গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ কাইল্লা পলাশ মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজঃ রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’।

শুক্রবার (২০ জুন) রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তার বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায়। তিনি যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় দণ্ডিত ছিলেন।

পলাশ এক মাস আগে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

গত ১২ জুন জুমার নামাজের পর রামপুরা ব্রিজ-সংলগ্ন একরামুন্নেছা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে পলাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, জুমার নামাজ পড়ে নিজ বাসভবনের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন পলাশ। এ সময় আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরপর তাকে দুই রাউন্ড গুলি করা হলে এক রাউন্ড গুলি তার মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




দুপুর ১টার মধ্যে দেশের ৯ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।

এছাড়া আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি বলেও জানানো হয় পূর্বাভাসে।

অপরদিকে আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রায় শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।




আজ ঢাকার বায়ুমান ‘মাঝারি’, দূষণে শীর্ষে জাকার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলায় বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও। ঢাকার বাতাসের মান বছরের বেশিরভাগ সময়ই ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকে। শীতকাল তথা শুষ্ক মৌসুমে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃষ্টি দিন বা বর্ষাকালেও নিয়মিতভাবে ভালো বাতাস পাচ্ছে না নগরবাসী। গত কয়েকদিনের বায়ুদূষণের স্কোর সেই চিত্রই তুলে ধরছে। সেই ধারাবাহিকতায় দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান আজ ১৬, এর বায়ুমান স্কোর ৮৬, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ বায়ু নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজও শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। বায়ুমান সূচকে শহরটির স্কোর ১৭০, অর্থাৎ এখানকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার অবস্থান আজ ১৬; এর বায়ুমান স্কোর ৮৬, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ পর্যায়ের নির্দেশক। তবে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। বায়ুমান সূচকে শহরটির স্কোর ১৭০, অর্থাৎ এখানকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

একই সময়ে স্কোর ১৬১ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের শহর লাহোর, স্কোর ১৬০। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসা, এর বায়ুমান স্কোর ১৫৬। এ ছাড়া স্কোর ১১৮ নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে ‘বায়ুর মান ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।




ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন ট্রাম্প: নিউইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তির প্রাথমিক যে রূপরেখা এসেছে, তা স্বাগত জানানো হলেও এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক- তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে ওয়াশিংটনকে।

সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ধরনের কৌশলগত ভুল ছিল। তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, ট্রাম্প যে কঠোর শর্তগুলো আদায়ের কথা বলেছিলেন, তার বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আপসের সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বারবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে এবং ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি দাবি করেছিলেন, ইরানকে কোনওভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনও টিকে আছে। পারমাণবিক ইস্যুতে আগামী দুই মাস ধরে আলোচনার কথা থাকলেও বর্তমান চিত্রে এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোনও সমঝোতায় গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা ওই চুক্তিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, ওই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছে এবং দেশটিকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য করছে না। কিন্তু সামরিক সংঘাতের পর এখন প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে যেতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্পের একমাত্র বড় সাফল্য?
যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে এবং তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া। ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করেছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান দেখিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি, তবে কৌশলগত সুবিধা
চার মাসের যুদ্ধে ইরানও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষে ইরান নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের দীর্ঘদিনের সংকটগুলোও এখনও রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মুদ্রার মূল্যহ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে কূটনৈতিক অবস্থান ছিল না, সংঘাতের পর ইরান সেটি ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরান দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও তারা টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতাও তারা প্রমাণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে ধাক্কা
এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিপুল সামরিক শক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

এতে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে দুর্বল ছিল ইরান
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সরকারও পতনের মুখে পড়ে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ইরান নতুন করে দর-কষাকষির অবস্থানে ফিরেছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ভবিষ্যতে যদি ইরান আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দেয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে? সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস




বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হাইতির

ক্রীড়া ডেস্কঃ ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের পরই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে হাইতির। ব্রাজিলের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর বিশ্বকাপের প্রথম বিদায়ী দল হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিরা।

এর আগে, নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে চাপে পড়ে হাইতি। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও শক্তিশালী ব্রাজিলের সামনে তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। টানা দুই পরাজয়ে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

গ্রুপ পর্বে হাইতির এখনো একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। কিন্তু বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

কারণ, সমান পয়েন্ট হলে সবার আগে বিবেচনায় নেওয়া হবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল। উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারায় পয়েন্টে সমতা এলেও স্কটিশদের পেছনেই থাকতে হবে হাইতিকে। ফলে শেষ ম্যাচের ফল যাই হোক, পরের পর্বে ওঠার দরজা তাদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপের চিত্র এখন বেশ স্পষ্ট। ব্রাজিল ও মরক্কো চার পয়েন্ট করে নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের ঝুলিতে আছে তিন পয়েন্ট।

