মেসির রেকর্ড গড়া গোলে আর্জেন্টিনার তিনে তিন

ক্রীড়া ডেস্কঃ টানা তিন জয় দিয়েই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ করলো ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর এক গোল হজম করলেও, বদলি নামা লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে বড় পরিবর্তন আনে কোচ স্কালোনি। সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে মোট ৯ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে আলবিসেলেস্তেরা।

জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। দারুণ এক ফ্রি–কিক থেকে গোলটি করেছেন জিওভানি লো সেলসো।

এরপর ম্যাচে ৩১ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়ান লাওতারো মার্টিনেজ। এতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় জর্ডান। মুসা আর–তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান।

৬০ মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। ২০ মিনিটের ব্যবধানে ফ্রি-কিক থেকে এবারের বিশ্বকাপের ৬ নম্বর গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েনন মেসি। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।




সারা দেশে শুরু ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

ডেস্ক নিউজঃ সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন এ কে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কার্যক্রম হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।




বাংলাদেশ থেকে যে কারণে কাঁঠাল নিতে চায় চীন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে আগ্রহী, সেটা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে চীনের এই আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়।

রোববার (২৮ জুন) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে, গত বছরের মে মাসে চীন যখন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কাঁচা আম আমদানি শুরু করে, তখনই তারা কাঁঠাল ও পেয়ারার মতো ফল আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছিল।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সফরে দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ইকোনমিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৭টি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টিও রয়েছে।

ফলে কাঁঠাল রপ্তানির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছাল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের মতে, কৃষিনির্ভর দেশ হলেও বাংলাদেশ কৃষি পণ্য রপ্তানিতে খুব বেশি এগোতে পারেনি। চীনে কাঁঠাল বা কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এটি অন্যান্য কৃষি পণ্যের জন্যও নতুন বাজার তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে পণ্যের মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা না থাকায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের টোটাল কৃষি খাতের রপ্তানি এখনো তেমন ভালো নয়। আমরা যতটুকু রপ্তানি করি তার বেশিরভাগই এথনিক মার্কেটে।’

কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে কোয়ালিটি মেইনটেইন না হওয়ায় ইউরোপিয়ান মার্কেটে এখনো আমরা তেমন ঢুকতে পারিনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজারকে এথনিক মার্কেট বলা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক চীন

বিশ্বব্যাপী কাঁঠালের শত কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী কাঁঠাল রপ্তানি যেখানে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছিল, ২০২৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চীন ও ইকুয়েডর বিশ্বব্যাপী রপ্তানির ৬০ শতাংশের সঙ্গে জড়িত। শুধু ভিয়েতনামই বিশ্ববাজারের ২৫ শতাংশ দখল করে আছে।

এদিকে চীন হলো কাঁঠালের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বা আমদানিকারক। তারা তাদের চাহিদার বড় অংশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে পূরণ করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোর অন্যতম হলেও বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশগ্রহণের হার কম।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক কাঁঠাল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ০.৩ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানির প্রায় ৭৬ শতাংশ যায়। এ ছাড়া ইতালি, কানাডা ও ফ্রান্সসহ এই চার দেশেই মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশ যায়। ফলে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কাঁঠাল বাণিজ্যের একটি বড় সুযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কতটা?

বাংলাদেশে ব্যাপক কাঁঠাল উৎপাদন হলেও গ্রাহক পর্যায়ে এর জনপ্রিয়তার সীমাবদ্ধতা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবের কারণে উৎপাদিত কাঁঠালের বেশিরভাগই নষ্ট হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে আট থেকে ১০ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকা এবং রপ্তানির সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর এর ৪৫ শতাংশেরই বেশি নষ্ট হয়।

ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম প্রথম, কলা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কাঁঠাল।’

তিনি জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত কাঁঠালের ছয়টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশই আসে পোশাক খাত থেকে। কৃষিনির্ভর দেশ হলেও নীতিগত ও আইনগত কিছু জটিলতার কারণে কৃষি অর্থনীতি খাত এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। কৃষি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রসেসিং পর্যন্ত পুরোটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-বেজড প্রোডাক্ট প্রডিউসারস অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘কাঁঠাল দিয়ে তৈরি পণ্য কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, কিন্তু চীন কীভাবে নেবে সেটি হলো প্রশ্ন। কারণ কাঁঠাল সংরক্ষণ করা এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি আছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে ঢোকার আগে পণ্যের মান ও প্রসেসিংয়ের বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো উচিত বলে জানান কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

