হরমুজে আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর আধুনিক ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘কিছুক্ষণ আগে আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনীর উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর আরও একটি এমকিউ-ওয়ান ড্রোন আটক ও ধ্বংস করা হয়েছে।’

উদ্ধৃত বিমানটির মডেল সম্পর্কে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী অনেক বছর আগেই পুরনো এমকিউ-১ প্রিডেটর মডেলের ব্যবহার বন্ধ করে বড় এবং উন্নত এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন চালুর মাধ্যমে সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত করেছিল।

তবে আঞ্চলিক সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্রিয় এমকিউ-নাইন রিপার বহরের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে পেন্টাগন বাধ্য হয়ে পুরনো এমকিউ-ওয়ান প্ল্যাটফর্মটি পুনরায় সক্রিয় সেবায় ফিরিয়ে এনেছে বলে দাবি করেছে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা।

সূত্র: রয়া নিউজ




হার্টের রিংয়ে অতিরিক্ত দাম, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দুদকের অভিযান

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হার্টের রিং (করোনারি স্টেন্ট) বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে হাসপাতালটিতে হার্টের রিং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ সেবা প্রদানে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম সম্প্রতি হার্টের রিং পরানো হয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র দৈবচয়ন ভিত্তিতে সংগ্রহ করে।

এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হার্টের রিং পরিহিত রোগীদের কাছ থেকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম।

অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য এবং সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।




শেফালির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সামনে পাহাড়সম টার্গেট

ক্রীড়া ডেস্কঃ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার শেফালি ভর্মা। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের বিশাল পুঁজি পেয়েছে ভারত।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৭২ রান তুলে ফেলে ভারত। পাওয়ার প্লের শেষ বলে স্মৃতি মান্ধানাকে ৩৭ রানে থামিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন নাহিদা আক্তার।

গুনালান কামালিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৮৫ রানে দ্বিতীয় উইকেটটি পান সানজিদা আক্তার মেঘলা। তারপর চলেছে শেফালি শো। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।

দলীয় ১৭৯ রানে হারমানপ্রীত ৪০ রান করে রাবেয়া খানের শিকার হন। পরের ওভারে রিচা ঘোষ ২ রান করে মারুফা আক্তারের বলে আউট হন।

অন্যদিকে মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অপরাজিত  থাকেন শেফালি। ৩ চারে সঙ্গে ৯টি ছক্কা হাঁকান তিনি।




এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পথে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র: বাসস




উত্তর আন্দামান সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, দেশের ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর পুনরায় ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




তুহিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিল বাইক চুরির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিনের (১৯) বিরুদ্ধে এবার মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। একইসঙ্গে অতীতে তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে গেলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুহিন আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই তরুণ।

ফেসবুক পোস্টে সোহাগ দাবি করেন, তুহিন তাকেও একইভাবে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। তিনি লেখেন, “চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন! আমাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে বাইকটি নিয়ে যায়। সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি জিডি নেয়। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুলিশ বলেছিল—ওর মাথার ওপর রাজনৈতিক বড় নেতার হাত আছে, ওকে যেন কিছু না করা হয়। ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলে অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।”

পোস্টের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে তিনি থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি, খোয়া যাওয়া বাইকের ছবি এবং তুহিনের ছবি যুক্ত করেন।

এদিকে জেলা পুলিশের একটি গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি আটক তুহিনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তুহিন ও আনাস নামে দুজনকে আটক করার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে ফাহিম নামে আরও একজনকে আটকের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ালেও রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।




নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে কার বেতন কত হলো

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন–ভাতার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। যা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে, নতুন বেতনকাঠামোতে গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন, যা গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। গত ১ জুলাই থেকে যেহেতু নতুন বেতন-কাঠামো কার্যকর হয়েছে, তাই বকেয়া বেতনও পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বেতন-কাঠামোর অন্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতন-কাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।




‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমপি মনিরুল

ডেস্ক নিউজঃ কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, অপ্রতিম হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা এই সময়ে ঘটতে পারে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। এই ঘটনার কোনো জবাব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে? আমি তো লজ্জিত, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি। একজন মানুষ হিসেবে ভাই, আমি লজ্জিত। আমরা এরকম বাচ্চাদের রক্ষা করতে পারলাম না।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না। অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, জাতির ইতিহাসে যে কয়টি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, এটি তার মধ্যে একটি। এ ঘটনায় সবার বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুহিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মহিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন তুহিনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে।