এ অবস্থায় হাইতি শেষ ম্যাচ জিতলেও সর্বোচ্চ তিন পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় তারা কোনোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের অতিক্রম করতে পারবে না।

এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে। ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরের পর্বে উঠবে। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।

এই বিস্তৃত কাঠামো অনেক দলের জন্য সুযোগ বাড়ালেও হাইতির জন্য কোনো আশার আলো রাখতে পারেনি। দুই ম্যাচেই ব্যর্থতার কারণে তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া প্রথম দল।




বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১৯ জুন) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বগুড়ার এই দুই ইউনিয়নের নাম আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে ।’

সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরূপ সমালোচনার পরে প্রতিমন্ত্রী নিজেও বিব্রত বোধ করেন। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে কোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যা বা অপপ্রচারের সুযোগ না রাখতে তিনি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানান।

এর আগে ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’।

অন্যদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’। তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

নামকরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তোলা হয়।

সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকা গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ রাখা হয়েছে। অন্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ‘দিগন্ত’ নাম দেওয়া হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে তিনি কাকতালীয় বলে দাবি করেন।




মালয়েশিয়ায় উন্মুক্ত শ্রমবাজার ও অবকাঠামো নির্মাণে চীনা সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়া দিয়ে। আগামীকাল রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাত্ ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনব্যাপী মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হতে পারে।

একাধিক জনশক্তি রপ্তানিকারক এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আগামী ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং যাবেন। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে ঢাকায় ফিরবেন। চীন সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবকাঠামো খাতে সেতু, উড়ালসড়ক ও পাতাল রেল নির্মাণসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গতি আরো বাড়বে, যার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতার অবসান ও বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের বিষয়ে আজ শনিবার প্রেস বিফ্রিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে কোন দেশে যাবেন, তা নিয়ে গত তিন মাস নানা আলোচনা চলছিল। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে একটি সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে সরকারপ্রধান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় প্রথম সফর বেছে নিলেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে :প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কালচারাল এবং তথ্য ও সম্প্রচার সংক্রান্ত দুটি এমওইউ সই হতে পারে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম, এফটিএ নেগোসিয়েশনসহ আরো কয়েকটি নোট অব এক্সচেঞ্জ করা হতে পারে। মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসনসহ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই সরকারপ্রধান আলোচনা করবেন। মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ কয়েকটি কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

মালয়েশিয়া থেকে চীন যাবেন প্রধানমন্ত্রী :২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি, উদ্ভাবন, টেকনোলজি এবং এশিয়ার ভবিষ্যত্ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন। এখানে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকবেন। ফোরামের ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সাইড লাইন বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান থেকে বিকালে বুলেট ট্রেনে তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং যাবেন। সূত্রমতে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকও হবে বলে জানা গেছে। একই দিনে তিনি আরো কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে ঐ দিন ঢাকায় ফিরবেন সরকারপ্রধান।

চীনের সঙ্গে সই হবে ১৫টি সমঝোতা স্মারক :পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং উভয়ের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের চীন সফরের নানা কর্মসূচি, আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বেইজিংয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে ঢাকার প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। উভয় দেশ এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক খসড়া বিনিময় করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো দ্রুত মতামত প্রদান ও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য কাজ করছে। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগিতাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এমওইউ সইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথভাবে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ প্রচারে সহযোগিতা পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ থেকে চীনে উচ্চমানের পণ্য রপ্তানির যৌথ কর্মপরিকল্পনা, মুক্ত বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সমর্থনের জন্য সমঝোতা স্মারক, সবুজ উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, চীন ও বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কাঠামো চুক্তি, মোংলা সুবিধা প্রকল্প, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতাসহ আরো কয়েকটি এমওইউ সই হতে পারে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হওয়ার আশা :প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে এখনো কোনো খবর জানা নেই। তবে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে এটি হতেও পারে। শিগিগরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য তার কাছে নেই।

গত ২ জুন সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তির বাজার বন্ধ বাংলাদেশের। ঐ বছর মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মের মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। ঐ তারিখের পর থেকে আর কোনো কর্মী যেতে পারেননি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায় দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজারটি খোলার কথা বলে আসছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথম বার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। এরপর ২০১৬ সালে শ্রমবাজারটি আবার খোলা হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর ২০২২ সালে বাজারটি আবার খুললেও ২০২৪ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে সই করা সমঝোতায় স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চললে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারে। কারণ ঐ চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা মালয়েশিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। এটি হলে অতীতের সেই বিতর্কিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি হবে।

