এরপর নভেম্বরে বিস্ফোরক এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানান, তিনি ক্লাব কর্তৃক প্রতারিত বোধ করছেন। এমনকি কোচ টেন হ্যাগকে তিনি সম্মান করেন না। এরপর পরবর্তীতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই ইউনাইটেড ছাড়েন রোনালদো।

২০২১ সালে ওলে গুনার সোলশারের অধীনে জুভেন্টাস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরেছিলেন ৩৬ বছর বয়সী রোনালদো। তবে টেন হ্যাগের অধীনে ২০২২-২৩ মৌসুমে ১৬ ম্যাচে মাত্র ৩টি গোল করতে সক্ষম হন তিনি।

রোনালদোর ফিটনেস ও পরিশ্রম নিয়ে টেন হ্যাগ বলেন, তাকে দিয়ে অতিরিক্ত প্রেসিং করানোর কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। কিন্তু সে কোথাও ঠিকমতো দৌড়াত না। কারণ, সে নিজের সঠিক প্রস্তুতি নেয়নি। প্রতিটি শীর্ষ দলই বড় তারকাকে লুফে নেয়। কিন্তু সেই তারকাকে দলের জন্য পরিশ্রম করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে টেন হাগ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার তিন বছরের কার্যকাল নিয়ে নানা আক্ষেপের কথাও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, হ্যারি কেইন এবং ডেকান রাইসের মতো খেলোয়াড়দের সই করাতে চেয়েছিলেন। এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্টে স্কট ম্যাকটমিনেকে নাপোলিতে বিক্রির সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিলেন তিনি।

গোল স্কোরিংয়ের সমস্যাকে ইউনাইটেডে নিজের তিন বছরের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে টেন হ্যাগ বলেন, প্রথম মৌসুমেই আমি বলেছিলাম, আমাদের সেন্টার-হাফ, সেন্ট্রাল-মিডফিল্ডে সমস্যা রয়েছে এবং বিশেষ করে আমাদের একজন ট্যাক্টিশিয়ান ও গোলের জন্য খেলোয়াড় দরকার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কারাবাও কাপ এবং ২০২৪ সালে এফএ কাপ জেতানো এরিক টেন হ্যাগকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বরখাস্ত করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার দায়ে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের স্থগিতাদেশ ও ২৫৫ ইউরো জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।




মালদ্বীপের জালে ৩৩ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়।

তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। 

প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল।

আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।




টাইগার শ্রফ মূল লক্ষ্য ছিলেন না শুটারদের, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামনে এলো নতুন সমীকরণ। হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য অভিনেতা ছিলেন না; বরং অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে তারা মুম্বাইয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। ফুটবল খেলা শেষে গাড়িতে করে ফেরার সময় অভিনেতার ওপর হামলা হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সূত্র জানায়, শুরুতে অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে এসেছিল তারা। ওই ব্যক্তির চলাচলের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করার পর তার কাছে পৌঁছানো কঠিন বলে মনে হয় তাদের। পরে ভক্তদের প্রকাশ করা বিভিন্ন ভিডিও রিল দেখে তারা জানতে পারে, টাইগার শ্রফের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা থাকে না। এরপর অভিনেতাকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টাইগার শ্রফ ও তার ভক্তদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে অভিনেতার চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল হামলাকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

হামলার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে সাতটি গুলি ছোড়া হয়। আরও গুলি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও একটি আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অভিনেতা ও তার গাড়িচালক আহত হন। পরে তারা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

‘বোঝানোর চেষ্টা করেও কাজ হয়নি’
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এ ঘটনার দায় স্বীকার করে। গ্যাংটির দাবি, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে টাইগার শ্রফকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিনেতা তাদের কথা শোনেননি।

হামলার পর প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য পরিচয় দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো। আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার দায় আমরা নিচ্ছি।’

অডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাদের কথা বুঝতে পারেননি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের যেসব ব্যক্তি গ্যাংটির সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করবেন কিংবা সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই বক্তব্যে এটিকে প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবি গ্যাংটির পক্ষ থেকেই করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার জন্য অভিযুক্তদের আগাম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ করতে পারলে আরও অর্থ এবং বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। গুলি চালানোর পর তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রকদের অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না। ঘটনাটিকে গুরুতর উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলায় অভিনেতার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




