টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ: সুনামগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে “গ্রীন কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পূর্ববর্তী শাসনামলে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় থেকে যায়, যার মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রীন কনস্ট্রাকশন—এমনটাই দাবি করছেন একাধিক ঠিকাদার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মচারী।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ :
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, অধিকাংশ দরপত্রে কার্যত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, দরপত্রে অংশ নিতে গেলে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে “ম্যানেজড টেন্ডার” ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ কাজ এককভাবে গ্রীন কনস্ট্রাকশনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিম্নমানের কাজ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ :
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

পানি সরবরাহ লাইন, টিউবওয়েল স্থাপন, পাইপলাইন নির্মাণ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, “কাগজে-কলমে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে অনেক স্থানে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।”

প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এসব অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের প্রভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকেনি।

তদন্তের দাবি জোরালো :
স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা স্বত্বাধিকারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ এবং কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু।

এদিন, দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।

এর আগে গত ২২ জুন রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র।

এছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।

আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দু’জন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দু’জন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।




সিলেটে পৌঁছালো কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর মরদেহ

ডেস্ক নিউজঃ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর মরদেহ সিলেটে কফিনবন্দি হয়ে পৌঁছায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মঙ্গলবার সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌণে সাতটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। নিহতদের স্বজনরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কফিনগুলো বের হয়ে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহ হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসময় তাদের হাতে চেকও তুলে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো রওয়ানা দেয় কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে। সেখানে যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।




বিআরটিএ উত্তরা ফিটনেস শাখায় অনিয়মের অভিযোগ, আলোচনায় মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা-দিয়াবাড়ি) কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম। একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস শাখার নানা অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল বারবার ফেরত দেওয়া হয়, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় এবং সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

একাধিক পরিবহন মালিকের দাবি, সরকারি ফির বাইরে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয় যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। পরিবহন মালিক আজম, মালেক, আব্দুল গনি ও সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। তাদের দাবি, কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা থাকলেও তা বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, “নিয়ম মেনে গেলে কাজ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।” আরও অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিছু যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা ঘটলে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।

একাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম উল্লেখ করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিটনেস শাখার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কায়সার আলম বলেন, “আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অতীতেও বিআরটিএতে ফিটনেস সনদ, দালালচক্র ও ঘুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের গণশুনানি, ২০১৮ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথাও জানা যায়।

দূরপাল্লার পরিবহন মালিক, স্থানীয় পরিবহন উদ্যোক্তা ও চালকদের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার কার্যক্রম, বিশেষ করে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, বিআরটিএ সদর দপ্তর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, “আমরা সব অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”




নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই বেতনকাঠামো কার্যকরের মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রোড ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই রোড ম্যাপটি চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে অর্থ বিভাগ।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা থাকলেও, কারিগরি জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাস-এ কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না করতে একবারেই মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করার দিকেই এখন মনোযোগী কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের বা ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেটে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত ঘোষণা দেননি, তবে কর্মকর্তাদের মতে, এই ৪৪ হাজার কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের জন্য ব্যয় করা হবে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সংস্থান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় ধরনের বৃদ্ধির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা দুই ধাপে কার্যকর করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারের সেবামূলক কাজের মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




বাংলাদেশি পর্যটকদের অপেক্ষায় গেদে সীমান্তের ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক নিউজঃ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার এই কার্যক্রম চালুর পর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত চেকপোস্টে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা। একই ধরনের স্বস্তির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও।

একটা সময় দিনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক আসতেন ভারতে। কিন্তু গত দু বছরে শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় সেই সংখ্যাটা কয়েকগুণ কমে যায়। এ অবস্থায় হিলি কিংবা গেদে-দুই সীমান্তের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। ব্যবসায় মন্দার কারণে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়েছে অনেককে।

এবার পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে এক দিকে যেমন পুনরায় বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়বে, তেমনি উভয় সীমান্ত এলাকার ব্যাবসা, বাণিজ্যের উন্নতি ঘটবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

