নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল পেলে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

এসময় ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।




এবারো বিশ্বকাপ শিবিরে জন্মদিনের কেক কাটলেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্কঃ বিশ্বকাপ শিবিরে আবারও জন্মদিন কাটালেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পরদিনই ৩৯তম জন্মদিনে সতীর্থদের সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন এই বিশ্বফুটবল তারকা।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শেষ ৩২এ জায়গা নিশ্চিত করার আনন্দের মাঝেই কানসাস সিটিতে দলের ক্যাম্পে নিজের জন্মদিন পালন করেন লিওনেল মেসি।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করার পরদিন বুধবার দলের হোটেলে সতীর্থদের সঙ্গে অনাড়ম্বর পরিবেশে কেক কেটে ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। রাজকীয় কোনো আয়োজন ছাড়াই পুরো অনুষ্ঠানটি হয় পারিবারিক ও দলীয় আবহে।

আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে থাকা দুই সদস্য—প্রধান রাঁধুনি আন্তোনিয়া ফারিয়াস ও গ্রিল মাস্টার ডিয়েগো ইয়াকোভোনেরও একই দিনে জন্মদিন থাকায় তাঁদের সঙ্গেও কেক কাটার মুহূর্ত ভাগ করে নেন মেসি।

জন্মদিনে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ওলেকে দেওয়া মন্তব্যে মেসি জানান, জীবনে ফুটবল ও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন। এখন তার একমাত্র প্রার্থনা হলো সুস্বাস্থ্য এবং যতদিন সম্ভব খেলা উপভোগ করা।

দলের ভেতর থেকে জানা গেছে, সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল জানিয়েছেন মেসির জন্য বিশেষ একটি সারপ্রাইজ প্রস্তুত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ম্যাচে গ্যালারিভর্তি সমর্থকেরা তাকে জন্মদিনের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

বিশ্বকাপ শিবিরে বারবার জন্মদিন উদযাপনের এই ধারাবাহিকতা আর্জেন্টিনা ক্যাম্পে আলাদা এক আবেগ তৈরি করেছে, যা দলের ভেতরের ঐক্য ও উদ্দীপনাকেও আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।




২২ বছর গৃহবন্দি, নির্যাতনের অভিযোগ কুমু বেগমের; ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্না

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কুমু বেগম (২৭)।

গতকাল বিকালে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার সেনপাড়া পর্বতার ৬ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘মিরপুর প্রেস ক্লাব’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

শৈশব থেকে গৃহবন্দি জীবনের অভিযোগ-
সংবাদ সম্মেলনে কুমু বেগম দাবি করেন, ছোটবেলায় পরিবারহীন হয়ে পড়ার পর ২০০৫ সালের দিকে মাত্র ৭ বছর বয়সে তাকে ঢাকার কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকার মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা মো: জাহাঙ্গীর লতিফ (৫০)-এর বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে নিয়ে আসা হয়।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করালেও পরবর্তীতে তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো হয় এবং ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে গৃহকর্তা তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান, যা ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন প্রকাশ করতে পারেননি।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর লতিফ বর্তমানে নিজের উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকায় ৪০৫ নাম্বার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এছাড়াও পাশেই তার আরেকটি ৬ তলা বিশিষ্ট বাড়িসহ আরোও অসংখ্য ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে।

আটক রাখা ও বাসা থেকে বিতাড়নের অভিযোগ-
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে বহুবার বাসার ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং এক পর্যায়ে তিন দিন পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়া, বিয়ের বয়স হলে বিয়ের খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরে তা না দিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে কোনো প্রকার অর্থ বা নিরাপত্তা ছাড়াই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়।

পরিবারবিরোধী অভিযোগ-
সংবাদ সম্মেলনে কুমু বেগম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর লতিফের স্ত্রী ও দুই কন্যা (বড় কন্যা জেবা রাইসা ও ছোট কন্যা দিয়া রাইসা) তার ওপর নির্যাতন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন, যাতে তিনি বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণের দাবি-
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিশে শ্রম আইনের আওতায় বকেয়া মজুরি ও প্রতিশ্রুত অর্থসহ মোট ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

