কারিনা কায়সারকে লিভার ডোনেট করবেন তার ভাই

বিনোদন ডেস্কঃ লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেয়ার পর শুরু হয়েছে নতুন চিকিৎসা-প্রক্রিয়া। তিনি বর্তমানে চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রথমে তার ফুসফুসের সমস্যার চিকিৎসা করা হবে, এরপর ধাপে ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কায়সার হামিদ বলেন, তার ছোট ছেলে সাদাত হামিদের সঙ্গে কারিনার রক্তের গ্রুপের মিল রয়েছে। তবে দুই ভাইয়েরই রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে।

এর আগে, গত সোমবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিনাকে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নেয়া হয়। তার সঙ্গে রয়েছেন মা ও দুই ভাই।




পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

ক্রীড়া ডেস্কঃ দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই অভিনন্দন বার্তা দেন।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পায় টাইগাররা। তাদের আন্তরিক অভিনন্দন।’

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পায় টাইগাররা।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ দুটি টেস্ট তাদের দেশেই জিতেছিল বাংলাদেশ; এবার জয় দেশের মাটিতে। দলটির বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় টাইগারদের।

মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানে।




দেশের আট জেলায় বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের আট জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার (১১ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




ঈদুল আজহার আগাম টিকিট বিক্রি শুরু, আজ মিলছে ২৩ মে’র টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আগামী ২৩ মে’র টিকিট দেওয়া হচ্ছে। কালোবাজারি রোধ ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা।

ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে পাঁচ দিনের ট্রেনের আসনের টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৪ মে, ২৫ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৫ মে, ২৬ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৬ মে এবং ২৭ মে’র আসনের টিকিট বিক্রি হবে ১৭ মে।

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী ঈদ অগ্রিম যাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন এবং প্রতি ক্ষেত্রে সর্বাধিক চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম যাত্রার টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

যাত্রীদের অনুরোধে যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।

এদিকে, ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে।




শিক্ষার মান সম্পর্কে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্পষ্ট ধারণা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বর্তমানে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও শতাধিক হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন কারিকুলাম ও আউট লার্নি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে বিদেশ থেকে শিক্ষকরা এসে পড়াতেন, শিক্ষার্থীরা আসতেন। এখন কিন্তু সে পর্যায়ে নেই। এখন দেশে ১১৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ওপেন ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই শিক্ষাব্যবস্থা আবারও ঢেলে সাজাতে হবে।
পাবলিক ইউনিভার্সিটি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে গেছি। কোয়ালিটিতে কতটুকু পেরেছি, আমরা জানি না। তাই নীড বেসিস এডুকেশন নিয়ে ভাবতে হবে।



হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হাম এবং উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরমধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৬ এবং হামে ৩ শিশু মারা গেছে।

একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১১০৫ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ শিশুর।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয় সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।




চট্টগ্রাম বন বিভাগে দুর্নীতির ছড়াছড়ি, বনভূমি দখল আর কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। বছরের পর বছর এসব অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে বন বিভাগের ভেতরে ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়ছে।

সাবেক বন সংরক্ষক (সিএফ) বিপুল কুমার দাশের সময় থেকেই নানা অনিয়ম নিয়ে আলোচনা ছিল। পরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্ল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ইচ্ছামতো রেঞ্জ পরিচালনা করছেন এবং বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও অনিয়মের ঘটনায় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সম্প্রতি কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ অফিস থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে দ্রুত ১৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই গর্জন গাছ কেটে পাহাড়ি বনভূমি দখল করা হলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ছিলেন। ঘটনাস্থলের খুব কাছেই রেঞ্জ অফিস থাকলেও দখল ঠেকাতে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। এমনকি ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা বা বিট কর্মকর্তাদের এলাকাতেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘবদ্ধ একটি চক্র কয়েকদিন ধরেই বনভূমি দখলের কাজ চালায়। বন বিভাগের সামনেই গাছ কেটে ঘর নির্মাণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, বন কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় দখল সম্ভব নয়। পরিবেশবাদীরাও আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান না চালালে সংরক্ষিত বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হয়ে যেতে পারে।

এদিকে “সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)” প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বাগান তৈরি না করেই প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের ভেতরে আলোচনায় থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি। বরং প্রধান অভিযুক্তদের একজন সাদেকুর রহমানকে শাস্তি না দিয়ে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে দ্রুত বর্ধনশীল বাগান তৈরির নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো হয়নি। পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারাগাছের হার ছিল মাত্র ৬০ শতাংশের কিছু বেশি, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮০ শতাংশ থাকার কথা। আরেকটি ১০ হেক্টরের বাগানে চারার হার পাওয়া যায় প্রায় ৫০ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয় যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের গাফিলতি ও অর্থ লোপাট হয়েছে।

এ ঘটনায় উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তাদের কাছে দায়ীদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠালেও অভিযোগ রয়েছে, সেই তালিকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়। বন বিভাগের ভেতরে আলোচনা রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাঁচাতে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনও অভিযোগ আছে যে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটকে প্রভাবিত করতে ঘুষ লেনদেন হয়েছে।

