নবম পে স্কেল: জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে নতুন মূল বেতন

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশীত নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। এর মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জানা যায়, চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি শুরুতে তিন ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল।

সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে এভাবে পে-স্কেল কার্যকর করতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অনেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে নতুন বেতনকাঠামোর ৫০ শতাংশ কার্যকর করলেও প্রকৃত বেতন বাড়বে খুব সামান্য। কারও কারও মোট বেতন কমেও যেতে পারে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আপত্তি জানালে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। এখন আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, সরকারের আর্থিক সংগতি থাকলে নতুন বেতন কাঠামো একবারেই বাস্তবায়ন করত। তবে তিন ধাপের বদলে দুই ধাপে করতে পারলেও ভালো। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামোর প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।




প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র’ থেকে একযোগে দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

রোববার (২৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিজন শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এই নতুন সবুজায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেরে বাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ২টায় মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ কর্মসূচি সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ জলবায়ু সচেতনতা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ বৃক্ষ, ১টি বনজ বৃক্ষ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ প্রতিটি ক্যাম্পাসে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে এদিন একই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর জাতীয় পর্যায়ের তরুণ উদ্ভাবকদের তৈরি স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন এবং সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, আয়োজনটি সফল করতে রোববার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ভ্যেনু ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।




বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজঃ বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ায় আশার আলো দেখা দিলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।



২০২৬ বিশ্বকাপ কার? সুপারকম্পিউটারের চাঞ্চল্যকর হিসাব-নিকাশ

ক্রীড়া ডেস্কঃ প্রায় ১৭ দিন ও ৭২ ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর সব লড়াইয়ের পর শেষ হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের খেলা। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ৩২ দলে এসে ঠেকেছে। শেষ বত্রিশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোর সম্ভাব্য লড়াইয়ের চিত্রও অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলে এখনকার হিসাব-নিকাশ আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত ও স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে সম্ভাব্য ম্যাচআপগুলো নিয়ে।

যেমন নকআউটের প্রথম ম্যাচের ফলের অনুমান ঠিকঠাক মিলে গেছে। ক্রীড়া পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপটা অ্যানালিস্টের’ সুপারকম্পিউটার রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। এবার জেনে নিতে পারেন অপটার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে এবার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কোন দুই দলের।

সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস, শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের—৮১.৫ শতাংশ। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ, সেমিফাইনালে ৪২.৭ শতাংশ এবং ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২৮.৪ শতাংশ। আর ফাইনালে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনায়?—১৮.৭ শতাংশ। এটিও সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফ্রান্স শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের অন্যান্য ধাপে পার হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। রাউন্ড অব থার্টি টুতে কেপ ভার্দেকে পাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর পথে সবচেয়ে বেশি ‘নিরাপদ’—জেতার সম্ভাবনা ৮৯.২ শতাংশ। শুধু তা–ই নয়, কোয়ার্টার ফাইনাল (৭০.৫%), সেমিফাইনাল (৪৯.৬%) এবং ফাইনালে (৩০%) ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও সবার ওপরে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই। অর্থাৎ সুপারকম্পিউটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পাল্লা ফ্রান্সের চেয়েও ভারী, যদিও ট্রফি ছোঁয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে ফরাসিরাই।

তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে স্পেন, যাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ। হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ড ৯.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে, আর নেইমার–ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৬.৫ শতাংশ।

আরও কিছু দলেরও সম্ভাবনা খুব কম নয়। অপটার সুপারকম্পিউটার বলছে, নেদারল্যান্ডসের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫.১ শতাংশ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ৪.৭ শতাংশ এবং জার্মানির ৪.৪ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকা কলম্বিয়া (৩.২%), আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে (৩%), স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র (২.৫%) ও সুইজারল্যান্ড (২.২%) যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

অন্যদিকে তিন স্বাগতিক দেশের অন্যতম মেক্সিকোর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ১.৮ শতাংশ। গত আসরের চমক মরক্কো এবং সোনালি প্রজন্মের বেলজিয়ামের সম্ভাবনা সমান ১.৬ শতাংশ। আর এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ।

তবে মনে রাখতে হবে, অপটার এই পূর্বাভাস কেবলই গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব। ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটে অনেক কিছুই হতে পারে।




আজ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলো ভারত

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থগিত থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের সব ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। 

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আবেদনকারীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভিসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার পাশাপাশি আগের মতোই মেডিকেল ভিসা ও অন্যান্য জরুরি ভিসা কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

ভিসা আবেদনকারীরা মনে করছেন, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ফলে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজতর হবে। এটি শুধু পর্যটন খাতেই নয়, বরং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাখাতেও নতুন গতির সঞ্চার করবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যেসব শিক্ষার্থী বা ব্যবসায়ী নিয়মিত ভারত যাতায়াত করতেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আবেদন প্রক্রিয়া আগের মতোই অনলাইনে সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ে ভিসা কেন্দ্রে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভিসা আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর ফলে ভারতগামী ভ্রমণপিপাসুদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




‘বাপ কা বেটা’: আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই প্রজন্মের অনন্য এক রূপকথা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ফুটবল মাঠ কখনো কখনো এমন কিছু কাকতালীয় রূপকথা তৈরি করে, যা ইতিহাসকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। সোমবার ডালাস স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব দেখলো এমনই এক অনন্য দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে একই ম্যাচ খেলেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে এবং পাবলো পাজ। ঠিক ২৮ বছর পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে একসাথে মাঠে নামলেন তাদের দুই সুযোগ্য সন্তান—জিউলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজ। দুই প্রজন্মের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি ডালাসের রাতটিকে ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত বানিয়ে রেখেছে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জেনত্তির বদলি হিসেবে ডান উইঙ্গে খেলতে নেমেছিলেন ডিয়েগো সিমিওনে, আর রক্ষণভাগে ছিলেন পাবলো পাজ। আর আজ জর্ডানের বিপক্ষে কোচ লিওনেল স্কালোনি ডানদিকের ফুল-ব্যাক হিসেবে মাঠে নামান জিউলিয়ানো সিমিওনেকে, আর তার ঠিক সামনে মাঝমাঠে খেলিয়েছেন নিকো পাজকে। বাবারা যেখানে খেলেছিলেন, সন্তানরাও ঠিক সেই পজিশনেই ম্যাচ শুরু করেন। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে এই দুই তরুণের বোঝাপড়া ও আক্রমণাত্মক ফুটবল জর্ডানের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রেখেছিল।

