মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে ডি মারিয়া— ‘আমরা শেষ দিনটি উপভোগ করবো’

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিনের মোকাবিলা করবে আলবিসেলেস্তেরা। এর মধ্যে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।  

আগামী ৬ অক্টোবর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। মেসিকে বিদায় জানাতে সেই ম্যাচ অ্যাঞ্জেল স্টেডিয়ামে হাজির হবেন ডি মারিয়াও। তিনি নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে রোসারিও সেন্ট্রালের গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর মিক্সড জোনে ডি মারিয়া জানান, ৫ অক্টোবর ব্যানফিল্ডের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। তবুও পরের দিন মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্তালে হাজির হবেন তিনি।

ডি মারিয়া বলেন, ‘আমাকে স্টেডিয়ামে যেতে হবে, তাই না? আমি যাবই এবং দেখব ম্যাচটা। আমরা ৫ তারিখে ব্যানফিল্ডের সঙ্গে খেলব। সুতরাং আমার থাকাই স্বাভাবিক। বাড়ি ফেরার পথে, হ্যাঁ আমি থাকবো।’

মেসির আন্তর্জাতিক অবসরে জাতীয় দলে বড় পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করেন ডি মারিয়া। তিনি বলেন, ‘এটা হতে যাচ্ছে কঠিন, তাই নয় কি? বহু বছর পর লিওকে ছাড়া দল। আর্জেন্টিনাকে সে সবকিছু দিয়েছে, আর্জেন্টাইনদের, পুরো বিশ্বকে। আমরা শেষ দিনটা উপভোগ করবো।’




দুদকের মামলার আসামি অলিউল, ফুয়াদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ—তবু চেয়্যারম্যানের আস্থাভাজন, জাতীয় গৃহায়নে ফেরদৌসী বেগমের ক্ষমতার বলয় নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম ও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কথায় চলছে গৃহায়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম। তাঁর দপ্তরের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যারা তাকে সমর্থন দিচ্ছেন, তারা তার চোখের মণি। জাতীয় গৃহায়ন যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি ভাবছেন চেয়ারম্যান। গণপূর্ত সচিবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, প্রাক্তন সচিব নজরুলের দিকনির্দেশনায় দপ্তর চালাচ্ছেন এবং মন্ত্রীর সঙ্গে তার ওঠাবসা—জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম, যিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন হিসেবে স্বীকৃত, অফিস চলাকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক চেয়ারম্যান দপ্তরে উপস্থিত থাকা এবং চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে সরকারি গাড়িতে যাওয়া-আসা প্রমাণ করে, তিনি চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের আস্থাভাজন। নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলাম ও মোস্তফা হোসাইন ফুয়াদের ভূমি শাখায় পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ পাইয়ে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অলিউল ইসলামের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দুদক কর্তৃক দুর্নীতির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযুক্ত এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মো. অলিউল ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী, প্ল্যানিং-এর চলতি দায়িত্ব দেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী।

২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের আদেশে মোহাম্মাদ হাবিবুর, অতিরিক্ত সচিবকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও কোন ক্ষমতাবলে মাত্র ৩ দিনের মাথায় পুনর্বহাল হন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম।

ফেরদৌসী বেগম অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামায়াতি পরিচয়ে যুগ্ম সচিব হয়েও সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদে বসে পড়েন। শুরু হয় দাম্ভিকতা।

চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সরকার হারিয়েছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। চেয়ারম্যানের অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করলেও তার রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যার কারণে তিনি পুনরায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরে এসেছেন। চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবাদ করলেই তাদের বিভিন্ন জেলায় বদলিসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ফুয়াদ ও অলিউলের মতো কর্মকর্তারা তার চোখের মণি। কিন্তু তাদের নামে রয়েছে দুদকের তদন্ত এবং একাধিক ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ৩২টি বাণিজ্যিক প্লটের বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি কোনো প্রকার তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়া, আইনের মতামত না নিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকেই শুরু হয় কানাঘুষা। শুধু মাত্র জামায়াতের লোকদের সুযোগ করে দিতে এহেন তড়িঘড়ি করেছে চেয়ারম্যান ফেরদৌসী—সেই অভিযোগও উঠেছে।

