সমীকরণ মিললে ফাইনালের আগেই মুখোমুখি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্কঃ ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার পর থেকেই জমে উঠেছে টুর্নামেন্ট ঘিরে আলোচনা। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি নজর থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ওপর। বিশ্বকাপে দুই দলের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, সমর্থকদের কথার লড়াই এবং উৎসবের আমেজ। এবারের আসরে সেই রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

ফিফা যখন গত বছরের ডিসেম্বরে সূচি ঘোষণা করে, তখনই ধারণা পাওয়া যায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হতে পারে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে উঠলেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তখন হিসাব করে বের করা হয়। লাতিন আমেরিকার দল দুটি এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে। যদি শেষ বত্রিশ থেকে লাগাতার ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে দল দুটি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমি।

মায়ামিতে গতকাল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষও ঠিক হয়েছে। ২৯ জুন হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ব্রাজিল-জাপান শেষ বত্রিশের ম্যাচ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি। পরশু ডালাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ। তবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি জিতে আলবিসেলেস্তেরা ‘জে’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।

শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হচ্ছে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। আগামীকাল ভোরে হতে যাওয়া স্পেন-উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচের দিকে তাই বিশেষ চোখ থাকছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। শেষ বত্রিশের বাধা টপকাতে পারলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া অথবা বেলজিয়াম। আর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। শেষবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামা লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মুখোমুখি হতে পারেন শেষ আটেই।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের পথ মোটেও সহজ নয়। প্রথমে শেষ বত্রিশে জাপানকে হারাতে হবে। এরপর শেষ ষোলোতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে, ফ্রান্স বা অন্য কোনো দল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে অপেক্ষা করতে পারে ইংল্যান্ড। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজেদের প্রথম তিনটি নকআউট ম্যাচে জয় পায়, তাহলে সেমিফাইনালে হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত মহারণ।

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল, যারা জিতেছে দুটি ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জয় একটি, আর একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।




মোঃ শিহাব উদ্দিনের জন্মদিন উপলক্ষে মিরপুর প্রেস ক্লাবে আনন্দঘন আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মিরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জন্মদিনের কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা মোঃ শিহাব উদ্দিনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি বলেন, “শিহাব উদ্দিন শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি একজন মানবিক মানুষ। সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান প্রশংসার দাবিদার। তাঁর জন্মদিনে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”

মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিহাব উদ্দিন সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সুপরিচিত। আমরা তাঁর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্যে মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আজ কেউ সাংবাদিক নয়, আজ সবাই আমার ভাই-বোন। আমি এমন ভালোবাসা আগে কখনও পাইনি। আপনাদের এই ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন আমার এই প্রিয় ভাই-বোনদের হৃদয়ে ধারণ করে রাখব।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভালোবাসাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আজকের এই আয়োজন আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমি, মিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মেসেজ স্টুডেন্ট সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ঢাকার আলোর সম্পাদক সাংবাদিক সুমন খান, ডিএস টিভির সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম শাকিল, সারোয়ার আলম, রিয়া মনি, শানু আক্তার, ডালিয়া মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, মিরপুর কেপটা ক্লাবের সহ-সভাপতি ও গ্রিন টিভির সিনিয়র রিপোর্টার খাইরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এম এ গফফার, সহ-দপ্তর সম্পাদক এম এ মালিক, সদস্য ফিরোজ আল মামুন, মানজারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দুলাল হোসেন, মিরপুর প্রেস ক্লাবের অন্যতম সদস্য সিরাজ উদ্দিন ভূঁইয়াসহ অসংখ্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী।

অনুষ্ঠান শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয় এবং উপস্থিত সকলের মাঝে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ভরপুর এই আয়োজন উপস্থিত সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন অতিথিরা।




দেশের সব বিভাগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও যশোর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরেছে সিলেটে ৭৩ মিলিমিটার।




অনভিবাসী ভিসাধারীদের উদ্দেশে নতুন সতর্কবার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী অনভিবাসী ভিসাধারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া বা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধার অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিলসহ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগও হারাতে হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

শনিবার (২৭ জুন) দূতাবাসের এক বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অনভিবাসী ভিসাধারীদের নিজেদের সব ধরনের ব্যয় নিজ দায়িত্বে বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

বার্তায় আরও বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী যদি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করেন বা সেসবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্তমান ভিসা বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার এবং নিজেদের খরচ বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।




এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

ডেস্ক নিউজঃ বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।

বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে নাগরিকদের পরিচয় তথ্য হালনাগাদ রাখতে এ বিধান কার্যকর করার বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে একজন মানুষের চেহারা, আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া কেউ কেউ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেন বা অন্যান্য কারণে পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় এনআইডির তথ্য নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, একটি এনআইডির মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর। আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে বা পরে নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিক বা ক্ষেত্রমতো তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ অনুযায়ী সরাসরি অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে, বিধি ৮-এর উপবিধি (২) অনুসারে ফি পরিশোধপূর্বক রসিদের কপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসেবে দাখিল করতে হবে অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি পরিশোধপূর্বক রসিদের স্ক্যানকৃত কপি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসেবে দাখিল করতে হবে।

‘জরুরি’ আবেদন কমিশনে এবং ‘সাধারণ’ আবেদন স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে এবং আবেদনপত্রপ্রাপ্তির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন ফরমের অংশ ‘ক’ স্বাক্ষর করে তা আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফেরত দেবেন অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবক বরাবর মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানায় অংশ ‘ক’ পাঠাবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তির সময় ৩০ দিন এবং জরুরি আবেদন ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সাধারণ আবেদনের জন্য ১০০ টাকা এবং জরুরি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে এনআইডি হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা পুরোনো হয়ে গেলে অনেকেই নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন ফি তুলনামূলক বেশি। প্রথমবার সাধারণ আবেদনে ২০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার যথাক্রমে ৩০০ ও ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি আবেদনে সাধারণের জন্য ৫০০ টাকা ও জরুরির জন্য ১ হাজার টাকা ফি দিতে হয়।

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি নবায়নের বিষয়টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমানে যেকোনো নাগরিক প্রয়োজন হলে আবেদন করে এনআইডি নবায়ন বা নতুন কার্ড নিতে পারেন।

অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন, এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলা নিউজ




হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজি

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র হজ পালন শেষে এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২৯৭ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। 

শনিবার (২৭ জুন) ভোর ৩টা পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের হজ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ মে সৌদি আরবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরা ৬৮ হাজার ২৯৭ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৩৮ জন। তাদের পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৬৩টি এবং ফ্লাইনাস ২৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

এবছর সৌদি আরবে মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। মারা যাওয়া বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৭, মদিনায় ১৭ ও জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪১৫ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ১১ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। এরপর ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।




দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত পৌনে ৮টায় তাকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে অভ্যর্থনা জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম মনিসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফিরেছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অন্যান্য সফরসঙ্গীরা। এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টায় তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন রাষ্ট্রীয় সফরে প্রথমে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিন ২২ জুন বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ান রওনা হন তিনি।

সেখানেও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন।




পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে’র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পিরোজপুর জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এবং কোনো ধরনের ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন না করেই বহুল আলোচিত ৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিশেষ সহযোগী ও তৎকালীন পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে শত শত কোটি টাকার অবৈধ বিল প্রদান এবং কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও ঘুষবাণিজ্যের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হলেও এখনো রয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-কে পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি পিরোজপুরে যোগদানের পর থেকেই একটি বিশেষ মহলের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তার পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশেষ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিল প্রদান করেন।

দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে’র বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন গত ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরাবর এবং ৫ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কাজ না করা সত্ত্বেও নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় শত কোটি টাকা বিল দিয়েছেন। এছাড়াও ভান্ডারিয়ার ইফতি ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল প্রদান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-কে গত বছরের ১৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগ কুড়িগ্রামে স্ট্যান্ড রিলিজ করে। তিনি ২৮ নভেম্বর বিভিন্ন কৌশলে তার প্রত্যাহারাদেশ স্থগিত করান। আবারও রাষ্ট্রপতির আদেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগ গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে পুনরায় বদলির আদেশ দেয়। কিন্তু অজ্ঞাত শক্তির বলে তিনি স্বপদে বহাল থাকেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে’র বিরুদ্ধে এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন মহলে আবারও আবেদন করা হলে তাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে পুনরায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর রঞ্জিত দে অফিসিয়ালি কাউকে কিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে পিরোজপুর ত্যাগ করেন।

একটি সূত্র জানায়, পিরোজপুর থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার পর পিরোজপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দীর্ঘদিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করেন। পরে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আবারও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর নিজেকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বিএনপি নেতার মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করেন।

বর্তমানে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রঞ্জিত দে ঢাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আবারও চাকরিতে পুনর্বহাল হয়ে পিরোজপুরে পুনরায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে যোগদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে। প্রায় শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া এই নির্বাহী প্রকৌশলী এক অদৃশ্য শক্তির বলে বারবার পুনর্বহাল থাকায় সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তার বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। আমরা সাধারণ ঠিকাদাররা শঙ্কিত।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার বলেন, “এ ইঞ্জিনিয়ার মহা দুর্নীতিবাজ এবং অফিসে অনিয়মিত ছিলেন। তার পছন্দের ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ ভাগিয়ে দেন। কাজ না করলেও সেসব প্রতিষ্ঠানকে শত কোটি টাকা বিল প্রদান করেছেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসে আমার মোটা অঙ্কের বিল বকেয়া রয়েছে। আমি প্রকাশ্যে কিছু বললে আমার সমস্যা হয়ে যাবে।”

