মেক্সিকোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ১৩

মেক্সিকোর রাজ্য সিনালোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই হামলাকারী গ্রুপের সদস্য। সশস্ত্র ওই গ্রুপটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী ওমার গারসিয়া হারফুচ জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে (স্থানীয় সময়) এ ঘটনাটি ঘটেছে।

হারফুচ জানিয়েছেন, নয়জনকে অপহরণ করা হয়েছিল, অভিযানের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।

সিনালোয়া রাজ্যটি মাদক চোরাকারবারিদের কুখ্যাত চক্র সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাবাধীন। কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। আর এসব অভিযান ঘিরে প্রায়ই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজ্যটিতে সিনালোয়া কার্টেলের উপদলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘাত চলছে। এর মধ্যে সরকারি বাহিনীর অভিযানের কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই রাজ্যটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সরকার।

প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগরে ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী আক্রমণ পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে এই দুই জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে অন্তত ১৫টি কথিত মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস এবং ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: গালফ নিউজ, এফপি




ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ বৈঠক ১৮ নভেম্বর

আগামী ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
সোমবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই সফরে যাচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, যখন সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প।

২০২০ সালে ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কোর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ওই দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সৌদি আরব অবশ্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পদক্ষেপ না হওয়ায় এখনও এই চুক্তিতে যোগ দিতে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে। ট্রাম্প এবং মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস দুই সপ্তাহ আগে জানিয়েছে, আশা করা হচ্ছে মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের সময় দুই দেশ এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ক্রাউন প্রিন্স আসার সময় কিছু স্বাক্ষরের আলোচনা চলছে। কিন্তু বিস্তারিত এখনও পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরব চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের রক্ষা করার আনুষ্ঠানিক গ্যারান্টি এবং অধিক উন্নত অস্ত্রব্যবস্থার সুযোগ পাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় গ্রাহক হলো সৌদি আরব। দুই দেশ দীর্ঘ দশক ধরে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সেখানে সৌদি আরব তেল সরবরাহ করে এবং ওয়াশিংটন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মে মাসে ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের সময়, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রপ্যাকেজ বিক্রি করার বিষয়ে সম্মত হয়। সূত্র: রয়টার্স




জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট, অধ্যাদেশ জারি

নিবন্ধিত দল জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে—এমন বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে সরকার।

সোমবার আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।

এর আগে ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করে। এরপর জোট মনোনীত প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করা নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি ২০ ধারার এ সংশোধন বহাল রাখার দাবি জানায়।

এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই সেই বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হল। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট করতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ সংশোধন আনা হয়েছে আরপিওতে।

আরপিও সংশোধন হওয়ায় এর আলোকে দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা শিগগির জারি করবে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা ইসি।




২ দিনের সরকারি সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দুই দিনের সরকারি সফরে আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (৩ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় পৌঁছবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন তিনি।

আরিফপুর কবরস্থানে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত ও পরে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে অবস্থান, নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎসহ সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।

সফরের শেষ দিন আগামী রবিবার (৯ নভেম্বর) সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, পাশাপাশি পাবনা জেলা প্রশাসককে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করা হয়।




আবু সাঈদ হত্যা : সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পেছাল

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়েছে। সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার পর এ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে আবেদন মঞ্জুর করে নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।,এ প্রসঙ্গে কনস্টেবল সুজনের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষী না আসার অর্থ হলো মামলায় ‘রিলাক্টেন্স অব দ্য প্রসিকিউশন’ বা যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তাদের যথাসময় উপস্থিত করার দায়িত্ব। কিন্তু এটা প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি।

গত ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। তবে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন।  গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন জবানবন্দি দেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক। তারা হলেন- এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল। দুইজনই জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে তাদের জেরা করেন পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে চার স্টেট ডিফেন্সসহ গ্রেফতারদের আইনজীবীরা। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম ও আবদুস সোবহান তরফদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের মতো সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন জবানবন্দি দিয়েছেন তিনজন। ২২ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে প্রথমে ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সিয়াম আহসান আয়ানকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেন আয়ান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনিই আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন। নিজের সাক্ষ্যেও পুরো বর্ণনা তুলে ধরেছেন এই সাক্ষী।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের মতো জেরা শেষ হয়। ওইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমানকে জেরা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দিনে পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তিনি। একইদিন এসআই মো. তরিকুল ইসলামও জবানবন্দি দেন। ৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলামের জেরা শেষ করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ৭ সেপ্টেম্বর তিনি জবানবন্দি দেন। ওইদিন দ্বিতীয় সাক্ষী রংপুরে কর্মরত এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হককেও জেরা করা হয়।

গত ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। একইদিন সাংবাদিক মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন। এ মামলার গ্রেফতার ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৩০ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত চার আইনজীবী। এর মধ্যে পাঁচজনের হয়ে লড়েন আইনজীবী সুজাত মিয়া। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মামুনুর রশীদ। এ ছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম। ২৯ জুলাই তিন আসামির পক্ষে শুনানি হয়। এর মধ্যে শরিফুলের হয়ে লড়েন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। কনস্টেবল সুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইমরানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান।

২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।




ঢাকায় মিলছে বিষধর গোখরার দেখা, কিন্তু কেন?