তবে চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা টেকনোলজি শেখার ক্ষেত্রে এবং লোকাল মার্কেটেও তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ড. মোহাম্মদ আমিরুল বলেন, ‘আমরা যখন সুযোগ পাই, তিনগুণ দাম পাই, তখন সবই দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করি। দেশীয় চাহিদা এবং নিউট্রিশনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’




সুজিত চক্রবর্তীকে ঘিরে বিতর্কের ঝড়: রাজনৈতিক যোগাযোগ, নিয়োগ বাণিজ্য ও সাংবাদিক হামলার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চ্যানেল এসের সিইও সুজিত চক্রবর্তীকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিতর্ক, নিয়োগ বাণিজ্য, সাংবাদিক নির্যাতন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার অবস্থান, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ, বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন, গোপন রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সমপ্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার কথা বললেও পর্দার আড়াল থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সুজিত চক্রবর্তী। আন্দোলন-পরবর্তী সময়েও তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছাড়াই লাইসেন্স?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, চ্যানেল এসের সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গোয়েন্দা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সূত্রটির দাবি, তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও সরাসরি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে চ্যানেলটির লাইসেন্স অনুমোদন করানো হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার চাপের মুখে ইসমত কাদের গামা চ্যানেলটির অনুমোদন নেন। এমনকি লাইসেন্স প্রদানের আগে প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কোনো শক্ত ভিত্তি বা পর্যবেক্ষণও নথিভুক্ত নেই বলে দাবি করেছে ওই সূত্র।

ভারতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

সম্প্রতি ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সুজিত চক্রবর্তীর যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চ্যানেল এসের পরিচয়ে কয়েকজন প্রতিনিধি ভারতে সফর করেছেন।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে গোপন সমন্বয় ও যোগাযোগ রক্ষা করা। সুজিত চক্রবর্তীর নির্দেশনায় এসব যোগাযোগ পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের সাংবাদিক বানানোর অভিযোগ

সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, চ্যানেল এসের কর্পোরেট অফিস থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ক্যাডারদের সাংবাদিক পরিচয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একাধিক “টিম” গঠন করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮ থেকে ১০টি করে টিম নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা বা পেশাগত যোগ্যতা না থাকলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে রাজনৈতিক ক্যাডারদের পুনর্বাসন, অন্যদিকে প্রভাব বিস্তারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সমন্বয়?

বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী, সুজিত চক্রবর্তী বর্তমানে সারাদেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন পর্যায়ে চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসেবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভারতের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিক্সন চৌধুরীসহ একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অর্থনৈতিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

এই কর্মকাণ্ডে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে তুরাগ থানার সাবেক যুবলীগ নেতা ও বর্তমানে চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার পরিচয়ধারী রুমনের নাম। এছাড়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের জামায়াতপন্থী আবুল কালাম, খোন্দকার আলমগীর এবং পল্টন এলাকার জামায়াতের এক নেতাকেও তার ঘনিষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে উল্লেখ করছেন অভিযোগকারীরা।

মালিকানা বিক্রি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো চ্যানেল এসের মালিকানা গোপনে বিক্রি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও ১/১১-এর আলোচিত ব্যক্তি ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেমের কাছে চ্যানেলের ২০ শতাংশ মালিকানা ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন (অব.) মোয়াজ্জেম বর্তমানে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বরিশাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

এছাড়া সিকদার গ্রুপের কাছে ১০ শতাংশ মালিকানা ৮ কোটি টাকায় বিক্রি এবং যুবলীগের আরও এক নেতার কাছে ৫ শতাংশ মালিকানা হস্তান্তরের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের অর্থ কোনো ব্যাংকে সংরক্ষণ না করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

যদিও এসব বিষয়ে সুজিত চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলা

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুজিত চক্রবর্তীর নাম আলোচনায় আসে। অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকালের সংবাদের সম্পাদক হাফিজুর রহমান শফিক বাদী হয়ে চ্যানেল এসের চেয়ারম্যান ইসমত কাদের গামা, সিইও সুজিত চক্রবর্তীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে রমনা থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দেশীয় অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। বাদীর অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ওই সময় সুজিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরবর্তীতে আদালত “ম্যানেজ” করে খাস কামরায় জামিন নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গায়েব করা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নতুন বিতর্ক