সূত্র জানায়, পিরোজপুরের সাবেক দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে নেছারাবাদ উপজেলার শফিক সুমন নামে এক ঠিকাদারকে বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে কোনো ধরনের কাজ না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২২ কোটি টাকা বিল প্রদান করেছেন।

মো. আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বলেন, “কাজ না করলেও ইঞ্জিনিয়ার ঠিকাদারকে টাকা দিয়েছেন। এ কাজ আদৌ হবে কি না জানি না। আমরা সাধারণ মানুষ ইঞ্জিনিয়ারের এ কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।”

দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ না করেই বিল প্রদান করায় পিরোজপুরের সাধারণ জনগণ এবং নিয়মিত ঠিকাদাররা পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপকর্ম করার সাহস কেউ না পায়।

এদিকে পিরোজপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।




নকল নোভো নরডিস্ক ইনসুলিন জব্দ: চট্টগ্রামে অভিযানে ধরা পড়ল সরবরাহকারী, উঠে এলো মিটফোর্ড নেটওয়ার্ক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের অলংকার মোড় এলাকার সৌদিয়া ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন নকল ইনসুলিন বিতরণ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ সময় মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে নকল নোভো নরডিস্ক ব্র্যান্ডের ইনসুলিন সরবরাহের অভিযোগে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিজিএফআইয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নোভো নরডিস্কের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অংশ নেন। আটক মোজাম্মেলকে সৌদিয়া ফার্মেসিতে ডেকে আনা হলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল জানান, জব্দকৃত ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ওষুধ তিনি ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার হিমেল নামে এক দালালের মাধ্যমে সংগ্রহ করতেন। তদন্তকারীদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকার বিভিন্ন উৎস থেকে নকল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে।

অভিযানকালে নোভো নরডিস্কের ‘মিক্সটার্ড’ ইনসুলিনের নামে বাজারজাত করা সন্দেহভাজন নকল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করে মোজাম্মেলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, মোজাম্মেল কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফার্মেসিতে দীর্ঘদিন ধরে এসব ইনসুলিন সরবরাহ করছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার হারপাকনা মাস্টারবাড়ি এলাকায়। বর্তমানে তিনি পাহাড়তলী থানার হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হিমেল নামে আরেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চক্রটির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ঢাকার মিটফোর্ড এলাকাকে কেন্দ্র করে নকল ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোজাম্মেলের সঙ্গে তার প্রায় দুই থেকে তিন বছরের পরিচয় এবং গত দুই মাস ধরে নিয়মিত লেনদেন চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চক্রটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক ঢাকার মিটফোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। জব্দকৃত ইনসুলিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল দাবি করেন, পণ্যটি এসকেএফ (SK+F) থেকে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এ দাবিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন, কারণ এটি নোভো নরডিস্কের বৈধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল ইনসুলিন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব পণ্য ব্যবহারে চিকিৎসা ব্যর্থতা, গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই জব্দকৃত ওষুধের ফরেনসিক পরীক্ষা ও ল্যাব বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিটফোর্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান, সরবরাহ চেইন শনাক্তকরণ, সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিগুলোর মজুদ যাচাই এবং পরীক্ষাগার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজন পণ্য জব্দ ও কোয়ারেন্টাইনে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি শুধু নকল ইনসুলিন নয়, বরং বৃহত্তর নকল ওষুধ ব্যবসার একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। তাই পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।




লক্ষ্মীপুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫

ডেস্ক নিউজঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের পর ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন মেঝ মেয়েও। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায়  ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সায়মা আক্তার (২১), মেঝ মেয়ে কলেজ  শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।

এ ঘটনায় সন্দেভাজন এক যুবককে গণপিটুনি দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৬/৭ জন সদস্য আহত হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। দুপুরে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের হামলায় শাহীনুর ও তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে শাহীনুর, সায়মা, ইকরা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়। তাদের মধ্যে মা ও তিন মেয়ে মারা গেছেন। গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। হাসপাতালে নেওয়ার পর সে যুবকও মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত লোকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। নিহত পরিবারের সঙ্গে সন্দেভাজন যুবকের কোনো সম্পর্ক ছিলো কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যতটুকু জানি সে ভ্রমমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন।

ঘটনার পরপরই লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।