তার হিসাব অনুযায়ী, ১৯ বছরের বকেয়া বেতন (মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে) ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং বিয়ের খরচ বাবদ প্রতিশ্রুত ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ-
কুমু বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর লতিফের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় ৪০৬/৪২০/৩২৩/৫০৬ (প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, নারী ও শিশু নির্যাতন, শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং মানব পাচার) সহ একাধিক ধারায় মামলা করেছেন। মামলা নং- ১০৬/২০২৬।




দীর্ঘদিন পর বিটিআরসির ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, উঠল অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর আটজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই তারা চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদোন্নতিও লাভ করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিটিআরসিতে কর্মরত রয়েছেন। চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা পদোন্নতিও পেয়েছেন। সম্প্রতি তাদের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি তুলে কিছু মহল অভিযোগ করেছে যে, নিয়োগের সময় প্রযোজ্য বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলি অনুসরণ করা হয়নি।

অভিযোগের আওতায় যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— সেলিনা পারভীন, বর্তমানে উপ-পরিচালক (প্রশাসন); মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মোহাম্মদ কামরুল হাসান, উপ-পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং); মুহাম্মদ জাকারিয়া ভূঁইয়া, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ইএন্ডও); তৌসিফ শাহরিয়ার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; তানজারা বিনতে আনসার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক; মাসুদ কামাল, স্টোর অফিসার; এবং এফএম সোয়েব শাহরিয়ার, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা অথবা অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে কোনো কার্যকর পর্যালোচনা না হওয়ায় তারা চাকরিতে বহাল থাকেন এবং নিয়মিতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত, নিয়োগবিধি এবং প্রযোজ্য আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত উপেক্ষা করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন প্রশাসনিক অনুমোদন পর্যালোচনা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর কোনো নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একদিকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিটিআরসির বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অভিযোগগুলোর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও প্রয়োজন, যাতে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থান জানা যায়।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করা। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পায়, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

অভিযোগকারীরা বিষয়টির তদন্ত এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়োগ ও পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে বিটিআরসির এই আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি, কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের ওপর। অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হলে তার ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না।




ডিএই প্রশাসন শাখায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ: সিন্ডিকেট, বদলি বাণিজ্য ও অনিয়মের জালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা খামারবাড়িস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুদকের চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের আশ্রয় প্রদান, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং রমরমা বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মকর্তার সিন্ডিকেটের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিশেষ সখ্যের কারণে মাসুম বিল্লাহ খামারবাড়িতে স্বঘোষিত ‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

১. দুদকের চার্জশিটভুক্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আগলে রাখার অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লুটপাট ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক এস এম আনিসুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর-৯০/২০২২)।

কারাগারে প্রধান আসামি: এই মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যতম শীর্ষ আসামি সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন।

পলাতক আসামিদের পুনর্বাসন: তবে এই মামলার ২ নং আসামি উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক অলিউল্লাহ প্রধান (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কর্মরত) এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মূল হোতা প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের সাবেক ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসান—উভয়েই গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

২. বদলি আদেশকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’: ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে খামারবাড়িতেই অবস্থান
বিগত ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে খামারবাড়ির ক্যাশিয়ার মোঃ জাহিদ হাসানকে ময়মনসিংহে এবং একই শাখার ক্যাশ সরকার মোঃ হাবিবুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়। এরপর ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্তির (রিলিজ) আদেশও দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন পদায়নকৃত ক্যাশিয়ার মোঃ আল-আমিন যোগদান করলেও জাহিদ হাসান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং কর্মস্থলে বহাল আছেন। খামারবাড়ির সূত্র মতে:

ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসান ৫ লক্ষ টাকা এবং ক্যাশ সরকার হাবিবুর রহমান ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মাসুম বিল্লাহর কাছ থেকে বদলি আদেশ বাতিলের মৌখিক আশ্বাস পেয়ে আগের আসনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মূলত জুন মাসের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার ও কোটেশনের ‘ভাগবাটোয়ারা’ নিশ্চিত করতেই এই পলাতক আসামিকে খামারবাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছে।

