ভেনেজুয়েলায় পর পর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, বহু হতাহতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনের জেরে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। তবে এখন পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ নিহত বা আহতের কোনও আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।

সংস্থাটি বলেছে, ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর ভয়াবহ এই দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস এবং আশপাশের অঞ্চল কেঁপে ওঠার পর ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে।

এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দা এখনও নিজেদের বাসায় ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।

এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।




বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজঃ চীনের দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল  ৫ টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। 
চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণীকে লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রেলস্টেশন থেকে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে চীনের দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীসহ সফর সঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই থাকবেন।
এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১ টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
বেইজিংয়ে আসার আগে সকালে চীনের দালিয়ানে ‘ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুইদিনের সফর শেষ করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনে এটা তার প্রথম সফর।



ক্ষমতার পালাবদলে পরিচয় বদলের অভিযোগ, আলোচনায় প্রাণিসম্পদ পরিচালক শাহজামান খান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের প্রশাসনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান বদল করছেন—এমন অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক মো. শাহজামান খানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া এই কর্মকর্তা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ : অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, মো. শাহজামান খান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধা অর্জন করেন।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপন্থী পরিচয় ব্যবহার করে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহজামান খানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহাপরিচালক হওয়ার তদবিরের অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার থাকার কথা থাকলেও মো. শাহজামান খান বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন।

অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, প্রশাসন, সম্প্রসারণ, উৎপাদন এবং বিভাগীয় পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তিনি শীর্ষ পদে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ : সূত্রগুলো দাবি করছে, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি পদোন্নতিতে সুবিধা পেয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ পান।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ : মো. শাহজামান খানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খাতে অর্থ আত্মসাৎ, বিশেষ বরাদ্দ গ্রহণ, সরকারি গাড়ির অপব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে অনিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। সূত্রের দাবি, সাভারে দায়িত্ব পালনকালে প্রশিক্ষণ খাতের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

৪ আগস্টের কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক : অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর কৃষি খামার সড়কে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অবস্থানের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন।

ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয় : বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগ ও পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনে ‘জার্সি বদল’ সংস্কৃতি : বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ নতুন নয়। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি : মো. শাহজামান খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো না।




নেতানিয়াহুকে ‘ডিভোর্স’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গাজা উপত্যকার শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক মিত্রতার ‘ডিভোর্স’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে সব ইহুদিই এখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর মারাত্মক বিরক্ত। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই নামকরা সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের যৌথভাবে লেখা একটি নতুন গ্রন্থে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার এই উত্তপ্ত ফোনালাপের গোপন তথ্যটি ফাঁস করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সদ্য প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বইটির বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অংশ বিশেষ উধৃত করা হয়। বইটির বিবরণ অনুযায়ী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটেছিল।

তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে নিজের তৈরি করা বিশেষ শান্তি পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন এবং ওই ফোনালাপের সময় মার্কিন বিশেষ শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ওই সংবেদনশীল ফোনালাপের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত। এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।’ এখানে ট্রাম্প মূলত তার পাশে থাকা কুশনার ও উইটকফের কথা বুঝাচ্ছিলেন কারণ তারা দুজনেই ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বরাতে বইটিতে আরও দাবি করা হয় যে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি।’ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে স্থায়ী ফাটল বা বিচ্ছেদ ঘটবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার প্রাথমিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নিজেদের মধ্যকার নিবিড় সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তেহরানকে পুরোপুরি বাগে আনতে ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকেই ইসরায়েলের যুদ্ধ নীতির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রমেই চরম অসন্তুষ্ট ও সমালোচনামূলক হয়ে ওঠেন।

সূত্র: আরটি অনলাইন




নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি বৈঠকে বসছে বুধবার (২৪ জুন)। কারিগরি ও আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পে-স্কেল কমিটি আজ এ বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় ৩টি ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করা হলেও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরালো দাবির মুখে এটি কমিয়ে ২ ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যায় কিনা, তা নিয়ে আগামীকাল গভীরভাবে আলোচনা করা হবে।

বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য নিরসন এবং কারিগরি ও আইনি জটিলতা দূরীকরণসহ নানা বিষয়ে এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থাৎ পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বুধবার সচিব কমিটির সভা হওয়ার দিন রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর করার বিষয়টি। একইসঙ্গে আইনি ভেটিংয়ের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত পূর্বের বিধিমালা সংশোধন এবং পে-স্কেলের জটিল হিসাব-নিকাশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইবাস++-এর মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।

এর আগে, গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।




প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজঃ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও গতিশীল করতে নতুন হিসাব সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন।

এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ খাতের সংযোগ জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এ হিসাব খোলা যাবে। গ্রাহকরা সঞ্চয়ী, চলতি অথবা স্থায়ী আমানত হিসাব হিসেবে এটি পরিচালনা করতে পারবেন।

সার্কুলার অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগের আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত অর্থসহ বৈদেশিক মুদ্রা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল এ হিসাবে জমা রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ হিসাবে জমাকৃত অর্থ এবং অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনযোগ্য। ফলে প্রবাসীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এ ছাড়া হিসাবের অর্থ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাবগুলোতে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ।