বাবার উত্তরাধিকার সাফল্যের সাথে বহন করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের এই অভিষেক রাঙিয়ে রাখলেন নিকো ও জিউলিয়ানো। ফুটবল ইতিহাসে দুই প্রজন্মের এমন অনন্য এক ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইলো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ।




এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।

দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”




মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, কাদির ও হারিসকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে সেবা ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির গুঞ্জনে মুখর। দেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর দুর্নীতির গল্প নতুন নয়—এখানে সেবা পেতে হলে প্রথম শর্তই হলো ঘুষ, আর ঘুষ না দিলে কোনো কাজ সময়মতো এগোয় না। কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার; “টাকা দিলে সেবা, না দিলে অপেক্ষা” এই সংস্কৃতি বহুদিন ধরেই প্রতিষ্ঠিত। তবে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদির এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সহকারী সাব রেজিস্টার হারিস এই দুর্নীতিকে যেন আরও সংগঠিত, পরিকল্পিত ও ভয়াবহ স্তরে নিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সেবা গ্রহীতা ও দালালদের মুখে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল কাদির তার পছন্দের সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং নিতে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন করেন, আর সেই টাকা তোলার জন্য তিনি ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করেন প্রকাশ্যে। জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপে ঘুষ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয় বা বিনা কারণে ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অফিসের দালাল চক্রকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। যারা বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন, তাদের কাজ অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়—এ যেন প্রতিষ্ঠিত ‘দুর্নীতির কাস্টমার সার্ভিস’।

অন্যদিকে আব্দুল কাদিরকে দুর্নীতির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করেন সহকারী সাব রেজিস্টার হারিস। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা হারিস গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে আয় করেছেন কোটি কোটি টাকা—এমন অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের। তার নিজ গ্রামে ইতোমধ্যে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করেছেন, যার নির্মাণব্যয় তার বেতন-ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুধু তাই নয়, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রয়েছে হারিসের নামে বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট। তার আর্থিক সাম্রাজ্য দিন দিন বিস্তৃত হলেও কোথা থেকে আসে এই বিপুল অর্থ—তা তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদিরের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে। সহকর্মী ও সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ—আব্দুল কাদিরের সম্পত্তির তালিকা এতই দীর্ঘ যে তার কোনো শেষ নেই। রাজধানী ও অন্যান্য জেলায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটের তথ্য ঘুরছে আলোচনায়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন যে পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয় তার একটি বড় অংশ আব্দুল কাদিরের ব্যক্তিগত নির্দেশে সংগ্রহ করা হয়। ঘুষের হার নির্ধারণ থেকে শুরু করে দালালদের মাধ্যমে সংগ্রহ পর্যন্ত—সব ক্ষেত্রেই তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার কারণে পুরো মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নৈরাজ্যকর ও দুর্নীতিপরায়ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কাজ করতে গেলেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দলিল নিবন্ধনের মৌলিক সরকারি সেবাকে তারা ব্যক্তিগত লুটপাটের উৎসে পরিণত করেছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো কঠোর তদারকি না থাকায় দুর্নীতিবাজদের দাপট আরও বেড়ে গেছে। যত দিন না এসব দুর্নীতির শিকড় উন্মোচন করে শাস্তির আওতায় আনা হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।




৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজঃ মানুষের কাছে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরে নোয়াখালী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকেই এখন ব্যাংকে অর্থ না রেখে বাসায় নগদ সংরক্ষণ করছেন। অতীতে অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা স্বৈরাচারী শাসনের সুবিধাভোগীদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে অবস্থান করছে।

মাহবুব উদ্দিন বলেন, সরকার যদি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যেসব অর্থ আয়কর নথিতে নেই, সেগুলো ২৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি কমবে, ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়বে এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে অর্থ ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষেও মত দেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দেশে ব্যাংক বেশি। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন জরুরি। জনগণের অর্থ দিয়ে বারবার ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাকা পাচারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো কঠিন। তাই এমন আর্থিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ দেশে বিনিয়োগে আস্থা পায়। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিপুলসংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীলতা আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ঘাটতি বাজেট অস্বাভাবিক নয়; বিশ্বের অনেক দেশেই ঘাটতি বাজেট হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।




মেসির রেকর্ড গড়া গোলে আর্জেন্টিনার তিনে তিন

ক্রীড়া ডেস্কঃ টানা তিন জয় দিয়েই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করলো ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর এক গোল হজম করলেও, বদলি নামা লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে বড় পরিবর্তন আনে কোচ স্কালোনি। সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে মোট ৯ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে আলবিসেলেস্তেরা।

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। দারুণ এক ফ্রি–কিক থেকে গোলটি করেছেন জিওভানি লো সেলসো।

এরপর ম্যাচে ৩১ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়ান লাওতারো মার্টিনেজ। এতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় জর্ডান। মুসা আর–তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান।

৬০ মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। ২০ মিনিটের ব্যবধানে ফ্রি-কিক থেকে এবারের বিশ্বকাপের ৬ নম্বর গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েনন মেসি। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।