৩. জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘আওয়ামী পুনর্বাসন’ ও বদলি বাণিজ্য
স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে যেসকল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছিল, মাসুম বিল্লাহর সিন্ডিকেট তাদের খামারবাড়ির লাভজনক পদে ফিরিয়ে আনছে।

নন-ক্যাডার ও উপ-সহকারী বদলি: কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে পদায়নের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গোপন অর্ডার ও ব্যাকডেটেড সই: বিগত এক মাসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি আদেশ ডিএই-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে, গোপনে হার্ডকপি প্রার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পদ শূন্য না থাকলেও মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে সালাহ্উদ্দিন ভূঞা নামের এক উপ-সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নরসিংদী হর্টিকালচার সেন্টারে বদলি করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খানকে দিয়ে ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে আদেশ কার্যকর দেখানো হলেও চিঠিতে ১৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখের ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে।

৪. ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে মাসুম বিল্লাহ বড় কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে বদলি বাণিজ্য চালাচ্ছেন।

বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি চক্রান্তের মাধ্যমে অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন-১) মোঃ হাসানুজ্জামানকে বদলি করান।

এরপর উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ মুরাদুল হাসান ২৭/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে হজে যাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহ পুরোপুরি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৯ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেডে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি অফিসারদের সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের নাম করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

৫. সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির নজিরবিহীন অপব্যবহার
নিয়ম অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে মাসুম বিল্লাহ ফুলটাইম সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন।

তিনি ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৬১৬৭ নম্বরের গাড়িটি গভীর রাত পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।

তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তিনি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার সরকারি তেল অপচয় করছেন।

তার এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে খামারবাড়ির কোনো চালক কথা বললে বা গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষমতার জোরে তাকে খামারবাড়ির বাইরে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

৬. অতীতের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ‘অদৃশ্য বাধা’
খামারবাড়িতে যোগদানের আগে ১৬/০১/২০১৮ থেকে ০৫/০৬/২০২৪ পর্যন্ত পাবনা সদর ও চাটমোহর উপজেলায় কৃষি অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। কৃষকের বরাদ্দ লোপাট করে তিনি পাবনা জেলা সদরে একটি ৫ তলা বিলাসবহুল ভবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিগত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর খামারবাড়ির মেইন গেটে তালাবদ্ধ করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, প্রশাসন ক্যাডারের অফিসারদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত মার্চ/২০২৫-এ তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হলেও, এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় তিনি এখনো বহাল তবিয়তে খামারবাড়িতে রয়ে গেছেন।

উপসংহার: সরকারের কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরে একজন অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের এমন প্রকাশ্য জবরদস্তিমূলক দুর্নীতি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাটি সুশাসনের চরম পরিপন্থী। অধিদপ্তরের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহল অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উপদেষ্টা মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 




সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ প্রণালি পার হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’

ডেস্ক নিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়। বর্তমানে জ্বালানি (বাংকারিং) গ্রহণের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক গণনাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে জাহাজের অবস্থান নির্দেশক ওয়েবসাইট ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ বাংলার জয়যাত্রার অবস্থান দেখাচ্ছিল ইরানের কেশম দ্বীপ ও ওমানের বন্দর শহর খাসাব এর মধ্যবর্তী অংশে হেনগাম দ্বীপের সমান্তরালে। তখন জাহাজের গতি ছিল ৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল।

এরপর সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ‘ভেসেল ফাইন্ডার’ এ দেখা যায়, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হেনগাম দ্বীপ অংশ অতিক্রম করে এগিয়ে গেছে। তখন জাহাজের গতিবেগ ছিল ৭ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইল।

হরমুজ পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগর অতিক্রম করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটির পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাই এর জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়।

এরপর থেকে পারস্য উপসাগরেই আটকে ছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’; মাঝে একাধিকবার প্রণালি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে চ্যানেলের কাছাকাছি অবস্থান নিলেও তা সফল হয়নি। জাহাজটির ৩১ জন নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে প্রণালি পাড়ি দিতে আইআরজিসি’র অনুমতির অপেক্ষায় ছিল যানটি।




