কুড়িলে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ছাতা মাথায় রেললাইন পার হওয়ার সময়ে ট্রেনের ধাক্কায় মো. রাকিবুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পেশায় তিনি গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। রবিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবু রায়হান জানিয়েছেন, সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল সে সময়ে রাকিব মাথায় ছাতা দিয়ে অসতর্কভাবে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। মাথায় ছাতা থাকার কারণে সম্ভবত তিনি ট্রেনের হর্ন বা শব্দ শুনতে পাননি। সে সময় বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে পথচারী ওই আরও বলেন, মৃত রাকিব অনার্স (স্নাতক) সম্পন্ন করেছিলেন, ঢাকায় এসে গতকাল থেকে গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। আজ ছিল তার চাকরির দ্বিতীয় দিন সকালে কর্মস্থল গাজীপুরের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় অবগত করা হয়েছে। মৃত রাকিব ভোলা জেলার দৌলতখান থানার চর খলিফা গ্রামের প্রাইভেটকার চালক মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কুড়াতলী এলাকায় পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়।




টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য হাতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়। এর আগে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ সদর বিটের শিয়াইল্যা ঘোনা এলাকায় পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় প্রাণীটি।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শনিবার টেকনাফ সদর বিটের শিয়াইল্যা ঘোনা এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এদিকে, আহত হাতিটির বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো হাতিটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র।



জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

ডেস্ক নিউজঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে তার মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মরহুমের গফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমি একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’




করাচির এক হাসপাতালে তিন বছর বয়সীসহ ৮০ শিশু এইডসে আক্রান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি বা এইডস শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর মোট সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছেছে।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ্যে আসে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া শিশুদের একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার তিন বছর বয়সী। বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (এসইএসএসআই) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষায় তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে।

শিশুটির বাবা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালটিতে শিশুদের এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। একটি আবেদনের শুনানিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে।

আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের ফলে হাসপাতালে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সিন্ধের শ্রমমন্ত্রীও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (এসইএসএসআই) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: জিও নিউজ




টরন্টোতে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কানাডার টরন্টো শহরে বন্দুকধারীর হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) টরন্টো পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক জরুরি সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

কানাডীয় সংবাদমাধ্যম সিটিভি নিউজ জানিয়েছে, টরন্টোর মিডটাউন এলাকায় লাতিন আমেরিকানদের বার্ষিক উৎসব ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ অভিযান ও তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

টরন্টো পুলিশের একজন মুখপাত্র এক্সে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে, হামলাকারীর পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য কিংবা এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

সূত্র: রয়টার্স




রাঙ্গামাটির বন্যাদুর্গতদের যত দিন প্রয়োজন তত দিন ত্রাণ দেওয়া হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন বলেছেন, রাঙ্গামাটির বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। দুর্গতদের যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। 

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙ্গামাটির কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও খাবার যত দিন লাগে, তত দিন দেওয়া হবে। তিন মাস লাগলে তিন মাসই দেওয়া হবে। পাহাড়ধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিন সরবরাহেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এম. ইকবাল হোসেইন বলেন, আমরা বর্তমান পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সময় নিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন।

সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, তিনি প্রতিদিন দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ত্রাণ বিতরণ করছেন। যেসব এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ফারুয়া দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজ করছেন। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ ও অর্থ রয়েছে। আশা করছি, সবাইকে নিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টোসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।




কাফরুলে এক হাজার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাফরুল থানার ১৬ নং ওয়ার্ড এর সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষের মাঝে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক দলের সদস্য ডাঃ নিবিড়ের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ১৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

চিকিৎসক দল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত প্রায় ১০০০ এর মত রোগী দেখেন এবং ফ্রি ওষুধ বিতরণ করেন। সেই সাথে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য পানি, বিস্কুট, শরবত, খাবার স্যালাইন দিয়ে সেবা করতে দেখা যায়।

সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের এই মহতী কাজকে তারা ধন্যবাদ জানান এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ইউটিউব গণমাধ্যম কর্মীদের ভিডিও নিউজ কভার করতে দেখা যায়।

মানবিক এই কাজকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গও সাধুবাদ জানাচ্ছে। আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর সভাপতি রহমত এলাহী সোহাগের নেতৃত্বে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর সকল নেতৃবৃন্দ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর আব্বাস আলী একজন  বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।




পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ ই জুলাই উপলক্ষ্যে স্মরণ করছি: আধুনিক বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রামমুখী রাষ্ট্রচিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ তাঁর শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর উন্নয়ন-দর্শনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ছিল পুনর্গঠন ও উন্নয়নের সময়। আশির দশকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। দেশবাসীর মতে, উন্নয়নকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিস্তৃত করার প্রথম চেষ্টা ছিল এরশাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তাঁর শাসনামলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, অসংখ্য সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হয়, যাতায়াতের সময় কমে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য সেচ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর ফলে আশির দশকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়।

স্বাস্থ্য খাতেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে হাসপাতাল, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ধারণা পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

তাঁর সরকারের সময় পরিবেশ সংরক্ষণেও কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জাতীয়ভাবে উৎসাহিত করা হয় এবং সামাজিক বনায়নের ধারণা আরও বিস্তৃতভাবে প্রচার পায়। আজও দেশে বর্ষাকালীন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর সময়ের উদ্যোগের কথা প্রায়ই আলোচনায় আসে।

অর্থনৈতিকভাবে আশির দশকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও সে সময়ের অর্থনৈতিক সাফল্য নিয়ে গবেষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে, তবুও অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক জীবন যেমন প্রশংসিত হয়েছে,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষকের ভিন্ন মূল্যায়ন ও রয়েছে। তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে তাঁর শাসনামলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার সংস্কারের উদ্যোগ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই নন বরং একজন উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁর উন্নয়ন-ভাবনা আজও বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
পল্লীবন্ধুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর কর্মজীবনকে।




১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ এ সমতায়। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল ১–১ গোলে সমতায়। এরপর গোলের দেখা পান হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজ। এতেই সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরুতে বেশ সাবধানী ছিল আর্জেন্টিনা। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আক্রমণে উঠে তারা। এরপর ম্যাচের ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নারে ভেসে আসা বলে হেড দিয়ে তা জালে জড়ান মিডফিল্ডার লেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। এতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোল খাওয়া বাদ দিলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানতালে খেলেছে সুইজারল্যান্ড। একাধিকবার গোল করার কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত গোল পাওয়া হয়নি। এতে ১-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ড্যান এনদোয়ে। দলীয় আক্রমণে রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখেন ব্রিল এমবোলো। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। তবে আর কোনো গোল না হলে সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।

অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ১১৪ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এরপর আবারও গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন লাওতারো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।




দেশের ১৩ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, পাঁচ জেলায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি

আবহাওয়া ডেস্কঃ ভোর থেকেই রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। দুপুর পর্যন্ত এমন বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এদিকে আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে এসব জেলায় মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

একইসঙ্গে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা বহাল রয়েছে।

পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।