গত চার মাসে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো’র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মানুষের বাসার ভেতরে, গ্যারেজে এমনকি বহুতল ভবনের নয়তলায়ও সাপ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পদ্মগোখরা, রাসেল ভাইপার, খৈয়া গোখরা, রাজ কেউটের মতো বিষধর সাপও রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্ষাকালে সাধারণত সাপ বেশি দেখা যায়। কারণ সাপ আবাসস্থল হিসেবে যেসব গর্ত তৈরি করে তাতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়লে সে আশ্রয়ের জন্য শুকনো স্থানের সন্ধানে উঁচু স্থান ও মানুষের বসতি বা ঘরে ঢুকে পড়ে।

কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান বলেন, জলাশয় ও খালবিল ভরাট করে মানুষ বাসস্থান তৈরি করায় সাপের বাসস্থান সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সাপ মানুষের বাসায় ঢুকে পড়ছে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব সাপগুলো উদ্ধার করছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংস্থা।

এই সংস্থার আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানিয়েছেন, গত চার মাসে ৩৫১টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি নির্বিষ সাপ এবং বাকিগুলো বিষধর সাপ।

ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বনশ্রী এলাকা। এর মধ্যে নতুন করে খিলগাঁও-এ গত এক সপ্তাহ ধরে সাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, “উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউকের যে ফ্ল্যাট ওখানে সবচেয়ে বেশি সাপ পেয়েছি। সাততলা, নয়তলা থেকে সাপ উদ্ধার করেছি। এখানকার ১১টা বিল্ডিং থেকে সাপ উদ্ধার করেছি।”

এতো উঁচু ভবনে কিভাবে সাপ গেলো এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, যেসব ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর প্রতিটি ভবনের গেইটের সাথে বাগান বিলাসের মতো লতানো গাছ রয়েছে, সেই গাছগুলো বেয়ে উপরে ওঠার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো সাপ বেয়ে উঁচু ভবনে উঠেছে।

যেসব বিষধর সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে পদ্মগোখরা সাপই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান আজাদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানান, “পদ্মগোখরা সাপ মূলত পানিপ্রেমী। নদী, জলাশয়, খাল-বিলে থাকতে পছন্দ করে। তবে, পানির নিকটস্থ ঝোপঝাড় ও গর্তেও এই সাপের দেখা মেলে। ”

গত চার মাসে ঢাকায় পাওয়া সাড়ে তিনশ সাপের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সাপের কামড়ের ঘটনা তেমন দেখা যায়নি। তবে কেন হঠাৎ করে এতো বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপের দেখা মিলছে এমন প্রশ্নে চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান জানান, মানুষ সাপের আবাসস্থল ধ্বংস করায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঢাকায় উদ্ধারকৃত সাপগুলো কোথায় রয়েছে এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আজাদ জানান, উদ্ধারকৃত সাপগুলো উদ্ধারের পর লোকালয় থেকে দূরে প্রাকৃতিক কোনো স্থানে অবমুক্ত করা হয়।

সাধারণত বনাঞ্চল যেখানে সাপ তার নিজস্ব পরিবেশ খুঁজে পায় এবং মানুষের সংস্পর্শে না আসে এমন স্থানে এসব সাপ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।




দেশের তিন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়াও সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন মায়ানমার উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি বিরাজমান রয়েছে।

এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম বরাবর মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে— এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি আদানি পাওয়ারের

আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে পরদিন ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান অবিনাশ অনুরাগ ৩১ অক্টোবর বিপিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানান।

চিঠিতে বলা হয়, বিপিডিবি এখনও ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেনি, যার মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলার বিপিডিবির নিজস্ব স্বীকৃত অপরিশোধিত বিল। যদি ১০ নভেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে আমরা ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হব।

চিঠিতে বলা হয়, ধারাবাহিক যোগাযোগ ও একাধিক চিঠি পাঠানোর পরও (সর্বশেষ ২৭ অক্টোবরের চিঠিসহ) বিপিডিবি পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। আদানি পাওয়ার উল্লেখ করে, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের (পিপিএ) ১৩.২(i)(i) ও (ii) ধারার অধীনে এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার কোম্পানির রয়েছে।

আদানি পাওয়ার জানায়, চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বন্ধ থাকলেও তারা ‘ডিপেন্ডেবল ক্যাপাসিটির’ ভিত্তিতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট পাওয়ার অধিকার রাখে।

এর আগে, আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান।

তিনি জানান, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ আংশিক অর্থ পরিশোধ করলেও এখনও একটি বড় অঙ্ক বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিপিডিবি কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বকেয়া ও লেট পেমেন্ট সারচার্জ (এলপিএস) পরিশোধ করা হবে, কিন্তু এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি।

চিঠিতে গৌতম আদানি আহ্বান জানান, অবিলম্বে পাওনা নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নিন, যাতে অপারেশন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ না পড়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিপিডিবি বর্তমানে সরকার গঠিত ন্যাশনাল রিভিউ কমিটি অন পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টস (পিপিএ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।

এই কমিটির প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম ২ নভেম্বর এক বৈঠকে ‘বেসিক গভর্ন্যান্স ফেইলিউর অ্যান্ড রিভিউ অব অ্যানোমালিজ ইন দ্য অ্যাপ্রুভাল প্রসেস অন আদানি’ শিরোনামের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারিতে প্রকাশের কথা রয়েছে। কমিটি আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করছে।




জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে সম্পদ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চান মিরপুর-কাফরুল এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল এলাকায় জাহাঙ্গীর লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সঙ্গে জাহাঙ্গীর লতিফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং সাচ্চুর অর্থ-সম্পদের একটি অংশ জাহাঙ্গীর লতিফের কাছে গচ্ছিত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ছাত্র হত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের দাবি, ওই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে। তার শ্বশুর মতিউর রহমান, শাশুড়ি দিলারা রহমানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রোমানা জাহাঙ্গীরও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেননি মান সম্মান ও মেরে ফেলার হুমকীর কারনে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গৃহকর্মীর সঙ্গেও জাহাঙ্গীর লতিফ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তার বাসায় এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, গাজীপুরে জাহাঙ্গীর লতিফের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ নেই। জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর লতিফের বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান: জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, সহিংসতা, নির্যাতন , ছাত্র হত্যা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।