রাজউক জোন-৫/১ এ মোবাইল কোর্টে অনিয়মের অভিযোগ, ইমারত পরিদর্শক মেহরাব ও অথোরাইজড সাইদার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর জোন-৫/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম, দায়সারা অভিযান এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ মেহরাব হোসেন। একই সঙ্গে এই অনিয়মে অথোরাইজড সাইদা ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বন্ধে রাজউকের নির্ধারিত আইনগত কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং মোবাইল কোর্টের নামে পরিচালিত হচ্ছে লোক দেখানো অভিযান। অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা, ভবন ভাঙার নির্দেশ বা মামলা করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বা অন্যান্য মিটার খুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী সরঞ্জাম অপসারণের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এসব অভিযান মূলত আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট ভবন মালিকের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।

একজন অভিযোগকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ভবন মালিকের সঙ্গে মেহরাব হোসেনের অস্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। ওইসব স্থানে অভিযান হয় শুধুই আনুষ্ঠানিকতার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নরম অবস্থান নেওয়া হয়। অভিযোগ করলে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

মোহাম্মদপুরের সিমেক্স প্রপার্টিজের চানমিয়া হাউজিং এর এক ভবন মালিক লিখিত ও মৌখিকভাবে সরাসরি ইমারত পরিদর্শক মেহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনে বাধ্য করা হয় এবং অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভবন মালিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাসার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নেওয়া হলে এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করতে, অথোরাইজড সাইদা ইসলামের দিকে ইঙ্গিত করেন মেহরাব হোসেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এইসব অভিযোগ/ কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত নয় সবকিছুই ভিত্তিহীন এবং “অথোরাইজড সাইদা ইসলাম সবকিছুই জানে তার কথাতেই সবকিছু হয়।” তবে এ বিষয়ে সাইদা ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন দেওয়া হয় কিন্তু তিনি কোন ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ রয়েছে, মেহরাব হোসেন ও সাইদা ইসলাম সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় গাফিলতি করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ভবন বা স্থাপনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না, ফলে অবৈধ নির্মাণ নির্বিঘ্নে চলতে থাকে। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণে নীরব সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোন-৫/১ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ বেড়েই চলেছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনিয়মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে- কলমে সীমাবদ্ধ থাকে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অবৈধ নির্মাণ থামানোর বদলে এগুলো আরও বাড়ছে।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজউকের মোবাইল কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গাফিলতি থেকে গেলে তা পুরো নগর ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতে নগর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ রোধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ নতুন নয়। জোন-৫/১ এলাকায় সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।




সরকার পাল্টেছে, ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক রয়ে গেছে: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ঠিকাদারি বাণিজ্য ঘিরে ভিন্ন এক চিত্রের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—বিগত আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে তারা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, সাভার ডেইরি ফার্ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে একচেটিয়া ব্যবসা করত, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

পুরোনো সিন্ডিকেটের নতুন পরিচয় : একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প—ছাগল উন্নয়ন প্রকল্প, প্রুভেন বুল প্রকল্প, ছিটমহল প্রকল্প, সাভার ডেইরি ফার্ম, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, কুমিল্লা মুরগি খামার, নারায়ণগঞ্জ হাঁস খামার, সীতাকুণ্ড হাঁস-মুরগি খামার, হাটহাজারী ডেইরি ফার্মসহ দেশের বিভিন্ন খামারে একই গোষ্ঠীর ঠিকাদারদের আধিপত্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দরপত্রে এমন সব শর্ত সংযুক্ত করা হচ্ছে যা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেয়। এর ফলে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে একক দরদাতা কাজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

দরপত্র মূল্যায়নে ‘একই মুখ’ :
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা অধিকাংশ দরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের কয়েকজন এখনও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও সরকারি ক্রয়বিধির যথাযথ অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের ভেটেরিনারি সার্জনকে ঘিরেও নানা অভিযোগ উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তার দাবি, তাকে অসংখ্য দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য কিংবা সভাপতি করা হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তার জন্য সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে এবং সেই গাড়ি ব্যক্তিগত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ :
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম বিভিন্ন প্রকল্পে উঠে এসেছে।

