ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ: আরিফ উদ্দিনকে হয়রানির চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠদের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের দাবি, একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও এবং যাচাইবিহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতেও একটি চক্র একই ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। বর্তমানেও একই কৌশলে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া তা প্রচার করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন এবং এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ বিষয়ে আরিফ উদ্দিন মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেছেন, জিডি নং- ১৬৫৩।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এআই-নির্মিত ভিডিও বা সম্পাদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় তা ব্যক্তি অধিকার, গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, যদি কোনো অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর যদি অপপ্রচার বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকে, তবে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গুজব, অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।




সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে

ক্রীড়া ডেস্কঃ লিওনেল মেসির ১৮ বছর পুরনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়লেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে ফিফা বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির চেয়ে ঠিক ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন, এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসি যখন প্রথম গোল করেছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। একই সাথে ব্রাজিলের মহানায়ক পেলের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করার অনন্য রেকর্ডও ছুঁয়েছেন ইয়ামাল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রবিবারের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইয়ামালের রেকর্ড গড়া গোলের ওপর ভর করে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করার ধাক্কা সামলে এই জয়ে টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইয়ামালরা। ম্যাচের ১১তম মিনিটেই স্পেনের হয়ে গোল উৎসবের সূচনা করেন ইয়ামাল।

অপটার (Opta) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই গোলের পর লামিন ইয়ামাল বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সে ফিফা বিশ্বকাপ এবং উয়েফা ইউরো—উভয় বড় টুর্নামেন্টেই গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে দেশের হয়ে প্রথম ওপেনিং গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন। পেলের দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ইয়ামালই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের ম্যাচে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করলেন।

স্পেন জাতীয় দলে এই কিশোর তারকার প্রভাব কতটা, তা ফুটে ওঠে আরেকটি পরিসংখ্যানে। ইয়ামাল শুরুর একাদশে থাকা ২১টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি স্পেন; যার মধ্যে ১৫টিতেই জয় এবং ৬টি ড্র। এই ২১ ম্যাচে স্পেনের করা ৬০টি গোলের মধ্যে ১৬টি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন ইয়ামাল, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট।

সূত্র: দ্যা স্টেটস ম্যান




ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো কাতার, আহত অর্ধশতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের একটি প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মানুষ সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন। 

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই বিকট বিস্ফোরণটি ঘটে, যার তীব্রতায় রাজধানী দোহাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ঘরবাড়ির দরজা ও জানালা জোরে কেঁপে ওঠে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর পরই কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র রাসলাফফানের অভ্যন্তরে একটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এই আকস্মিক বিস্ফোরণের উৎপত্তি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই কাতার পুলিশ ও উদ্ধারকারী বিশেষ বাহিনী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অনেকেই প্রাথমিক মুহূর্তে এটিকে শক্তিশালী ভূমিকম্প কিংবা নতুন কোনো সামরিক হামলা বলে ভুল করেছিলেন। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে রাসলাফফান গ্যাসক্ষেত্রের দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস বা অন্য কোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান লিক হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েনি।

সূত্র: গালফ নিউজ ও সিনহুয়া




বিআইডব্লিউটিসিতে ক্ষমতার প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ, নজরে পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে নানা অভিযোগের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার, জাহাজ মেরামতের কাজে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআইডব্লিউটিসির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আশিকুজ্জামান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ করে সংস্থার জমি, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, করপোরেশনের সম্পদ রক্ষার বদলে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে। এ নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির ভেতরেও একাধিকবার অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তার চাকরিজীবনের পদোন্নতির বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এস এম আশিকুজ্জামান এজিএম ফিডার পদে নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার আগেই ২০১৫ সালে ডিজিএম (সাময়িক) পদে দায়িত্ব পান। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধিমালায় এমন পদোন্নতির সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরে ডিজিএম পদে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও উচ্চ পদে দায়িত্ব পান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে তিনি বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ওই সময় থেকে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত কাজে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই প্রক্রিয়ায় আশিকুজ্জামানের ভূমিকা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিসিতে প্রায় ৬০০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের সময় আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন প্রার্থী বয়স ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদনপত্র, সভার সিদ্ধান্ত, নোটশিট এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকাসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া জাহাজ মেরামত ও সংস্কারকাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু মেরামত কাজে নিয়মিত দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের হাতিয়া থেকে ভাসানচর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত এসটি জব্বার জাহাজ মেরামতের ক্ষেত্রে টেন্ডার ছাড়াই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে আইভি রহমান নামের আরেকটি জাহাজের সংস্কারকাজ নিয়েও। অভিযোগকারীদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লুজ যাত্রী পারাপারের টিকিট ও ইজারা ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কম মূল্যে ইজারা দেওয়ার কারণে সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করছে দুদক।