অথচ বিভিন্ন প্লটের ওপর অভিযোগ থাকলেও তা আমলে নেননি এই চেয়ারম্যান। শত অভিযোগের পরেও চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট প্লটগুলো বরাদ্দপত্র দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, সেকশন ১, ব্লক জি, হোল্ডিং নম্বর ১/১-এর মৃত বন্দে আলীর অনুকূলে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ শাখা-১০, ৫ ডিসেম্বর অবমুক্ত করেন ৩০ শতাংশ ভূমি। বিগত ১৫ ডিসেম্বর ২০০২ সালে গেজেট প্রকাশ করেন। যা বিগত ২৯ আগস্ট ২০০২ স্মারক নং-ভূঃ মঃহঃ দঃ/শা-১০/ঢাকা ৫৯/২০০১ মোতাবেক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় শাখা-১০ থেকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গৃহায়ণ ভবন), সেগুনবাগিচা, ঢাকা বরাবরে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি ভূমি মন্ত্রণালয় স্মারক নং-ভূঃ মঃ/শাঃ ১০/ঢাকা-৫৯/২০০১ আইনের ৮ (বি) ধারা মোতাবেক ১৩/৫৯/৬০ নং এল/এ কেসটি ভূমি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের নোটিশ পাঠায়। যা পূর্বে জাগৃকের ফাইলে রক্ষিত আছে। এবং মৃত বন্দে আলী মিয়া ২০১৩ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ—বলে বন্দে আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর প্রতিবেদককে জানান, যার পার্ট ফাইল নং ১০৬/১৩।

এ প্রতিবেদক অনুসন্ধানে আরও জানতে পারেন যে, ২০২৫ সালেও বন্দে আলীর ভাড়াটিয়া ইমাম শতাংশটির ওপর বিগত ২০১১ সাল থেকে নাসিমের স্ত্রী মাকসুদা হোসেন মহামান্য আদালতে হোসেন নাসিমের রিট পিটিশন করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান শিল্প প্লট ও ব্যক্তিমালিকানা প্লটকে কীভাবে বাণিজ্যিক প্লট করে টেন্ডার বিজ্ঞাপন ও বরাদ্দপত্র দিলেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে মৃত বন্দে আলী মিয়ার ওয়ারিশগণ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।

জাসদ ছাত্রলীগের এই কুখ্যাত ক্যাডার ডিআইজি রেজাউল (পিপিএম), হাসিনার আমলে ফেনী ও রাজবাড়ী জেলার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জেলার এসপি, ফেনী জেলায় বিএনপি নেতাদের ক্রসফায়ার দেওয়া ফ্যাসিস্ট, বর্তমানে শিল্প পুলিশের ডিআইজির স্ত্রী, জামায়াতের এজেন্ট, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া মোসা. ফেরদৌসী এখনও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। বিএনপির লোক দেখলে তার গা জ্বলে। বিএনপি নেতাদের অফিসে ঢুকতে বাধা প্রদান, অবৈধভাবে জামায়াতিদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ, সিনিয়র অতিরিক্ত সচিবের পদে যুগ্ম সচিব থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ—সহায়তা করেন তৎকালীন গুপ্ত জামায়াতি সংগঠনের সচিব নজরুল ইসলাম। সব মিলিয়ে এখন জাতীয় গৃহায়ন যেন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছেন চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এই মহারানীর ক্ষমতার উৎস কোথায়? কেউ কেউ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস পতিত আওয়ামী লীগ, কারণ আওয়ামী লীগ আমলে তিনি বহাল তবিয়তে গত ১৭ বছর রাজধানী ঢাকার বাইরে যেতে হয়নি। আবার কেউ কেউ বলেন, তার ক্ষমতার উৎস তার ডিআইজি স্বামী। কারণ তার স্বামী হাসিনার আমলে ফেনী ও রাজবাড়ী জেলার এসপি গিরি করলেও ইন্টারিম পিরিয়ডে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, পরে বিএনপির আমলে শিল্প পুলিশের ডিআইজি হন কেবল বগুড়ার নাগরিক বলে। তিনি বলে বেড়ান, যতদিন পূর্তমন্ত্রী আছেন, ততদিন তিনি চেয়ারম্যান আছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




রাজউকে দুই কর্মচারীর ‘সমান্তরাল রাজত্ব’! মলির টেবিলে ফাইল জিম্মি, সবুজের কক্ষে ঘুষের দরদাম—উঠছে গুরুতর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকা ও তার চারপাশের পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বপ্ন যেখানে বোনা হওয়ার কথা, সেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যেন আজ এক গভীর অন্ধকার কুঠুরি।

প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন আর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এখন কেবল খাতার পাতায় বন্দি এক মরীচিকা। বাইরে বড় বড় সাইনবোর্ড আর কাচের দেওয়াল থাকলেও ভেতরে চলছে এক অদৃশ্য পুতুলনাচ।