দুর্নীতির ঘটনায় যাদের নাম সামনে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, উপবন সংরক্ষক (ডিসিএফ) এস.এম. কায়চার এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন। অভিযোগ রয়েছে, বনায়নের নামে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এস.এম. কায়চার বর্তমানে চট্টগ্রামে, সাদেকুর রহমান কক্সবাজারে এবং জয়নাল আবেদীন সিলেটের হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাদেকুর রহমান দায় এড়িয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে এস.এম. কায়চারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। আর জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি অভিযুক্ত হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না।

সব মিলিয়ে বন বিভাগের ভেতরে দুর্নীতি, বনভূমি দখল, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের যোগসাজশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশের সংরক্ষিত বনভূমি আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।




কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়ক উঁচু করায় পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, ড্রেন নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর আবেদন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাপাসিয়া-চাঁদপুর সড়কটি নতুন করে সংস্কার ও উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করা এই ব্যস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজকে ঘিরে এখন এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি আগের চেয়ে অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সড়কের দুই পাশের বসতবাড়িগুলো নিচু হয়ে পড়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘরে পানি ঢুকছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে মক্কা রাইচ মিল এলাকার সামনে সড়কটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি অংশ গেছে রানীগঞ্জ বাজারের দিকে এবং অন্য অংশটি চাঁদপুর হয়ে কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকায় সংযুক্ত হয়েছে। এই দুই সড়কের মাঝখানে প্রায় ১০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। নতুন করে সড়ক উঁচু করায় ওইসব পরিবার এখন মারাত্মক জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামনে ভারী বর্ষণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং শত শত পরিবার দীর্ঘমেয়াদে পানিবন্দী হয়ে পড়বে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মক্কা রাইচ মিল থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে একটি পুরোনো ড্রেন রয়েছে। যদি নতুন সড়কের সঙ্গে সেই ড্রেন সংযোগ করে একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তাহলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে। তাদের দাবি, দ্রুত ড্রেন নির্মাণ না করলে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বর্ষার পানির চাপে নতুন সংস্কার করা সড়কটিও অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইতোমধ্যে গাজীপুর এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনগণের সুবিধার জন্য সড়ক সংস্কার করা হলেও সেই উন্নয়ন যদি মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করে, তাহলে এমন উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না। তাদের একটাই দাবি—সড়কের একপাশ দিয়ে দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা হোক।




হরমুজ পাড়ি দিতে ইরানের ‘নতুন নিয়ম’, অনুমতি ছাড়া চলবে না কোনো জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাইলে প্রতিটি জাহাজকে আগে তেহরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তেহরান। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এবার সেই প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো চালু করেছে ইরান। নৌপরিবহনবিষয়ক সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ)’ ইতোমধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে আগে অনুমতি নিতে হবে এবং টোল পরিশোধ করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ‘নৌযান তথ্য ঘোষণা’ ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের মালিকানা, বীমা, ক্রু সদস্য, বহন করা পণ্য, কোন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে, কোথায় যাবে— এসবসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাইয়ের পরই মিলবে চলাচলের অনুমতি।

তবে টোলের পরিমাণ কী হবে বা কোন ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ‘সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মাবলি বিভিন্ন জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার সম্পূর্ণ দায় আবেদনকারী জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। তবে কোনো দেশ বিশেষ সুবিধা পাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান।

এর আগে, গত শনিবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে নতুন আইনি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছি। এখন থেকে কোনো নৌযান এই পথ ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

সূত্র : এনডিটিভি




১৩ রানের জন্য বিশ্ব রেকর্ড হাতছাড়া করলেন শান্ত

ক্রীড়া ডেস্কঃ চলমান মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের খুব কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ১৩ রানের জন্য ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি মিস করেছেন এই টাইগার অধিনায়ক। সেইসঙ্গে বিশ্ব রেকর্ডও হাতছাড়া করেছেন শান্ত।

পাকিস্তানকে বড় টার্গেট দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাট করছিল বাংলাদেশ। এবারও অধিনায়ক শান্ত ব্যাট হাতে নেতৃত্বের কাতারে। কিন্তু বাঁ-হাতি স্পিনার নোমান আলির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মিস করেছেন তিনি। ফলে বল তার প্যাডে আঘাত করলে আবেদনে সাড়া দিয়ে লেগ বিফোর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি শান্ত’র। ১৫০ বলে তাকে ৮৭ রানে ক্রিজ ছাড়তে হয়েছে।

এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে দু’বার দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েছে শান্ত’র। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই মিরপুরেই তিনি যথাক্রমে ১৪৬ এবং ১২৪ রানের দুটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন শান্ত। খেলেছেন ১৪৮ এবং ১২৫ রানের ইনিংস।

মিরপুরে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে তৃতীয়বার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিলেন শান্ত। তেমন কিছু হলে বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে তিন টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাতেন টাইগার অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে কেবল তিন ক্রিকেটার তিনবার করে এই কীর্তি গড়েছেন– সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। ১৩ রানের জন্য সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ হাতছাড়া হলো শান্ত’র।