সম্প্রতি চ্যানেল এসের গোপন রাখা সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সুজিত চক্রবর্তী ও তার ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়নি। ফলে গত এক বছরে দুইবার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত ও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকজন সাংবাদিক চ্যানেল এস কার্যালয়ে গেলে তাদের আটকে রাখা হয়। পরে কার্যালয়ে অবস্থান করা ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে এনে হামলা চালানো হয়।

ওই হামলায় হাফিজুর রহমান শফিকসহ অন্তত পাঁচ সাংবাদিক আহত হন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রচারিত একটি সংবাদে হামলার ভিডিও ফুটেজের আংশিক অংশ প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এতদিন গোপন রাখা ফুটেজের অংশবিশেষ প্রকাশ পাওয়ায় পুরো ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত করা এখন জরুরি।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন সুজিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত দৃশ্যমান নয়? রাজনৈতিক যোগাযোগ, নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, মালিকানা হস্তান্তর, সাংবাদিক নির্যাতন ও তথ্য গোপনের মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুজিত চক্রবর্তী বা চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ব্যান্ডরোল জালিয়াতির অভিযোগে বিতর্কিত কাস্টমস কর্মকর্তা শামীম উল আলম পেলেন যুগ্ম কমিশনার পদ, উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নকল সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) আমদানির মূল কারিগর হিসেবে অভিযোগ ওঠা কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তীব্র বিতর্ক ও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে গ্রেড-৫ পদে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস হাউজের একটি বিশেষ অভিযানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি পণ্যচালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করা হয়। এই জাল স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব ফাঁকির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়। যেখানে কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিসহ জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও এর মূল হোতা কাস্টমসের তৎকালীন উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম নেই। অথচ অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে এই চালান আমদানির মূল কারিগর হিসেবে কাস্টমসের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোঃ শামীম উল আলমের নাম উঠে আসে।

মামলার প্রাথমিক শুনানিতে ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলেও এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাকে মামলার আসামি না করে রহস্যজনকভাবে আড়াল করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি অভিযুক্তদের অফিসে ডিসি শামীমের যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়ার পরেও তাকে মামলা থেকে আড়াল করার ঘটনা তুলেছে নানান প্রশ্ন।

মোঃ শামীম উল আলম এর আগে যখন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ, বগুড়ায় কর্মরত ছিলেন, তখনও তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া মূল্যের আপ্যায়ন ও সুবিধা আদায়ের কারণে তিনি কাস্টমস সার্কেলে বিশেষভাবে সমালোচিত ছিলেন। এছাড়া বুয়েটের সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন বলে কাস্টমসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজস্ব সুরক্ষায় যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি করে, সেখানে ৯ কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির সাথে নাম জড়ানো একজন কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি করার পরিবর্তে পুরস্কৃত করার ঘটনায় হতবাক সচেতন মহল।




দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে বাবা ও মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে সরকারপ্রধান ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এ সময় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টা) চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তারা বেইজিং তাসিং বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য-গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে ২২ জুন তিনি চীন সফরে যান।




গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, মামলার আসামি হয়েও গুরুত্বপূর্ণ পদে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা ইলিয়াস আহম্মেদ। সরকারি দায়িত্বে থেকেই ঘুষ, কমিশন, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি এমনই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। অথচ তার বিরুদ্ধে দায়ের রয়েছে একটি ফৌজদারি মামলা (সি.আর নং১১৮/২০২৫), যেখানে তিনি ১১০ নম্বর আসামী।

মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় চলমান। অভিযোগ রয়েছে-একজন মামলার আসামী ও দুর্নীতির অভিযুক্ত কর্মকর্তা হয়েও তিনি এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ও আদালতে চলমান মামলার কর্মকর্তা সাধারণত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকেন; কিন্তু ইলিয়াস আহম্মেদ তার ব্যতিক্রম। ইলিয়াস আহম্মেদ ২০১৫ সাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক নথি অনুসারে, তার চাকরির সময়সূচি নিম্নরূপ: ২২ এপ্রিল ২০১৫: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭: ঢাকা বিভাগ-২