কণ্ঠ বদলে গেছে সেলেনা গোমেজের, কারণ জানালেন শিল্পী

বিনোদন ডেস্ক : নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের ধরন বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী এই শিল্পী এ তথ্য জানান।

সেলেনা গোমেজ বলেন, ‘আমি আমার কণ্ঠস্বর আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’

নিকোটিন ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন উল্লেখ করে মার্কিন সংগীতশিল্পী বলেন, ‘যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।’




বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হচ্ছে : ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় সর্বজনীন পূজা কমিটির শারদীয় দুর্গোৎসব মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

অত্যন্ত বর্ণিল পরিবেশে এবার বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজায় আমি হাইকমিশনার হিসেবে আসিনি, এসেছি পরিবারের সদস্য হিসেবে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

এ সময় বাংলাদেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ইস্যুতেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন দিনেশ ত্রিবেদী।




ঢাকা বন বিভাগে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, ডিএফও বশিরুলকে ঘিরে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকা বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল, গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণ, অবৈধ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি এবং এসব কর্মকাণ্ডে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও অর্থের বিনিময়ে সরকারি বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আবার অভিযান চালিয়ে জমি উদ্ধারের পরও কিছুদিনের মধ্যে তা পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় ঢাকা বন বিভাগের ডিএফও বশিরুলসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চন্দ্রা, মৌচাক, রাথুরা, কাশিমপুর ও বাড়ইপাড়া বনবিটসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের একটি অংশ বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। কোথাও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘর নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও গাছ কেটে রাস্তা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা বিট এলাকায় বনভূমি দখলের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। চন্দ্রা স্পিনিং মিলের পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন কারিগরপাড়ায় আশরাফ হোসেন ইটের দেয়াল দিয়ে চার কক্ষের একটি অর্ধপাকা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, চন্দ্রা টাওয়েল টেক্সের কাছের সংরক্ষিত বনভূমিতে আকাশমণি গাছ কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে তৌহিদুল ইসলাম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কালিয়াকৈরের ভুলুয়া, কালামপুর, কুঁচপাড়া, বটতলা ও চান্দরা মৌজায় বনভূমিতে ঘরবাড়ি ও দোকান নির্মাণের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুলুয়া এলাকায় শাকিল প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বনভূমিতে বাড়ি নির্মাণ করছেন। কালামপুরে সামাদ বিটের কর্মীদের ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন কক্ষের একটি টিনশেড ঘর তুলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কুঁচপাড়ায় রতন নামের এক দালালের মাধ্যমে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে রনজিত পাঁচ কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বটতলায় সাবেক কমিশনার ইসমাইলের ছেলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি পাকা দোকান নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চান্দরা মৌজায় রিমা নামের এক নারী প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিন কক্ষের টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর পাশেই শাহীন ও মাহবুবের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ৪০ হাত লম্বা একটি পাটের গোডাউন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

চন্দ্রা বিটের শিল্প কুঞ্জ পার্কের কাছেও দোকান নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোতালেব ডাক্তার বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনকে প্রায় ৪ লাখ টাকা দিয়ে পাকা দেয়াল তুলে দোকান নির্মাণ করছেন। সকিনার মোড়ে জাকিরের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা দিয়ে পাঁচ কক্ষের একটি ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইকবাল হোসেন, লুৎফর, মামুন ও লতিফের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগ ওঠার পর ইকবাল সামান্য একটি বারান্দা ভেঙে দিলেও মূল ঘরটি রয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

চান্দরা খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় শাহিনের মামার আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর নতুন করে নির্মাণের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এ কাজের সঙ্গে ইকবাল, লুৎফর, মামুন ও লতিফের একটি চক্রের নাম উঠে এসেছে। মাটিকাটা ইনক্রেটেবল ফ্যাক্টরির কাছাকাছি সাবেদ ওরফে পীর সাহেবের বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ টাকা দিয়ে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকার ভুলুয়া মৌজায় কফিল উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে ব্ল্যাক আনোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের দেয়াল তুলে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে।