ভারতের হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা বলেন, ‘টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে, ব্যাবসার পরিস্থিতির আগের থেকে অনেকটাই ভালো হবে। আগে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করত। বিগত দুই বছর ধরে ভারত শুধু বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা দিচ্ছিল। যার ফলে এই সংখ্যাটা কমে এসেছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। আমার প্রত্যাশা, এর ফলে আমাদের জেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যাবসা-বাণিজ্য আবার পুনরায় উন্নতি ঘটবে।’

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাদিয়া নামে এক বাংলাদেশি তরুণী বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে একটা অনেক ভালো লাগার বিষয়। কারণ, আমরা দীর্ঘ দুই বছর পর টুরিস্ট ভিসা চালু হতে চলেছে। আমি নিজেও মেডিকেল ভিসা নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলাম। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আশা করি, সামনের বার যখন আসবো, তখন মেডিকেল ভিসা নয়, সরাসরি ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারব।’

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার জানান, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। আর্থিক দিক দিয়ে এই স্থল বন্দরের উন্নতি হবে। কারণ গত দুই বছর ধরে এটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া ভিসা কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকেও বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হচ্ছিল। টুরিস্ট ভিসা চালু হলো, আশা করা হচ্ছে অন্য ভিসাও চালু হবে।’




কর্ণফুলী টানেলে আয়ের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়: সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টোল আদায় হয়, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে তার প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী টানেল থেকে মাসিক গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।

তিনি জানান, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার কারণে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, টানেল চালুর পর প্রথমদিকে প্রতিদিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতো। তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের ব্যয় কমিয়ে বর্তমানে দৈনিক ব্যয় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। টানেলকে লাভজনক করতে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০-এর সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার করিডরে দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি আরও উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সংরক্ষিত আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে মহাসড়কের পরিবর্তে স্থানীয় ফিডার সড়কে সীমাবদ্ধ রাখতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং কঠোর রুট নিয়ন্ত্রণসংবলিত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহন পরিচালনা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং নবায়ন করা হয়নি, সেগুলো সড়ক থেকে অপসারণ ও নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে। আর যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে, সেগুলোর নবায়ন কার্যক্রম চলছে। এসব যানবাহনের তালিকা পুলিশের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মালিকদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সম্ভাব্য তিনটি রুট বিবেচনায় রয়েছে—বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ, গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডর।

এদিকে সংরক্ষিত আসন-১১-এর সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরের তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে বুয়েটের সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এসব ক্রসিংয়ে ক্যামেরা ও স্মার্ট গেট সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।




দেশের ২০ অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ২০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর নৌযান চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পাশাপাশি ঝড়ো আবহাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।




এবারের বাজেট হবে বাস্তবমুখী, সব মানুষের জন্য আনবে স্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে এবারের বাজেট।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন)-এর ১৮তম কার্যদিবসে নিজের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে ৬১ পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের পর পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে। এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোন নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। প্রস্তাবিত এ বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, দেশের নানামুখী সংকটকে অস্বীকারও করতে চাই না, আবার অযুহাতও বানাতে চাই না। অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি৷ যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের কারণেই আমরা সংসদে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারছি৷ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা চাপিয়েছে বিগত সরকার। এ বোঝা জনগণকে অনেক বছর টানতে হবে।

‘ঋণ নয়, উৎপাদন হবে বিনিয়োগ নির্ভর। এমন একটি দেশ গড়তে চাই, তরুণরা যেনো নিজেই নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।




নবম পে স্কেল: জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশীত নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জানা যায়, চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি শুরুতে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল।

সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে এভাবে পে-স্কেল কার্যকর করতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অনেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে নতুন বেতনকাঠামোর ৫০ শতাংশ কার্যকর করলেও প্রকৃত বেতন বাড়বে খুব সামান্য। কারও কারও মোট বেতন কমেও যেতে পারে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আপত্তি জানালে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। এখন আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, সরকারের আর্থিক সংগতি থাকলে নতুন বেতন কাঠামো একবারেই বাস্তবায়ন করত। তবে তিন ধাপের বদলে দুই ধাপে করতে পারলেও ভালো। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামোর প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।