সূত্রের দাবি, প্রায় ৯৮ লাখ টাকার একটি ওষুধ সরবরাহ প্যাকেজে একক দরদাতা হিসেবে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধ সরবরাহ সম্পন্ন হয়নি, ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিম্নমানের পশুখাদ্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে নীরব বিপদ ?
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে পশুখাদ্য সরবরাহ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক কোটি টাকার পশুখাদ্য সরবরাহের কাজে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে, যার সঙ্গে দরপত্রে জমা দেওয়া নমুনার মিল নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের বা ভেজাল পশুখাদ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক, ছত্রাকজনিত বিষাক্ত উপাদান, নিম্নমানের কাঁচামাল বা দূষিত উপাদান থাকলে তা পশুর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রভাব পরবর্তীতে দুধ, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পশুখাদ্যে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে— প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দুধ ও মাংসের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। খাদ্যনিরাপত্তা ও জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। খামার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিভিন্ন খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে স্বতন্ত্র পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সৎ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, বিগত সরকারের সময় গড়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে অধিদপ্তরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।

তদন্তের দাবি : সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মন্ত্রণালয়, সচিবালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন— গত এক বছরে সকল বড় সরবরাহ কাজের নিরীক্ষা। পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থা। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা।একক দরদাতা হিসেবে প্রাপ্ত প্যাকেজগুলোর তদন্ত। সরকারি যানবাহারের ব্যবহার ও প্রশাসনিক সুবিধার নিরীক্ষা। এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের আর্থিক ও প্রশাসনিক যোগসূত্র অনুসন্ধান।

শেষ কথা : সরকার পরিবর্তনের পরও যদি পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও জনস্বার্থের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে সেটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে পশুখাদ্যের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। কারণ, খামারে সরবরাহ হওয়া নিম্নমানের খাদ্যের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে।




অভিযোগ নাকি চরিত্রহননের কৌশল?’— আরিফ হাসনাতকে ঘিরে একতরফা প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একতরফাভাবে একজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মৌলিক শর্ত হচ্ছে তথ্যের বহুমাত্রিক যাচাই, নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগের ভাষাই যেন রায়ে পরিণত হয়েছে।

‘দুই হাজার কোটি টাকার লুট’— কোথায় সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন ?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ‘পানির দামে’ বিক্রির অভিযোগ আনা হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘লুটেরা’, ‘সিন্ডিকেট প্রধান’ বা ‘দুর্নীতির হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।

অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণ নয় : দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অথচ কিছু প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

ব্যক্তিগত জীবন টেনে আনার উদ্দেশ্য কী?

আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা কথিত ভিডিও সংক্রান্ত যেসব দাবি প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা কোথাও নিশ্চিত করা হয়নি। ভিডিওর উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট কিংবা ফরেনসিক যাচাই ছাড়াই এসব তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সাংবাদিক মহলের একাংশের মতে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার অভিযোগ :
প্রতিবেদনগুলোতে বারবার অতীত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরা হলেও এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য নথি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

প্রশ্নের মুখে একতরফা সাংবাদিকতা : গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্তের আগেই তাকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরিত্রহননের দায়ও সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।

এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত:
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আরিফ হাসনাতকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যেমন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে, তেমনি অভিযোগভিত্তিক একতরফা প্রচারণার উৎস, উদ্দেশ্য ও পেছনের স্বার্থও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন যেমন জরুরি, তেমনি কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া ‘দুর্নীতির প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রবণতাও গণমাধ্যম ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।

অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটি কি সত্যিই একটি বৃহৎ দুর্নীতির কাহিনি, নাকি প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতে গড়ে ওঠা একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের অভিযান ?




ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ: আরিফ উদ্দিনকে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও এবং যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতেও একটি চক্র একই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। বর্তমানেও একই কৌশলে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন এবং এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিন মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেছেন, জিডি নং- ১৬৫৩।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এআই-নির্মিত ভিডিও বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ব্যক্তি অধিকার, গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর যদি অপপ্রচার বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব, অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।