ডিবিসি’র শাফায়েতের কবলে নারী উপস্থাপিকারা, পরকীয়ায় অভিযোগ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়ে চাকুরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টেলিভিশনের ঝলমলে পর্দা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ – দর্শকের চোখে সবই যেন এক আলোকিত জগতের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সেই আলোর নিচেই যদি জমে থাকে নিকষ অন্ধকার? যদি ক্যামেরার পেছনের করিডোরে গড়ে ওঠে ভয়, প্রভাব আর অনৈতিকতার এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য?

ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের সদস্য সাবেক নির্বাহী প্রযোজক শাফায়েত হোসাইন। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়ে অবশেষে চাকরি হারিয়েছেন তিনি। তবে এই পতনের পেছনে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব অভিযোগ, যা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনকে।

ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের খামারী মাহাবুব হোসেনের ছেলে শাফায়েত হোসাইন বর্তমানে রাজধানীর মিরপুরে স্ত্রী ও স্কুলগামী দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। বাহ্যিকভাবে পরিপাটি, মার্জিত ও পেশাদার পরিচয়ের আড়ালে সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, লুকিয়ে ছিল এক ভিন্ন চরিত্র – যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী সহকর্মীদের প্রতি অনৈতিক আগ্রহ এবং মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল।

বিষাক্ত কর্মপরিবেশ: মুখ খুললেই ‘আউট’ : অভিযোগ রয়েছে, ডিবিসির নিউজরুমে নিজের অবস্থানকে পুঁজি করে শাফায়েত হোসাইন এমন এক প্রভাব বলয় তৈরি করেছিলেন, যেখানে তিনিই ঠিক করতেন কার ক্যারিয়ার সামনে এগোবে আর কার পথ থেমে যাবে।
বিশেষ করে নতুন ও আকর্ষণীয় নারী উপস্থাপিকাদের লক্ষ্য করে শুরু হতো তার ‘মেন্টাল গেম’। প্রথমে ভালো শিডিউল, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, বিশেষ টকশো কিংবা বাড়তি স্ক্রিন-টাইমের প্রলোভন দেখিয়ে তৈরি করা হতো সখ্যতা। এরপরই শুরু হতো ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার চাপ এবং অস্বস্তিকর ইঙ্গিত।

একাধিক সূত্রের দাবি, তার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দিলেই শুরু হতো মানসিক নির্যাতন। তুচ্ছ ভুলকে বড় করে দেখা, অকারণে নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া, অপমানজনক আচরণ এবং ধীরে ধীরে পর্দা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল ছিল নিয়মিত ঘটনা।
গত মাসেই এমন ‘টক্সিক’ পরিবেশের শিকার হয়ে ডিবিসি ছেড়েছেন একাধিক নারী উপস্থাপিকা।

প্রভাবের ছায়া ও অর্থ আত্মসাৎ : শাফায়েতের এত ক্ষমতার উৎস কোথায় – এ প্রশ্ন ডিবিসির ভেতর-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জানা গেছে, পরিচালনা বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন নিজের অপকর্ম আড়াল করে আসছিলেন তিনি। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি শুধু নারী সহকর্মীদের নয়, পুরুষ সহকর্মীদের ক্যারিয়ার নিয়েও ছিনিমিনি খেলতেন।

ডিবিসির সাবেক স্পোর্টস ইনচার্জ তাইয়েব অনন্তকে চাকরিচ্যুত করার নেপথ্যেও শাফায়েতের কৌশলী ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী উপস্থাপিকাকে কৌশলে ব্যবহার করে তাইয়েব অনন্তের বিরুদ্ধে সাজানো অভিযোগ দায়ের করানো হয়, যার সাক্ষী ছিলেন শাফায়েত নিজেই। এমনকি সেই অভিযোগ পুরোটাই লিখে দেয় শাফায়েত হোসাইন। ঐ উপস্থাপিকা তাতে স্বাক্ষর করে। কোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়াই ডিবিসি থেকে চাকরি হারাতে হয় তাইয়েব অনন্তকে।