এই নাটকের নেপথ্য কুশীলব কোনো শীর্ষ নীতিনির্ধারক নন; রাজউকের জোন-৫ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রকল্প দপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর (অতিরিক্ত দায়িত্বে উচ্চমান সহকারী) ফাতেমা বেগম মলি এবং এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজ। তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীরা বছরের পর বছর ধরে এক অদৃশ্য শেকড় ছড়িয়েছেন, যা পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক মেরুদণ্ডকে ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘকাল একই চেয়ারে জেঁকে বসে তারা তৈরি করেছেন এক সমান্তরাল রাজত্ব। সেই রাজত্বে সাধারণ সেবাগ্রহীতা থেকে শুরু করে নামিদামি ঠিকাদার—সবাই কেবল অসহায় শিকার। ফাইল আটকে রেখে বাধ্যতামূলক ঘুষ আদায়, নিজের পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বড় বড় প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, সরকারি ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) বারোটা বাজিয়ে কমিশন বাণিজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র গায়েব করে ফেলার মতো কর্মকাণ্ড সেখানে জলভাতের মতো স্বাভাবিক। প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে দিয়ে তারা রাজউকের বুকে সৃষ্টি করেছেন এক কৃত্রিম প্রশাসনিক স্থবিরতা। এক টেবিলে ফাইল আটকে থাকে মাসের পর মাস, ফাইল নড়ে না এক ইঞ্চিও, যেন ফাইলে পড়েছে অদৃশ্য লোহার তালা, যার চাবি লুকিয়ে আছে ফাতেমা বেগম মলির টেবিলে।

অভিযোগ উঠছে, মলির এই কারবার নিছক কোনো সাধারণ ঘুষ লেনদেন নয়, বরং তা এক নিখুঁত প্রাতিষ্ঠানিক ব্ল্যাকমেইল চক্র। এই দুর্নীতির জাল মূলত তিনটি ধারায় বিস্তৃত। প্রথমত, ফাইল জিম্মি করার কৌশল। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন বা এস্টিমেট, ঠিকাদারদের চুক্তি সম্পাদন, বোর্ড সভার কার্যপত্র, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন কিংবা ঠিকাদারদের রানিং ও ফাইনাল বিল—সবকিছুই এসে থামে মলির ডেস্কে। নগদ উৎকোচের অঙ্ক মিলে গেলে ফাইলের পথ মসৃণ, আর তা না হলে সেই নথিতে জুড়ে দেওয়া হয় অজস্র কৃত্রিম অসঙ্গতি। দিন গড়িয়ে মাস যায়, কিন্তু ফাইল আর আলোর মুখ দেখে না।

দ্বিতীয়ত, স্বজনতোষী সিন্ডিকেটের হাত ধরে ঘরের মানুষের ভাগ্য বদল। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফাতেমা বেগম মলি তাঁর স্বামী আবুল ফজল রাজুর মালিকানাধীন ‘রাজু ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘রাজু প্রপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপারস’-এর ঝুলিতে তুলে দেন একের পর এক কাজ। দরপত্র আহ্বানের আগেই ভেতরের গোপন তথ্য পাচার হয়ে যায় স্বামীর টেবিলে। তারপর দরপত্রের শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়, যেন প্রতিযোগিতার মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই টিকতে না পারে।

তৃতীয়ত, রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখায় জাহিদুল ইসলাম সবুজের একচ্ছত্র আধিপত্য। তথ্য বলছে, রাজউক ভবনের ৪২১ নম্বর কক্ষটি পরিণত হয়েছিল এক প্রকাশ্য হাটবাজারে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণের ফাইল, প্লট বরাদ্দপত্র, নামজারি কিংবা মালিকানা বদলের মতো স্পর্শকাতর নথির জন্য চলত প্যাকেজভিত্তিক ঘুষের দরদাম। ঘুষের বিনিময়ে একই প্লট একাধিক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া, মূল নথি থেকে মালিকের ছবি বদলে ফেলা কিংবা রাতের আঁধারে আস্ত নথি গায়েব করে দেওয়া ছিল সেখানে নিত্যদিনের খেলা।

এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফাতেমা বেগম মলি শুধু একজন অফিস সহকারী নন, রাজউকের সাবেক সদস্যের সাবেক পিএ এবং শ্রমিক কর্মচারী লীগের স্বঘোষিত মহিলা বিষয়ক নেত্রী পরিচয়ে তিনি দাপিয়ে বেড়াতেন পুরো দপ্তর।