নতুন এই সার্কুলারের একটি বড় দিক হলো, এই হিসাবে জমাকৃত তহবিল ব্যবহার করে দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলের (যেমন- ইপিজেড, বেজা) ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় টাকা বা কারেন্সিতে ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এই ঋণ সুবিধা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চলতি ব্যয়, যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আর এই ঋণের টাকা অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া এ হিসাবের বিপরীতে জামানত রেখে প্রবাসী বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। তবে কৃষি, বাগান ও আবাসন খাতে এ ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না।

ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক মহল বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন হিসাব ব্যবস্থা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে, অফশোর ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং প্রবাসীদের দেশীয় অর্থনীতি ও বিনিয়োগে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।




ইসরায়েলি গোপন বন্দিশালায় ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ নির্যাতন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি বন্দিশালায় ফিলিস্তিনিদের কোনো নাম বা পরিচয় থাকে না, তাদের কেবল একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। সেখানে বন্দিদের সার্বক্ষণিক চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা এবং হাত-পা শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। সামান্য নড়াচড়া করলেই তাদের ওপর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয় কিংবা রক্ষীদের মারধরের শিকার হতে হয়।

বন্দিশালার ভেতরের অস্থায়ী হাসপাতালে আহত ও অসুস্থ বন্দিদের সম্পূর্ণ নগ্ন করে লোহার বিছানার সাথে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের জিপ-টাই বা শক্ত তার দিয়ে হাত-পা বাঁধার কারণে অনেকেরই পচন ধরে যায়।

অভিযোগ রয়েছে যে, অভিজ্ঞতাহীন বা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দিয়ে কোনো অবশ করার ওষুধ বা অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই বন্দিদের হাত-পা কেটে ফেলা বা অঙ্গচ্ছেদ করা হতো। সিএনএন শুধু ইসরায়েলি তথ্যদাতাদের ওপরই নির্ভর করেনি বরং সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন বন্দির সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। তাদেরই একজন গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ আল-রান জানান, তাদের মানুষের চেয়েও অধম পশুর মতো বিবেচনা করা হতো।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাবি করেছে যে তারা আইন অনুযায়ী বন্দিদের দেখাশোনা করে। তবে তারা বন্দিদের নগ্ন রাখা বা ডায়াপার পরিয়ে রাখার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেনি।

উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ‘সেদে তেমান’ মরুভূমির ক্যাম্পে ১০০টিরও বেশি নতুন কাঠামো ও বিশাল তাবু তৈরি করে বন্দিশালার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে সম্পূর্ণ গোপনে বন্দি রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।




চীনের দালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান শহর থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে একই দিন সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনের প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ শীর্ষক ওই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ অংশ নেন।

ডব্লিউইএফের তথ্য অনুযায়ী, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২২ জুন) চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে এখন বেইজিং পর্বের সফর শুরু হলো তাঁর।




ইরানের সঙ্গে চুক্তিকে ট্রাম্পের পরাজয় মনে করছেন মার্কিনিরা, তারা হতাশও

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মনে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের গ্লানি তৈরি হয়েছে। ‘সিবিএস নিউজ-ইউগভ’-এর নতুন একটি বড় জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির সিংহভাগ নাগরিক এই যুদ্ধের অবসান চাইলেও ট্রাম্পের এই চুক্তিকে তারা মার্কিন প্রশাসনের বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে নিজেদের রাজনৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করলেও সাধারণ মার্কিন জনগণের মনোভাব সম্পূর্ণ উল্টো। তারা মনে করছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আদতে কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে আগামী দিনে এর বড় মাশুল গুনতে হবে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়েছে, যেখানে বড় একটি অংশ একে ইরানের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার যে মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে বড় ব্যর্থতা দেখছেন সাধারণ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন এবং খোদ রিপাবলিকান দলের ৪৫ শতাংশ কর্মী মনে করেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হলেও তা ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে পারবে না।

এদিকে মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশই মনে করছে, যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে ইরান এখন সামরিক ও কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখার যে ক্ষমতা তেহরান দেখিয়েছে, তা তাদের অবস্থানকে বিশ্বমঞ্চে মজবুত করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ নাগরিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে বুঝতেই পারেনি এবং তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল যে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মতো সাহস ও সক্ষমতা দেখাবে, তা শুরুতে খাটো করে দেখেছিল ওয়াশিংটন।

চার থেকে ছয় সপ্তাহের কথা বলে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার মাস ধরে টেনেহিঁচড়ে চলায় মার্কিন জনগণের মধ্যে তীব্র ক্লান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কোনো বড় সাফল্য বা অর্জন ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মার্কিনরা আর দেখতে চান না বলেই তারা একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিও মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। জরিপের চূড়ান্ত উপসংহারে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্বঘোষিত সব লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে এই চুক্তিতে পৌঁছায়নি, বরং তারা শুধু যেকোনো মূল্যে এই ঝামেলা ও সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তি টানতে চাইছে।




জামায়াত সমর্থিত ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াত সমর্থিত ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। গতকাল সোমবার (২২ জুন) একযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এই আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন—ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন—ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।

তবে একসঙ্গে এতসংখ্যক আইন কর্মকর্তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।