অতীতের বিতর্ক : শাফায়েত হোসেনের অতীতও বিতর্কে ঘেরা। জনপ্রিয় উপস্থাপিকা মৌসুমী মৌ-এর একটি স্পোর্টস শো-এর অর্থ দেড় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ডিবিসি থেকে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে। পরে দেশ টিভিতে যোগ দিলেও স্বভাব বদলাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে একাউন্টস বিভাগের এক সাবেক সহকর্মী সুপারিশে আবারও ডিবিসিতে ফিরে আসেন তিনি। আর ফিরে এসেই শুরু করেন পুরনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি।

নেতার ছবি ও ‘জুজুর ভয়’ : সহকর্মীদের কাছে নিজের প্রভাব বিস্তারের আরেকটি হাতিয়ার ছিল রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত। মিরপুরের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে অফিসে এক ধরনের ‘জুজুর ভয়’ তৈরি করে রাখতেন তিনি। কথায় কথায় সেই প্রভাবের দাপট দেখিয়ে সহকর্মীদের চুপ করিয়ে রাখতেন। সহকর্মীদের ভাষায়, “তিনি যেন একজন প্রযোজক নন, বরং এক মূর্তিমান আতঙ্ক।”

ফাঁস হওয়া গোপন কথোপকথনে উন্মোচিত মুখোশ : সম্প্রতি এক নারী উপস্থাপিকার সঙ্গে শাফায়েতের গোপন কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। ডিবিসির মহাখালীর প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সেই কথোপকথনে উঠে আসে, সাবেক উপস্থাপিকা তানিয়া হারুন চ্যানেল ওয়ানে যোগ দেওয়ার পর ‘প্রযত্নে বাংলাদেশ’-এর জন্য নতুন উপস্থাপিকা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় শাফায়েত নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সুযোগ পাইয়ে দিতে পরিচালক রুশায়েদ আহসানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। সংবাদ বিভাগের রিপোর্টারদের বাদ দিয়ে আরটিভি থেকে সদ্য যোগ দেওয়া এক উপস্থাপিকাকে সেখানে বসানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। শাফায়েত হোসেন ও রুশায়েদ আহসানের সেই কথোপথন রয়েছে আমাদের কাছে।

একই কথোপকথনে উঠে আসে আরো দুই প্রযোজকের নারীঘটিত প্রসঙ্গ, এমনকি এক সাবেক সচিবের নামও আলোচনায় আসে।

তদন্তে দোষী, পদত্যাগের নির্দেশ : গোপন তথ্য ফাঁসের পর ডিবিসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়। শাফায়েত হোসেনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং গঠন করা হয় চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়। অবশেষে চাকরিচ্যুত হন শাফায়েত।

চাকরি হারিয়েও থামেননি : চাকরি হারানোর পরও থেমে নেই তার তৎপরতা। সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে চ্যানেল ওয়ানসহ দেশের একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে নতুনভাবে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন তিনি। একই সাথে পুনরায় ডিবিসিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রতিদিনই তাকে দেখা যাচ্ছে ডিবিসি অফিসের আশেপাশে।




সৌদিতে হজে গিয়ে আরও ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় আরও তিন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের (২৬ মে) হজ বুলেটিন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

নতুন এই তিনজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছর সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেলেন, যাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন হজযাত্রী হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মো. আফরান আলী, সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মো. আবদুর রহমান এবং নরসিংদীর রায়পুরার মো. হারুন-উর রশীদ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তিনজনই মক্কায় স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে আজ মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং মিনায় লাখো হাজির সমাগম ঘটেছে।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৯ হাজার১৬৪ জন হজযাত্রী হজে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার৯২৬ জন সৌদি আরব গেছেন।




ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।




দুপুরের মধ্যে ৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঢাকাসহ দেশের নয়টি জেলার ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝড়-বৃষ্টির এই আকস্মিক আশঙ্কার কারণে সংশ্লিষ্ট এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শুধু দুপুরের এই ঝড়ো হাওয়া নয়, বরং চলতি সপ্তাহজুড়েই দেশের সবকটি বিভাগে কম-বেশি ঝড়-বৃষ্টির একটি ধারাবাহিক প্রবণতা বজায় রয়েছে। সেই সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।




আজ পবিত্র হজ

ডেস্ক নিউজঃ ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আজ আরাফার প্রান্তর। আজ ৯ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) মঙ্গলবার পবিত্র হজ। ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফার দিন। এদিন মক্কা নগরীর জাবালে রহমত পাহাড়ের চূড়া থেকে আরাফাতের ময়দানজুড়ে দণ্ডায়মান বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সাদা-কালো-ধনী গরিব নির্বিশেষে প্রায় ১৮ লাখ হাজি। সবার রোদনভরা কণ্ঠে একটাই ধ্বনি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়াননি’ মাতা লাকা ওয়ালমুলক; লা শারিকা লাক’। অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই। সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ শুধু তোমার ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের জন্য আমরা এখানে সমবেত হয়েছি প্রভু। আজ ফজরের নামাজ আদায় শেষে মিনা থেকে হাজিরা সমবেত হবেন এই আরাফাতের ময়দানে। হাজিদের (পুরুষ) পরনে শুধু সেলাইবিহীন সাদা দুই খণ্ড বস্ত্র (এহরাম)। এখানে তারা সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই সেই ময়দান যেখানে প্রায় দেড়হাজার বছর আগে দাঁড়িয়ে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্য খুৎবা দিয়েছিলেন আল্লাহর প্রিয় হাবিব, নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিদায় হজের খুৎবায় নবীজি ঘোষণা করেছিলেন, আজ থেকে ইসলামকে পরিপূর্ণ ধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহতালার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। আজ হাজিদের মননে যেন বিদায় হজের সেই ভাষণের অনুরণন।

আজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শাইখ আলী আল হুজাইফি। সমবেত হাজিরা এখানে হজের খুতবা শুনবেন। আরবি ভাষায় দেওয়া তার এই ভাষণ বাংলাসহ বিশ্বের ২০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। তার ইমামতিতে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন হাজিরা। মুজদালিফায় পৌঁছে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। সেখানে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন এবং সেখান থেকে শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করবেন। আগামীকাল বুধবার ১০ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) সেখানে পালিত হবে ঈদুল আজহা। স্থানীয় যারা পবিত্র হজ পালন করেননি তারা ঈদের নামাজ পড়বেন ও কোরবানি করবেন। হাজি সাহেবানরা ফজরের নামাজ শেষে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরে আসবেন। এরপর রামি আল জামারাহ আল আকাবাহ বা বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। তারপর পশু কোরবানি হয়ে গেলে পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে মক্কা নগরীতে ফিরে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করবেন। এটি তাওয়াফ আল ইফাদা বা হজের প্রধান তাওয়াফ হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর আবার মিনায় ফিরে ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) পর্যন্ত রামি আল জামারাহ ছোট শয়তানদের পাথর মেরে হজের মূল কার্যক্রম  শেষ করবেন। পরে পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। সৌদি মুয়াল্লিমরা ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়) তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন তাওয়াফ আল ইফাদা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে থাকেন। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ৮ জিলহজ (সৌদি আরবের স্থানীয় সময়)  জহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান ও কসরের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাত। তবে লাখ লাখ হাজিদের সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনের সুবিধার্থে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতেই হাজিদের মিনায় নিয়ে আসেন। সোমবার সারা দিন ও রাত মিনায় হাজিরা নিজ নিজ তাঁবুগুলোতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি ও নারী পুরুষ নির্বিশেষে গুনাহ মাফ ও পাপ মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজ পড়ে হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম প্রধান হজ। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের ১৮ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার সৌভাগ্যলাভ করেছেন।




সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে কোটি টাকা লোপাট, দুই গাড়িতে ৩১ চালক! গণপূর্তের ই/এম জোনে অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম পি অ্যান্ড ডি জোনকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ অনিয়ম, ক্ষমতার
অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের অভিযোগ। এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান। তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পরোক্ষ ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, অডিট আপত্তি ধামাচাপা এবং দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ধানমন্ডীর বাসিন্দা এলাহী নেওয়াজ খান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে : অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, মো. আলমগীর খান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকা শহরে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর থাকারও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এসব সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে কানাডায় বাড়ি ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করে নিয়মিত কর ফাঁকির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। সাভার স্মৃতিসৌধে ‘কাগুজে’ সিসি ক্যামেরা প্রকল্প! অভিযোগে সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পের অনিয়ম।

অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-৬ কোনো কার্যকর সিসি ক্যামেরা স্থাপন না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেছে। অডিট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুন মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি কার্যাদেশ দিয়ে ১৬ চ্যানেলের ডিডিআর, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ডিসপ্লে মনিটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্থাপনের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করা হয়। অথচ পরবর্তীতে অডিট কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রকল্পের বাস্তব কোনো কার্যকারিতা নেই ।

অডিট প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পর্যাপ্ত কারিগরি জনবল থাকার পরও সিস্টেমগুলো সচল করা হয়নি, কিন্তু অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের মতে, “এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের একটি সংগঠিত চিত্র।”

দুটি গাড়ি, কিন্তু ৩১ চালক! ই/এম বিভাগ-৮ নিয়েও উঠেছে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি নথি অনুযায়ী, বিভাগটিতে সচল রয়েছে মাত্র দুটি গাড়ি। অথচ ওই দুই গাড়ির বিপরীতে নিয়মিত ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু এই খাতেই বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথাকথিত চালকের বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ নামই কাগজে-কলমে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। তার ভাষ্যমতে, “ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।” অডিট রিপোর্টেও মিলেছে অনিয়মের প্রমাণ : অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত একাধিক অডিট রিপোর্টে আর্থিক অসঙ্গতি, অতিরিক্ত ব্যয়, নথিগত গরমিল এবং অনিয়মের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্টরা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে মো. আলমগীর খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদায়ন নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক আনুগত্য ও বিশেষ গোষ্ঠীর সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে। ফলে অতীত সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা বিতর্কিত প্রশাসনিক বলয় এখনও সক্রিয় থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে।

বক্তব্য মেলেনি: অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আলমগীর খান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত দাবি : সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত। তাই দুদক, বিএফআইইউ এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।

একই সঙ্গে অভিযোগে উত্থাপিত সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, বিদেশে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট করারও দাবি উঠেছে।




বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: খোন্দকার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি নারী সাংবাদিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাংবাদিক নেতা খোন্দকার আলমগীর হোসেন-এর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলন, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও দীর্ঘদিন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, এমন অশ্লীল ও চরিত্র স্থলনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে “নারী সাংবাদিক ঐক্য” ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক আয়শা সিদ্দিকা ও সদস্য সচিব জেসমিন জুই বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে জেসমিন জুই বলেন, “এমন কলঙ্কিত ব্যক্তি যদি জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে নারী সাংবাদিকরা শঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করেন।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় খোন্দকার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও ক্যামেরাপারসন উপস্থিত ছিলেন।




বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।




ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফুয়াদ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। এসময় ওই এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত চেষ্টা চলছে।




ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭ টায়

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সোমবার জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ঈদগাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় ঈদগাহে ময়দানের ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল না থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে স্থানান্তরিত করা হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগায়ে প্রবেশের পথ থাকবে চারটি, বের হওয়ার পথ থাকবে মোট সাতটি। ঈদের জামাতে জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণ মোট ১২১টি কাতার করা হচ্ছে। পাশেই অজুখানা রাখা হয়েছে এখানে ১৪০ জন করে মুসল্লি একসঙ্গে অজু করতে পারবেন।

জাতীয় ঈদগাহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় ঈদগাহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।