অন্যদিকে তাঁর স্বামী আবুল ফজল রাজু, যিনি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক, স্ত্রীর দাপ্তরিক ক্ষমতার ডানা মেলে নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজউকের ঠিকাদারি অঙ্গন। তাঁদের সহযোগী জাহিদুল ইসলাম সবুজ (হেলাল উদ্দীন সবুজ), যিনি ১৯৯৮ সালে সংস্থায় যোগ দিয়ে শ্রমিক কর্মচারী লীগের কার্যকরী সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন, ৪২১ নম্বর কক্ষে বসে নিয়ন্ত্রণ করতেন এস্টেট জালিয়াতির কলকাঠি।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার মেহেদী হাসান এই দুর্নীতির চক্রব্যূহে পিষ্ট হয়ে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক প্রবীর কুমার দাস মলির অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকলেও অদৃশ্য কারণে সেই ফাইলটিও কোনো এক ড্রয়ারে চাপা পড়ে থাকে।

সরকারি বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী একজন অফিস সহকারী বা উচ্চমান সহকারীর মাসিক বেতন সাকুল্যে ২৫ থেকে ৩২ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ এই সামান্য আয়ের আড়ালে তাঁদের সম্পদের বহর রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

তথ্য বলছে, ফাতেমা বেগম মলির রয়েছে ধানমন্ডি ও ঝিগাতলার ১৫/এ সড়কের এমসিটি ডার্লিং পয়েন্টের লেভেল ই-৫-এ ৩টি সুপরিসর বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৭, ২২ ও ২৭ নম্বর সেক্টরে ৫ কাঠা আয়তনের মোট ৩টি প্লট। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর, রূপগঞ্জ ও চাঁদপুরের গ্রামের বাড়িতে অঢেল জমিজমা এবং ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪৬১৮ নম্বরের একটি বিলাসবহুল নোয়া মাইক্রোবাস মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অধিক পুঞ্জীভূত সম্পদ।

অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম সবুজের দখলে রয়েছে রাজধানীর সবুজবাগে ২,০০০ বর্গফুটের রাজকীয় অ্যাপার্টমেন্ট, দক্ষিণ মাদারটেক কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে যৌথ অংশীদারিত্ব, গাজীপুরের ভবানীপুরে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’-এ বিনিয়োগ, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর ও বগুড়ার শেরপুরে একাধিক পাকা বাড়ি এবং ঢাকা মেট্রো-৫১৮৯৩৭ নম্বরের নোয়া মাইক্রোবাস—যার ড্রাইভার ও তেলের পেছনেই মাসে উড়ে যায় একজন সাধারণ কর্মচারীর পুরো মাসের বেতনের সমান অর্থ। শতকোটি টাকার এই সাম্রাজ্য কি কেবলই সরকারি চাকরির সঞ্চয়, নাকি জনতার ঘাম ঝরানো অর্থের ফসল?

দালিলিক প্রমাণ বলছে, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মেহেদী হাসান মলির ঝিগাতলার ফ্ল্যাট ও পূর্বাচলের প্লটসহ ঘুষ বাণিজ্যের বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

সেই নথি রাজউকে এলেও তা ধামাচাপা পড়ে যায়। ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর এবং ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে সবুজের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক নিপীড়ন, ৪২১ নম্বর কক্ষের ঘুষের হাট ও রিসোর্টে বিনিয়োগের প্রমাণ দাখিল করা হয়। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য হাতের ইশারায় সবই দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যায়। এমনকি জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়ন ও অর্থায়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শাহআলী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় (সিআর নং ৯৯/২০২৫) ফাতেমা বেগম মলি ১৫৬ নম্বর এবং তাঁর স্বামী ১৬০ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও রাজউক কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার সাহস দেখায়নি। হাইকোর্টের রিট পিটিশন ও বরাদ্দ নথিপত্র প্রমাণ করে, পূর্বাচলের প্লট আর ঝিগাতলার হোল্ডিং নথিতেও মলির পরিবারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান।