এদিকে এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী নামের দুটি জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

দুদকের অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আশিকুজ্জামান ও তার স্ত্রী ফারজানার সম্পদের তথ্য যাচাই। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নামে থাকা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে এস এম আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, জাহাজ মেরামত, ক্রয় বা সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ তার সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দুদকের এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত বিষয় সামনে আসবে।

সব মিলিয়ে এস এম আশিকুজ্জামানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। নিয়োগ থেকে শুরু করে টেন্ডার, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক কার্যক্রম—বিভিন্ন বিষয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর মিলবে তদন্ত শেষে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে, আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে দীর্ঘদিনের বিতর্কেরও অবসান হবে।




বেতন ৫৪ হাজার, সম্পদের হিসাব কোটি কোটি: সওজ প্রকৌশলী শাহনুর রশিদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত

এসএম বদরুল আলমঃ দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহনুর রশিদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরি থেকে পাওয়া আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মো. শাহনুর রশিদের সরকারি বেতন প্রায় ৫৪ হাজার টাকা হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর খিলগাঁও ও পল্লবীতে তার ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর ও রংপুর এলাকাতেও জমি, দোকান ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহনুর রশিদ তার সম্পদের উৎস হিসেবে চাকরির আয়, কৃষি ও দোকান ভাড়ার টাকা দেখিয়েছেন। তবে তার সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের হিসাবের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, সেটিই এখন অনুসন্ধান করছে দুদক।

দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মান নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুরের পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার বিষয়েও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণ না করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার মতোভাবে দরপত্রের শর্ত তৈরি করা হতো। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সীমিত করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির পর শাহনুর রশিদের প্রভাব ও সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। রাজনৈতিক পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া তার স্ত্রী শাবানার নামেও সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সম্পদ জব্দ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এসব অর্থ সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দিনাজপুরের বিরামপুর, বাঁশবাড়িয়া, কানিকাঠাল এবং রংপুরের সাতগাড়া এলাকায় তার জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জমি, দোকান ও প্লট কেনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিরামপুর এলাকায় দুটি দোকান ও গোডাউন, বিভিন্ন মৌজায় জমি এবং রাজধানীর খিলগাঁও ও পল্লবীতে ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিরামপুর এলাকায় ২০১০ সালে দোকান ও গোডাউন কেনা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুর ও রংপুর এলাকায় একাধিক শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। ২০২৩ সালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের উত্তর মেরাদিয়ায় এবং ২০২৪ সালে পল্লবীর বাউনিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও অভিযোগে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহনুর রশিদ বলেন, তিনি কোনো অনিয়ম বা অবৈধ পথে সম্পদ অর্জন করেননি। তার দাবি, সব সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিতে থেকে অল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, সম্পদের উৎস এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না—তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিল ছাড়ে অনিয়ম ও কমিশন দাবির অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-১১, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের দাবি, প্রকল্পের বিল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা, ফাইল আটকে রাখা এবং আর্থিক সুবিধা চাওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম বিভাগ-১১ এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে বিল অনুমোদনে দেরি হচ্ছে। তাদের দাবি, রানিং বিল কিংবা চূড়ান্ত বিল ছাড় করানোর ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা চাওয়া হয়। আর সেই দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী।

তাদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠান এই ধরনের দাবির সঙ্গে একমত না হলে ফাইলে অতিরিক্ত কাগজপত্র, ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক জটিলতার বিষয় দেখিয়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়। এতে কাজ শেষ করেও অনেক ঠিকাদার সময়মতো পাওনা টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ঋণ, ধার করা অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, বিল আটকে থাকার কারণে তাদের ব্যবসায়িক চাপ বাড়ছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অর্থ ছাড় না হওয়ায় শ্রমিক, সরবরাহকারী ও অন্যান্য খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতার ভয় দেখিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্ট খাতের কয়েকজনের মতে, সরকারি প্রকল্পের বিল অনুমোদনে অযথা বিলম্ব হলে শুধু ঠিকাদাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, সরকারি উন্নয়ন কাজও বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সময়মতো শেষ করতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, সরকারি প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, সরকারি দপ্তরের ফাইল ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন মনিটরিং এবং বিল অনুমোদন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। এতে কোনো কর্মকর্তা এককভাবে দীর্ঘ সময় ফাইল আটকে রাখার সুযোগ পাবেন না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-১১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।




মিরপুরে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন, সানভিউ টাওয়ার্সের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর মিরপুরে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সানভিউ টাওয়ার্স নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অধিগ্রহণ করা জমি নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভবন নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিয়ে মামলা চললেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সরকারি সংস্থাটি।

জানা গেছে, মিরপুরের পল্লবী থানার বাউনিয়া মৌজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা বড় একটি জমির অংশ নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সিএস ৩১২৪ ও সিএস ৩১২৮ দাগের জমির মধ্যে প্রায় ৩ একর জায়গা সানভিউ টাওয়ার্স দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করার পাশাপাশি নতুন আরও একটি ভবনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব জমি সরকার অধিগ্রহণ করে তাদের আওতায় নিয়েছে। কিন্তু সানভিউ টাওয়ার্স দাবি করছে, তারা ওই জমি সাগুফতা কোম্পানির মালিক জুয়েল মোল্লার কাছ থেকে কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে তারা জমিটি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ শুরু করে।

তবে সরকারি সংস্থার অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় এবং আদালতে মামলা চলার মধ্যেই ভবন নির্মাণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি জমির ওপর অনুমোদন ছাড়া এবং নকশার বাইরে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নির্মাণ বন্ধে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চিঠির পর রাজউক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভবনের কিছু অংশ ভাঙা হলেও পুরো নির্মাণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সানভিউ টাওয়ার্সের কর্মকর্তারা রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এই জমি নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত পুরোনো রেকর্ডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যেখানে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা ছিল। এ কারণে জমির কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারি জমি নিজেদের নামে দেখাতে কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া বা বিতর্কিত কাগজপত্র ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, সানভিউ টাওয়ার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিএস দাগের জমি দখল করে ব্যবসা করছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গার অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, ওই জায়গা সরকারি পরিকল্পনার অংশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে দখলের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, মিরপুর এলাকায় জমির মূল্য অনেক বেশি। প্রায় ৩ একর জমির বাজারমূল্য শতকোটি টাকার ওপরে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয় গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারিজুর রহমান বলেন, সানভিউ যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করছে সেটি গৃহায়নের অধিগ্রহণ করা জমি। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তারপরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেন, সরকারি জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দখল করতে দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সানভিউ টাওয়ার্সের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা জমিটি বৈধভাবে কিনেছেন। তবে ভবনের কিছু অংশ অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি হওয়ায় রাজউক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে সরকারি জমির মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন এবং ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে সানভিউ টাওয়ার্স ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি জমি রক্ষা ও অবৈধ দখল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।




বন বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ: বদলি, নিয়োগ ও বনভূমি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

এসএম বদরুল আলমঃ বন অধিদপ্তরের ঢাকা সামাজিক বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বন বিভাগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ, পদায়ন, এনওসি প্রদান এবং বনভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

হোসাইন মোহাম্মদ নিশাত ২০০৩ সালে ২২তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে বন বিভাগে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২৩ বছরের চাকরি জীবনে তিনি রাজধানীর বাইরে বড় ধরনের বদলির মুখোমুখি হননি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

২০১৩ সালে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তিনি তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং সাবেক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন বলে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল সোনারগাঁও চেকপোস্ট। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই চেকপোস্টকে ঘিরে গাছ পরিবহনের ট্রাক থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক কাঠবোঝাই ট্রাক চলাচল করত এবং প্রতিটি ট্রাক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়া হতো। পাশাপাশি চেকপোস্টের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন অফিসার, সহকারী স্টেশন অফিসার এবং বন প্রহরীদের পোস্টিং নিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে।