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭: আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত সার্কেল-১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত সার্কেল, সিলেট ঢাকায় প্রায় এক যুগ দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিতর্কিত ঠিকাদার জি.কে. শামীমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে সূত্র জানায়। এক সময় জিকে শামীমের সঙ্গে সরকারি কাজের “কমিশন বাণিজ্য” এবং “চুক্তি বণ্টনের কারসাজি” নিয়ে গণপূর্তের অভ্যন্তরে আলোচনা তৈরি হয়। জিকে শামীম-সংযোগে বিতর্ক : ২০১৯ সালে জিকে শামীমের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও চাঁদাবাজির মামলার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযুক্ত হন। ইলিয়াস আহম্মেদ সরাসরি অভিযুক্ত না হলেও, তার নাম শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে আসে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইলিয়াস ঢাকায় জিকে শামীমের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ বণ্টনে প্রভাব খাটাতেন। সরকারি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বিল ছাড়ের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়া ছিল প্রকাশ্য গোপন খবর।

আজিমপুর গণপূর্তে শিশু জিহাদ মৃত্যুর ঘটনা : ইলিয়াস আহম্মেদের নাম আলোচনায় আসে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের একটি মর্মান্তিক ঘটনায়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে আজিমপুরের পিলখানা উপবিভাগের কাজের সময় শিশু জিহাদের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় অবহেলা ও নির্মাণ ত্রুটির অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ইলিয়াস আহম্মেদ নিহত শিশুর পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এবং শিশুর ভাই গোলজারকে গণপূর্ত বিভাগে পিয়ন পদে চাকরি দিয়ে বিষয়টি “মীমাংসা” করে ফেলেন। সেই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত হলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি কোনোরূপ শাস্তি এড়িয়ে যান। আজিমপুর বিভাগের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদার পল্টন দাসের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

প্রকল্পটির ব্যয় ছিল প্রায় ১২০ কোটি টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি “পছন্দের ঠিকাদার” বেছে নিয়ে কাজ দেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিনিময়ে প্রতি ফ্ল্যাটে ৫৭ লাখ টাকা করে কমিশন গ্রহণ করেন। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ইলিয়াস স্যার চুক্তি অনুমোদনের আগে ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করতেন। কাজের বিল ছাড় করতে চাইলে আরও ২ শতাংশ দিতে হতো। এই ঘুষ বাণিজ্যে তার নিকট আত্মীয়রাও যুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার আপন ভাইকে ঠিকাদার বানিয়ে তিনি গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেন এবং কমিশনের ভাগ নিতেন। অবৈধ সম্পদের পাহাড়- দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ইলিয়াস আহম্মেদ দেশের ভেতর ও বাইরে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তাদের ভাষায়-ঢাকার ধানমন্ডিতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ জেলা বরিশালে কোটি টাকায় নির্মিত একটি মসজিদ, বিদেশের মাটিতে দোতলা একটি বাড়ি, এবং ব্যাংক ও আত্মীয়দের নামে বিপুল অর্থের জমা- সবই তার অবৈধ উপার্জনের ফল। এছাড়া ঢাকার অভিজাত হোটেলে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলাসবহুল আসর ও পার্টিতে অংশ নেওয়া, মদ্যপান ও নারীসঙ্গের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়মিতভাবে হোটেল র‌্যাডিসন ও সোনারগাঁওয়ে ঠিকাদারদের নিয়ে ‘গেট টুগেদার’ আয়োজন করতেন। সেখানে বিলাসিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।” বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকা : ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে অর্থ সহায়তার অভিযোগ ওঠে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, তিনি সরকারপন্থী একটি গোষ্ঠীর হয়ে “ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রমে অর্থ সরবরাহ” করেন। এ ঘটনায় সি.আর মামলা নং ১১৮/২০২৫এ তিনি ১১০ নম্বর আসামী হন। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হলেও তাকে সিলেট সার্কেলে পদায়ন করা হয়।

সিলেটে যোগদানের পরও ইলিয়াস আহম্মেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র জানায়, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি সরকারি নির্মাণ কাজে ‘নিজস্ব ঠিকাদার’ নিয়োগ দেন। এমনকি নতুন প্রজেক্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রেও “কমিশন ছাড়া কোনো কাজ না হওয়া”এমন অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মুখে শোনা যায়। তাদের ভাষায়, “স্যার এখন সিলেটেও সেই পুরনো পদ্ধতিই চালু রেখেছেন। আগে কমিশন, পরে অনুমোদন। জনমনে প্রশ্ন-একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল থাকতে পারেন? প্রশাসনিকভাবে এমন কর্মকর্তা বরখাস্ত বা ওএসডি হওয়ার কথা থাকলেও ইলিয়াস আহম্মেদ বরং পদোন্নতি পেয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাধারণত বিভাগীয় তদন্ত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তা এড়িয়ে যান।”

ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, তিনি মালয়েশিয়া ও দুবাইতে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা স্থানান্তর করেছেন। তার এক সহকর্মী জানান, “তিনি প্রায়ই বিদেশ সফরের নামে ভ্রমণ করতেন। সন্দেহ করা হয়, সেই সময় তিনি বিদেশে টাকা স্থানান্তর করেছেন।”যদিও এসব তথ্যের কোনো সরকারি স্বীকৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। ইলিয়াস আহম্মেদের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন সিনিয়র প্রকৌশলী বলেন, “যখন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতি পান, তখন সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হন। ইলিয়াসের মতো কর্মকর্তাদের জন্যই সাধারণ মানুষ গণপূর্তকে দুর্নীতির কেন্দ্র বলে মনে করে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে ইলিয়াস আহম্মেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




সমীকরণ মিললে ফাইনালের আগেই মুখোমুখি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার পর থেকেই জমে উঠেছে টুর্নামেন্ট ঘিরে আলোচনা। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি নজর থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ওপর। বিশ্বকাপে দুই দলের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, সমর্থকদের কথার লড়াই এবং উৎসবের আমেজ। এবারের আসরে সেই রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

ফিফা যখন গত বছরের ডিসেম্বরে সূচি ঘোষণা করে, তখনই ধারণা পাওয়া যায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হতে পারে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে উঠলেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তখন হিসাব করে বের করা হয়। লাতিন আমেরিকার দল দুটি এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে। যদি শেষ বত্রিশ থেকে লাগাতার ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে দল দুটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমি।

মায়ামিতে গতকাল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষও ঠিক হয়েছে। ২৯ জুন হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ব্রাজিল-জাপান শেষ বত্রিশের ম্যাচ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি। পরশু ডালাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ। তবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি জিতে আলবিসেলেস্তেরা ‘জে’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।

শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হচ্ছে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। আগামীকাল ভোরে হতে যাওয়া স্পেন-উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচের দিকে তাই বিশেষ চোখ থাকছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। শেষ বত্রিশের বাধা টপকাতে পারলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া অথবা বেলজিয়াম। আর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। শেষবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামা লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মুখোমুখি হতে পারেন শেষ আটেই।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের পথ মোটেও সহজ নয়। প্রথমে শেষ বত্রিশে জাপানকে হারাতে হবে। এরপর শেষ ষোলোতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে, ফ্রান্স বা অন্য কোনো দল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে অপেক্ষা করতে পারে ইংল্যান্ড। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজেদের প্রথম তিনটি নকআউট ম্যাচে জয় পায়, তাহলে সেমিফাইনালে হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত মহারণ।

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল, যারা জিতেছে দুটি ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জয় একটি, আর একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।




মোঃ শিহাব উদ্দিনের জন্মদিন উপলক্ষে মিরপুর প্রেস ক্লাবে আনন্দঘন আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মিরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জন্মদিনের কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা মোঃ শিহাব উদ্দিনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি বলেন, “শিহাব উদ্দিন শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি একজন মানবিক মানুষ। সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান প্রশংসার দাবিদার। তাঁর জন্মদিনে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”

মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিহাব উদ্দিন সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সুপরিচিত। আমরা তাঁর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্যে মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আজ কেউ সাংবাদিক নয়, আজ সবাই আমার ভাই-বোন। আমি এমন ভালোবাসা আগে কখনও পাইনি। আপনাদের এই ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন আমার এই প্রিয় ভাই-বোনদের হৃদয়ে ধারণ করে রাখব।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভালোবাসাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আজকের এই আয়োজন আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি, মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মেসেজ স্টুডেন্ট সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ঢাকার আলোর সম্পাদক সাংবাদিক সুমন খান, ডিএস টিভির সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম শাকিল, সারোয়ার আলম, রিয়া মনি, শানু আক্তার, ডালিয়া মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, মিরপুর কেপটা ক্লাবের সহ-সভাপতি ও গ্রিন টিভির সিনিয়র রিপোর্টার খাইরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এম এ গফফার, সহ-দপ্তর সম্পাদক এম এ মালিক, সদস্য ফিরোজ আল মামুন, মানজারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দুলাল হোসেন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের অন্যতম সদস্য সিরাজ উদ্দিন ভূঁইয়াসহ অসংখ্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী।

অনুষ্ঠান শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয় এবং উপস্থিত সকলের মাঝে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ভরপুর এই আয়োজন উপস্থিত সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন অতিথিরা।




দেশের সব বিভাগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও যশোর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরেছে সিলেটে ৭৩ মিলিমিটার।