প্রকল্পের বাস্তব কাজ কতটুকু হলো তা না দেখেই ঠিকাদারদের রানিং বিল ছাড় করিয়ে দিতে মলি নিতেন নির্দিষ্ট কমিশন। ফলে মানহীন কাজও কাগজে-কলমে নিখুঁত হিসেবে পাস হয়ে যেত, যার মাধ্যমে সরাসরি অপচয় হয়েছে রাষ্ট্রের অর্থ। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) লঙ্ঘন করে স্বামীর সংস্থাকে একচ্ছত্র কাজ পাইয়ে দিয়ে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে। আবার সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ তোয়াক্কা না করে হত্যা মামলার আসামিকে বহাল তবিয়তে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, এই সিন্ডিকেটের খুঁটির জোর আসলে কোথায়? জানতে চেয়ে ফাতেমা বেগম মলির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে প্রতিবারই এক অচেনা কণ্ঠ বলে ওঠে, এটি রং নম্বর এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠানো হলেও তিনি মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন।

অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি রাজউকে সততার সঙ্গে চাকরি করি। দাপ্তরিক কোনো কাজের বিনিময়ে আমি কারও কাছ থেকে কোনোদিন এক পয়সাও ঘুষ নিইনি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার সম্মানহানি করতে এবং আমাকে চাকরি থেকে সরানোর চক্রান্ত হিসেবে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ বিভিন্ন সংস্থায় ছড়াচ্ছে।’

রাজউক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল মহলের দাবি, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজউকের কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে কর্তৃপক্ষ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে। কোনো একক ব্যক্তির অনৈতিক কাজের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নেবে না। উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা যখন পুরো প্রশাসনকে জিম্মি করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে, তখন সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কেবল ভবনের দেওয়ালেই প্রতিধ্বনিত হয়। কেবল তদন্ত কমিটির নাটক নয়, হত্যা মামলার আসামিকে চাকরি থেকে অপসারণ, দুদক কর্তৃক মলির ৫০ কোটি টাকার সম্পদের ফরেনসিক অডিট এবং ম্যানুয়াল ফাইলিং বন্ধ করে ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু না হলে রাজউকের এই অচলাবস্থা কাটবে না। নতুবা, দুর্নীতির এই বিষবৃক্ষের ছায়ায় একসময় হারিয়ে যাবে একটি গোটা নগরের স্বপ্ন ও প্রশাসনিক অস্তিত্ব।




কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে পদক জয়ের স্বপ্ন বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্কঃ এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ৩৯-৩৫ পয়েন্টে জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে হারালে পদক পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে থাকবে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১৭ পয়েন্টের বিপরীত কোরিয়ার পয়েন্ট ছিল ১৬। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ২২ আর কোরিয়া ১৯ পয়েন্ট পায়। এতে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা কোরিয়ার দুই খেলোয়াড়কে মার্ক করেছিলাম। খেলোয়াড়েরা নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। এজন্য ম্যাচটি আমাদের পক্ষে এসেছে। যদিও অনেক লড়াই হয়েছে।’ 

এখন পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দল। আব্দুল জলিল বলেন, ‘তাইপেকে হারাতে পারলে আমরা পদকের খুব কাছাকাছি থাকব। মূলত তাইপের ম্যাচের ওপরই অনেকাংশে পদক নির্ভর করছে। এক দিনে দুই ম্যাচ কোনো অজুহাত দেব না। কোরিয়াকে হারিয়ে খেলোয়াড়েরা চাঙা রয়েছে কোনো ইনজুরি নেই।’

পুরুষ কাবাডিতে বাংলাদেশ পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে, স্বাগতিক জাপানের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ সেমিফাইনালে খেলবে। ভারত এই গ্রুপের টপ ফেভারিট। তাই চাইনিজ তাইপেকে হারালে বাংলাদেশের রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।




গণপূর্তের লটারিতেও অনিয়মের অভিযোগ, ঢাকায় পোস্টিং নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বদলি ও পদায়নে অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই লটারি পদ্ধতিই এখন নানা প্রশ্নের মুখে। অভিযোগ উঠেছে, লটারি শুরু হওয়ার আগেই কিছু প্রকৌশলীর নাম ঢাকার জন্য নির্ধারিত বক্সে রাখা হয়েছিল। পরে লটারির মাধ্যমে তাদের ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগে পদায়ন দেখানো হয়। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক প্রকৌশলী।