২০১৬ সালে হোসাইন নিশাত বন অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক (সংস্থাপন) পদে দায়িত্ব পান। এই পদে থাকাকালে বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোস্টিং পেতে অনেককে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হতো।

রেঞ্জ কর্মকর্তা, ফরেস্টার এবং বন প্রহরীদের বদলি নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, লাভজনক রেঞ্জ, চেকপোস্ট বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে নিয়মিতভাবে টাকা দিতে হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার পোস্টিংকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বন্যপ্রাণী আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া অনেক ফাইল আটকে রাখা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেওয়া হতো এবং প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক এনওসি থেকে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

২০২০ সালে বন বিভাগের পদোন্নতি নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পরও তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছিল এবং রাজনৈতিক পরিচয় থাকা কিছু ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল। এ ঘটনায় বন বিভাগের অনেক কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।

এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বন বিভাগে কর্মী নিয়োগ নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের চাচাতো ভাই গিয়াস তালুকদারের মালিকানাধীন ‘বলাকা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে প্রায় চার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগে কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একইভাবে ২০২৫ সালে ২৮৪ জন ফরেস্ট গার্ড নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা কমিটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে হোসাইন নিশাতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়।

বনভূমি দখল নিয়েও তার দায়িত্বকাল নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় বন অঞ্চলের আওতাধীন গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকায় বিপুল পরিমাণ বনভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। এসব এলাকায় রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এলাকায় বনভূমি দখলের ঘটনায়ও তার সহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদেশেও সম্পত্তি কেনার তথ্য রয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ গড়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

তবে হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে।




গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, ৩৯ দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে একের পর এক ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৯টি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই বিপুল সংখ্যক দরপত্র নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি সময়ে বেশ কিছু দরপত্র প্রকাশ করা হয়। এসব দরপত্রের মধ্যে রয়েছে টেন্ডার আইডি 1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851 এবং 1057813।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাগজে-কলমে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও বাস্তবে কিছু নির্দিষ্ট ঠিকাদার বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের রেট নির্ধারণ ও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।

এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, দপ্তরের বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন, প্রকল্প সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, আর্থিক সুবিধা ছাড়া অনেক ফাইল এগোয় না।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন কাজের ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সরকারি অর্থের অপচয়, কাজের মান কমে যাওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।




গণপূর্তের জিগাতলা ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক, তদন্তকারী নিজেই অভিযুক্ত!

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর জিগাতলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত নতুন বহুতল আবাসিক ভবনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুসরণ না করে যোগ্যতার বাইরে কয়েকজনকে বাসা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেন নিয়ম ভেঙে ডি-২ শ্রেণির একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। এ কারণে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে শফিকুল ইসলাম থাকায় বিষয়টির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহাবুব হাসানকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুপারিনটেনডেন্ট অফিসার আবু জাফর সিদ্দিক। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, গ্রেড ও বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে বাসা বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জিগাতলার নতুন ভবনে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ডি-২ শ্রেণির বাসা সাধারণত ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে অস্থায়ী গাড়িচালক জামান হোসেনকে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডি-১, ই, এফসহ বিভিন্ন শ্রেণির ফ্ল্যাট বরাদ্দেও পদমর্যাদা ও গ্রেডের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পছন্দের লোকজনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসা বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ প্রকাশের পর। পরে সরকারি আবাসন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তের সুপারিশ করে। এরপর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশ পাওয়ার পরও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি কমিটি করা হয়, যার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাসা বরাদ্দে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত নির্দেশের পর ওই চক্র বিষয়টি নিজেদের মতো করে সামলানোর চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, এই অনিয়মের তথ্য বাইরে যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহের ভিত্তিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা-৪ এর অফিস সহায়ক ফারুক রহমান শেখকে ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, তথ্য প্রকাশের কারণে চাপের মুখে পড়েই তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করতে হলে বর্তমান কমিটি বাতিল করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বাসা বরাদ্দে অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরে আসে।