মৌচাক বনবিটের ভান্নারা সাব-বিটেও বনভূমি দখল এবং অবৈধ দোকান নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বনফুল বাজার এলাকায় নতুন করে ৩৪টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আলিফ কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি কারখানার বিরুদ্ধে বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। ওই কারখানার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম ঠেকাতে বিট কর্মকর্তা শাজাহান মিয়ার মাধ্যমে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

মাঝুখান মৌজায় আজিজুল ডাক্তার ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুলসংখ্যক গজারি ও আকাশমণি গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছ কাটার ফলে ওই এলাকার বনভূমির ক্ষতি হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটা ও জমি দখলের অভিযোগ সত্য হলে তা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

শ্রীপুর রেঞ্জের রাথুরা বিটেও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ জুন রাতে রাথুরা বিটের সিএস ১৩৬৯ ও ১৩৭১ দাগের জমি থেকে ১০টি বড় গজারি গাছ কেটে মোজাম্মেল নামের এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় বিট কর্মকর্তা শেখ ইমদাদ হোসেনের নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তাঁকে রাথুরা এলাকা থেকে সিলেটে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন সংরক্ষকের গাড়িচালক বিল্লাল ও প্রধান অফিস সহকারী আতিয়ার রহমানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে তিনি একই এলাকায় থেকে যান বলে দাবি করা হয়েছে।

রাথুরা বিটের বেলতলী এলাকায় বশির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বনভূমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। কবরঘাটা এলাকায় রফিকুল ইসলামও অর্থের বিনিময়ে বনের জমিতে ঘর তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি ছিল কি না, জমির প্রকৃত শ্রেণি কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাশিমপুর বিটের মাধবপুর এলাকায় ইমরান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিট কর্মকর্তা চান মিয়াকে ম্যানেজ করে দুই কক্ষের একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের নিশ্চিন্তপুরে আউলিয়ার টেক মাজারের সামনে বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে নতুন পিচঢালাই রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কালীগঞ্জের এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। বনভূমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন ছিল কি না এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

মৌচাক বিটের ভান্নারা মৌজায় আগে উদ্ধার করা জমি আবারও দখল হওয়ার অভিযোগ বিশেষভাবে সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের জমির প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাঁটাতারের বেড়া ও খুঁটি কেটে ওই জমিতে আবারও মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বনপ্রহরী আমিনুল, জামাল ও মোবারকের সহযোগিতায় রাতের বেলায় পুনরায় দখল কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সার্ভেয়ার রনি হোসেন সরেজমিনে জমি মেপে দখলের প্রমাণ পেয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তারপরও গত দুই মাসে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে বিট কর্মকর্তা শাজাহান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাড়ইপাড়া বনবিটে প্রায় এক হাজার বিঘা বনভূমি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্যামেরার সামনে বনভূমিতে ঘর নির্মাণের জন্য বিট অফিসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো, টাকা না দিলে সেখানে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে আশরাফ নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার কক্ষের পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বন বিভাগকে ম্যানেজ করে স্থাপনা নির্মাণের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার সামগ্রিক চিত্রে ঢাকা বন বিভাগের ডিএফও বশিরুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন বিটে অনিয়ম ও বনভূমি দখলের ঘটনা চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি সরকারি বন বিভাগের গেস্টহাউস আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, গেস্টহাউস ব্যবহারের রেজিস্টার, দাপ্তরিক নির্দেশনা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বনভূমি দখল, গাছ কাটা এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে উদ্ধার করা জমি আবারও দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বন বিভাগের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাই চন্দ্রা, মৌচাক, রাথুরা, কাশিমপুর ও বাড়ইপাড়া বনবিটের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি উঠেছে।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড, উচ্ছেদ অভিযানের নথি, গাছ কাটার ঘটনা, বদলির আদেশ, অবৈধ স্থাপনার তালিকা এবং কথিত অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিএফও বশিরুল, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণের মাধ্যমে সরকারি বনভূমি উদ্ধার ও সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেবো। চাপটা দেওয়ার সাথে সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষি ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষিদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষিকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরা হলেন- আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা ছিলেন।

এর আগে বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।