গণপূর্ত অধিদপ্তর গত ৩০ জুলাই থেকে এই লটারি কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম ধাপে ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), দ্বিতীয় ধাপে ৩ আগস্ট ২৫৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) এবং পরবর্তী ধাপে ৪০৯ জন সহকারী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর বদলি-পদায়ন করা হয়। তিন দফায় মোট ১ হাজার ৪৩০ প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থলে পাঠানো হয়েছে। সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনে এসব লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, কাগজে-কলমে লটারি হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি সবার জন্য একইভাবে কার্যকর হয়নি। অনেক প্রকৌশলীর নাম লটারিতে তোলা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৪-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামের নামও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকার কথা বলা হলেও তাকে কেন লটারি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আজহারুলের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু তিনি নন, আরও কয়েকজন প্রকৌশলীকে লটারির আওতায় আনা হয়নি। এর কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজহারুলসহ অন্তত সাতজন প্রকৌশলীকে লটারি থেকে বাদ রাখার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে কারা যাবেন, সে বিষয়ে লটারির আগেই একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। বঞ্চিত কিছু প্রকৌশলী এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তাদের দাবি, কিছু কর্মকর্তার ক্ষেত্রে নিয়মিত লটারি পদ্ধতি অনুসরণ না করে আগে থেকেই তাদের নাম নির্দিষ্ট বক্সে রাখা হয়।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, লটারির পুরো আয়োজন যথেষ্ট উন্মুক্ত ছিল না। কখন কোথায় লটারি হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগে থেকে জানানো হয়নি। লটারির সময় অনলাইনে সরাসরি দেখার ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে মাইক বা প্রকাশ্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার না করে দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার বক্স নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যান্য বিভাগের উদ্বৃত্ত প্রকৌশলী কারা হবেন, সেটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ঢাকা মেট্রোর বক্সে কিছু কর্মকর্তার নাম রাখা হয়। পরে সবার আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর লটারি করা হয়। ফলে যে কর্মকর্তাদের অন্য বিভাগে লটারির আওতায় থাকার কথা, তাদের নাম কীভাবে আগে থেকেই ঢাকার বক্সে গেল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এই অভিযোগের সঙ্গে কয়েকজন প্রকৌশলীর বদলি-পদায়নের বিষয়ও সামনে এসেছে। ময়মনসিংহের বাসিন্দা সৌরভ রায়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় হওয়ার কথা থাকলেও আগে থেকেই তাকে ঢাকা মেট্রোর বক্সে রাখা হয়েছিল। পরে শেরেবাংলা নগর মেডিকেল উপ-বিভাগ থেকে তাকে সাভার সার্কেলে পদায়ন করা হয়। ফলে কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও তিনি ঢাকা বিভাগের মধ্যেই থেকে যান। অভিযোগকারীরা তাকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নেত্রকোনার বাসিন্দা ইজাজ আহমেদ খানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগে তাকে ঢাকার বক্সে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে শেরেবাংলা নগর উপ-বিভাগ থেকে তাকে ধানমন্ডিতে পদায়ন করা হয়। লটারির আগেই তিনি সম্ভাব্য পদায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জামালপুরের বাসিন্দা আশরাফুল আওয়াল রানার ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে। তার ময়মনসিংহ বিভাগের লটারিতে থাকার কথা থাকলেও তার নাম আগেই ঢাকা বক্সে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সাভার থেকে তাকে মতিঝিলে পদায়ন করা হয়।

বগুড়ার বাসিন্দা এএসএম সাখাওয়াত ইসলামের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। লটারির মাধ্যমে তাকে মিরপুরে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এর আগেও তিনি রাজারবাগ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, গণপূর্ত রেলওয়ে ডাইভারশন উপ-বিভাগ এবং শেরেবাংলা নগর উপ-বিভাগের মতো ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন। আইইবির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্যানেলভুক্ত নেতা হিসেবেও তার পরিচয় ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লটারির আগেই তার নাম ঢাকা বক্সে রাখা হয়েছিল কি না, সেটি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

ফরিদপুরের বাসিন্দা রেজাউল করিম মিঠুর পদায়ন নিয়েও একই অভিযোগ রয়েছে। তিনি এর আগে মতিঝিল, শেরেবাংলা নগর, মহাখালী ও ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৭-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তাকে গণপূর্তের সম্পদ উপ-বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা তাকে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্যানেলভুক্ত নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার নামও লটারির আগে ঢাকার বক্সে রাখা হয়েছিল।