২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দেয়। তাতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে কর্মী পাঠাতে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তালিকা চাওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়াকে অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। এই শর্তগুলো হলো— গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার প্রবাসীকর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা ও তিন বছর ধরে অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের একটি স্থায়ী অফিস স্পেস থাকা। বাকি শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—অন্তত পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স থাকা, কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট ও বলপূর্বক শ্রম বা মানব পাচারে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড না থাকা। বাংলাদেশে আড়াই হাজার এজেন্সি সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগভিত্তিক উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। গত ১৭ জুন রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বায়রার ৬৫ জন সদস্যের পক্ষে এই দাবি জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কুয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার অন্তত দুজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে পারেন। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার খোলার একটি বিষয় আছে সেজন্য অভিবাসন ইস্যু অগ্রাধিকারে থাকবে। এ ছাড়া, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্য, সুনীল অর্থনীতি, আসিয়ান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের সহযোগিতার মতো নানা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।

উল্লেখ্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের (২০২৫) আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলন। এর আগে ২০২৪ সালে অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম ঢাকা সফর করেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে শ্রমবাজার, কলিং ভিসা, অবৈধ কর্মীদের বৈধতা এবং প্রবাসীদের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে। কুয়ালালামপুরের ভেস্ট-মার্কেটিং এসডিএনবিএইচডির পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশটিতে সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকার যদি সরাসরি এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কম খরচে বিদেশে আসার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ আছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ বিদেশে শ্রম বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট বন্ধসহ ছয় দাবিতে মানববন্ধন: মালয়েশিয়ায় অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষায় সংস্কার এবং শ্রমিকদের শোষণকারী রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট বিলুপ্তসহ ছয় দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মালয়েশিয়াফেরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষ্যে এসব সমস্যায় শীঘ্রই সমাধান চাওয়া হয়েছে। গত বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক’ ব্যানারে বাংলাদেশ থেকে মালেশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের ওপর চলমান ঋণদাসত্ব, এজেন্সিগুলোর দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তুলে ধরা হয়। মালয়েশিয়ায় ১৪টি উত্স দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ হলেও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ভিত্তিক নিয়োগ হয়ে আসছে। শ্রমিকদের পাসপোর্ট জব্দ, বেতন কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টাসহ মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং অস্তিত্বহীন নিয়োগকর্তার বিষয়ে অভিযোগ জানান তারা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহিতা, কার্যকারিতা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে জোর দেয়া হয়। এ সময় সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে স্থায়ী ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়।




ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি: ইসরায়েলি কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে এই অভিযান শুরু করার বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক হতো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই-২৪ নিউজ’-এ দেওয়া ওই কর্মকর্তার এমন বক্তব্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এটাই ইসরায়েলের জন্য বড় কৌশলগত পরাজয়। দেশটির প্রবীণ সামরিক সাংবাদিক অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘নাটকীয় ও সুদূরপ্রসারী’ ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তবে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নস্যাৎ করা এবং ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের ওই ১২ দিনের অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে একটি নিশ্চিত পারমাণবিক হুমকি থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং এই অঞ্চলে হুমকি মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ চালিয়ে যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ কমেনি। অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যয়বহুল ও অনিষ্পন্ন যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।




জয় পেয়েও ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড কোচ

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে অভিষেকটা জয় দিয়েই রাঙিয়েছেন টমাস টুখেল। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় নিজের খেলোয়াড়দের দেখতে না পেরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড কোচ।

বুধবার টেক্সাসের আরলিংটনে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগে ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ বাজানো হচ্ছিল। সেই সময় দুই দলের বেঞ্চের সামনে অবস্থান নেওয়া ফটোগ্রাফারদের কারণে নিজের দলের খেলোয়াড়দের দেখতে পাচ্ছিলেন না টুখেল।

বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে ফিফার কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন জার্মান এই কোচ। তার মতে, জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের দেখার মুহূর্তটি ছিল বিশেষ, কিন্তু ফটোগ্রাফারদের অবস্থানের কারণে সেই অভিজ্ঞতা নষ্ট হয়েছে।

টুখেল বলেন, ‘আমি ফিফার কাছে অনুরোধ করছি, ফটোগ্রাফারদের অবস্থান পরিবর্তন করা হোক। জাতীয় সঙ্গীতের সময় আমি আমার দলকে দেখতে পারিনি। অথচ আমি এই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

জাতীয় সঙ্গীত চলাকালে কয়েকবার ফটোগ্রাফারদের সরে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন না আসায় শেষ পর্যন্ত কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে চোখ রাখতে হয় তাকে।

এ নিয়ে হতাশা লুকাননি ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আজকের মুহূর্তটি আমার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। কিন্তু আমার সামনে মাত্র আধা মিটার দূরে প্রায় ৫০ জন ফটোগ্রাফার দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি একজন খেলোয়াড়কেও দেখতে পাইনি। এটা আমার অভিজ্ঞতাটাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে ইংলিশরা। আগামী মঙ্গলবার ঘানার মুখোমুখি হবে তারা। এর চার দিন পর পানামার বিপক্ষে খেলবে হ্যারি কেইনের দল।




রাত ১টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাতের মধ্যে দেশের ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান-এর দেওয়া সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।