পটুয়াখালীতে কর্মরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অসীম চন্দ্র স্বর্ণকারের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লটারির মাধ্যমে তাকে ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৫-এ পাঠানো হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীতে পাঠানো হলেও এবার লটারির মাধ্যমে আবার ঢাকায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকার বাসিন্দা মো. মেহবুবুর রহমানের ক্ষেত্রেও ঢাকায় থাকার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৫, রাজারবাগ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১ এবং রমনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারও তাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের কর্মকর্তা বরকত মজুমদার ও শেখ মোহাম্মদ এনামুল হককে যথাক্রমে চুয়াডাঙ্গা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এতে লটারির নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসাইনের পদায়ন নিয়েও বিভ্রান্তির কথা বলা হয়েছে। তার নাম নরসিংদী ও ফরিদপুর—দুই জায়গায় ওঠে। পরে তাকে ফরিদপুরে পদায়ন করা হয়। অভিযোগকারীরা বিষয়টিকে লটারি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান সাদের ক্ষেত্রেও ঢাকার বাইরে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চাকরিজীবনে তিনি উত্তরা উপ-বিভাগ, ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩ এবং ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬ (হাইকোর্ট)-এ কাজ করেছেন। এবার লটারির মাধ্যমে তাকে তেজগাঁও উপ-বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকলে লটারির মাধ্যমে আবারও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার পদায়ন কীভাবে হলো।

এ ছাড়া আবু তাহের মোহাম্মদ খাইরুল বাশার, গোলাম রাব্বি ও সাইফুল ইসলামের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের যথাক্রমে রংপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, লালমনিরহাট থেকে রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা তাদের বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়া নিমিতোষ ওঝাকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২ আগস্ট তাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-২-এর শাখা-১-এ বদলি করা হয়। ওই শাখার দায়িত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদে সক্রিয় থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগে একসঙ্গে পদায়নের ঘটনা নিয়ে আগে এমন প্রশ্ন ওঠেনি। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, হাইকোর্ট, বিমানবন্দর, পরিকল্পনা কমিশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও রমনা এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে এসব পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বিবেচনা কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে গণপূর্তের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, আগের বদলি-পদায়নে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ বন্ধ করতেই লটারির পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীকে একসঙ্গে বদলি করার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি বা অসঙ্গতি হয়ে থাকলে সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগভেদে কোথাও পদের তুলনায় কর্মকর্তা কম, আবার কোথাও কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি থাকায় ভারসাম্য করতে অন্য বিভাগ থেকে লোক নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

লটারি প্রক্রিয়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব যুক্ত ছিলেন। সারোয়ার আলম ও কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব জানিয়েছেন, লটারি পদ্ধতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক লটারি হওয়ায় কোথাও পদের তুলনায় কর্মকর্তা কম এবং কোথাও বেশি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য বিভাগ থেকে কর্মকর্তা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, লটারির অনিয়ম সম্পর্কে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে প্রমাণসহ কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে যে লটারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, সেটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে—লটারির আগে যদি কোনো কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট বক্সে স্থানান্তরের সুযোগ থাকে, তাহলে সেই লটারি কতটা নিরপেক্ষ ছিল। কার নাম কখন কোন বক্সে গেছে, সেই তালিকা, পরিবর্তনের কারণ এবং অনুমোদনের নথি প্রকাশ করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। একই সঙ্গে যাদের লটারির বাইরে রাখা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে—সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।




এমপি নজরুলের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

ডেস্ক নিউজঃ দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় সাতক্ষীরার এমপি জিএম নজরুল ইসলামের রিমান্ড আবেদন করবে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

সোমবার তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, আমরা রিমান্ড আবেদন করবো। তবে কতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে তা সিনিয়র স্যারদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে।

এদিকে সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করলে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত করতে হয়। তা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন তার বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় এমপি নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের রবিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে বিয়ের পর থেকে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।




জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেখন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের প্রথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।




১৯৯৩ সালে জাতিসংঘে গণতন্ত্র ও পানির অধিকার তুলে ধরেছিলেন খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরার পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার সুরক্ষা এবং আরও ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পরকে শক্তিশালী করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দারিদ্র্য মোকাবিলার সক্ষমতার ওপর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন পরস্পরকে শক্তিশালী করে।’ উন্নয়নশীল বিশ্বে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে লালন করতে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, পুঁজির স্বল্পতা ও প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি বাংলাদেশ এককভাবে উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতায় আমরা যখন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি, তখন একা এই কঠিন কাজ সম্পন্ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়; আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মানবাধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে যুক্ত করেন। উদীয়মান শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এসব সুরক্ষায় জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

তিনি বৃহৎ ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র ও দুর্বল দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি নদীর পানিবণ্টন, সমুদ্র আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শরণার্থী, অর্থনৈতিক অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও অবস্থানের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এখতিয়ার সর্বজনীনভাবে গ্রহণের আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া প্রযুক্তি ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক প্রযুক্তিগত ব্যবধান দূর করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ চাই।’ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও তথ্যপ্রবাহের ওপর বিধিনিষেধ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি।

তিনি বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো পরিবেশদূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। তাই পরিবেশগত ক্ষতি নিরসনের ব্যয় তাদেরই বহন করা উচিত। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্পদ অনেক কম এবং দূষণে তাদের অবদানও তুলনামূলকভাবে সামান্য।

তিনি বাংলাদেশের পাটশিল্পের বিষয়টিও তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া বলেন, রাসায়নিক ও কৃত্রিম বিকল্প পণ্যের তুলনায় পাটজাত পণ্য পরিবেশের জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম তন্তুর প্রসার পাটশিল্প এবং এর ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু বৈদেশিক সহায়তা কোনো দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে না।

তিনি উন্নত দেশগুলোকে বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক ব্যবস্থা দূর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমতার ভিত্তিতে উত্তর-দক্ষিণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং উরুগুয়ে রাউন্ডের আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছি।’ উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরও চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, কৃষি, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি, ২০০০ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য, খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের মৌলিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেওয়া ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি স্যানিটেশন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তৎকালীন সার্ক চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি বলেন, সাত সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে তিনি কাজ করছেন। তিনি ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উদ্যোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত পানিবণ্টন সমস্যা, বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন, নিয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানিসম্পদের ওপর বাংলাদেশের ‘অন্তর্নিহিত ও আইনগত অধিকার’ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে ভারত একতরফাভাবে ফারাক্কা বাঁধের উজানে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে বাংলাদেশে খরা দেখা দেয়। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ আমাদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।’

নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে মরুকরণ, লবণাক্ততা, নৌচলাচলের সক্ষমতা হ্রাস এবং কৃষি, শিল্প ও জীবিকার ক্ষতির যোগসূত্র তুলে ধরেন তিনি।

গঙ্গার পানিসম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে একটি জরুরি ও স্থায়ী চুক্তির আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

তিনি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাংলাদেশের নীতির কথাও তুলে ধরেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলো শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার নিজ বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়া উপজাতীয় শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ মিয়ানমার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে খালেদা জিয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সহিংসতা ও জাতিগত নিপীড়নের নিন্দা জানান। বসনিয়ার জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতিসংঘ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে নামিবিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, কুয়েত, কম্বোডিয়া, সোমালিয়া ও মোজাম্বিকে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং বিশ্ব সংস্থাটির শান্তিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ধনী সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) ও ইসরাইলের মধ্যে তৎকালীন সাম্প্রতিক চুক্তিকে স্বাগত জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

তিনি সমঅধিকার ও সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের সংগ্রামের প্রতিও বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে খালেদা জিয়া ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করেন।

মানবজাতির উন্নত জীবনের জন্য ‘সাহসী ও সৃজনশীল পদক্ষেপ’ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে জিয়াউর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা উদ্ধৃত করে খালেদা জিয়া বলেন, তার সেই কথাগুলো এখনো তাৎপর্যপূর্ণ।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার অগ্রযাত্রায় আমরা একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি।’

তিনি আইনের শাসন জোরদার, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি এমন একটি বিশ্বসমাজের স্বপ্ন তুলে ধরেন, যেখানে ‘গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবকল্যাণ’ সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পেছনে এ লক্ষ্যই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার ভাষণটি নতুন তাৎপর্য লাভ করেছে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এরপর খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্রে ৪৮তম অধিবেশনের ১৩তম পূর্ণাঙ্গ সভায় তার ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সঙ্গে এ পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে। এ ভাষণে তিনি বিশ্ব সংস্থার সামনে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।




রাজশাহী স্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধরে সম্পৃক্ততা নেই আনসারের

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। ঘটনাটিতে মূলত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা জড়িত ছিলেন।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গণসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. নাজমুস সাকিবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজশাহী স্টেশনে রাবির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরএনবি সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। সে সময় আরএনবি সদস্যদের রাতের পোশাকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভুলবশত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারেন যে মারধরে জড়িত ব্যক্তিরা আরএনবির সদস্য, আনসারের নন। ইতিমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় আনসার বাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

বাহিনীটি জানায়, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে আনসার সদস্যদের জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন বিভ্রান্তিকর এবং এতে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি অযাচিতভাবে ক্ষুণ্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।



দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ছয় জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।