অপ্রতিম শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সঙ্গে থাকা আইফোনটি পাওয়া যায়নি।




কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুমের শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ প্রকাশের পর সম্পাদককে ‘ডিবির এডিসি’ পরিচয়ে ফোন, চাপ সৃষ্টির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে দুই পর্বে সংবাদ প্রকাশের পর এবার সংবাদ প্রকাশের দায়ে সম্পাদককে ভয় দেখানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি সম্পাদকের মোবাইলে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি সম্পাদককে অফিসে এসে দেখা করতে বলেন।

সম্পাদক জানান, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ডিবির এডিসি পরিচয় দিয়ে অফিসে দেখা করতে বলেন।

সম্পাদক তখন জানতে চান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানো হোক। এরপর ফোনদাতা আর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা লিখিত নোটিশের কথা বলেননি।

পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশের  ও কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, ফোনদাতা রাজস্ব কর্মকর্তা বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের একজন আত্মীয়। সে প্রভাব বিস্তার করতে ডিবির এডিসি দিয়ে ফোন করায়। দুর্নীতির ডায়েরির অভিযোগ, পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে সম্পাদককে ভয় দেখিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে চাপে ফেলাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যের পরিচয় ধারণ করে কাউকে ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা দণ্ডবিধির আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তা প্রমাণিত হলে ফোনদাতার পাশাপাশি এর পেছনে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও আইনের আওতায় আসতে পারেন।

সম্পাদককে ফোন করার ঘটনায় তাঁর কোনো ভূমিকা আছে কি না, জানতে বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে।

সংবাদের মূল প্রশ্ন অমীমাংসিতই

ফোনের এই ঘটনা মূল অভিযোগের জবাব নয়। ভাটারায় স্ত্রীর নামে জমির তথ্য, নথিপত্রে ০.৪০ একর ও ডিজিটাল রেকর্ডে ৪.৯৬ একরের অসঙ্গতি, ডিপলোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউস-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ, এসব নিয়ে দুদক ও এনবিআরের তদন্ত এখনো বহাল রয়েছে। মাসুম বা তাঁর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোনো নথিভিত্তিক জবাব এখন পর্যন্ত আসেনি।

সেই নির্বাহী সম্পাদক এ আর জসিম জানিয়েছে, ভয়ভীতি বা চাপের মুখে তারা অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ থেকে সরে আসবে না। দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে কাজ করে যাবে তার সংবাদপত্র।




১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, নিয়োগ ও নির্মাণকাজেও অনিয়মের প্রশ্ন—দুদকের নজরে শিক্ষা প্রকৌশলের প্রধান প্রকৌশলী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিন্ডিকেট গঠন, বদলি-বাণিজ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও নিয়োগে অনিয়ম, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে অর্থ লেনদেন এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, কিছু এসেছে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে।

মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি বদলি আদেশে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি ও কয়েকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতার অভিযোগ আছে। ওই সময় তারেক আনোয়ার জাহেদীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বদলি ও পদায়নকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেও তারা বদলি-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি-বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্বকালে পছন্দের পদে বসানোর কথা বলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার একটি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের সুযোগ নিয়ে দ্রুতগতিতে বড় অঙ্কের বদলি-বাণিজ্য করা হয়েছে। অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী দাবি করেছেন, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পদায়ন, তাঁদের আবেদন, আদেশের সময় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, উদ্দেশ্যমূলক বদলি ও পদায়নের কারণে কর্মকর্তারা কয়েকটি পৃথক বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরেও বদলি নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন প্রকাশ্যে আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলি আদেশ বাস্তবায়নে ইইডির ভেতরে বাধা তৈরি হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখন একটি বদলি-সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ করেছিল। ওই সময় তারেক আনোয়ার জাহেদীর সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের নিচের সারির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অর্থ গ্রহণের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরাসরি অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে নিচের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা হয়।

প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত জসিম নামের এক কর্মচারীকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে আসার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি এ ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, সে প্রশ্নও সামনে আসে।

নির্মাণকাজের মান ও সময় নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণে যেখানে নয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা, সেখানে কোনো কোনো প্রকল্প চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইইডিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ওই চিঠির জবাবেও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়নি।

অধিদপ্তরের অতীতের নিয়োগ ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

অন্যদিকে, তারেক আনোয়ার জাহেদীর দায়িত্বকালে অধিদপ্তরের অনিয়ম নিয়ে তাঁর ভূমিকার একটি ভিন্ন চিত্রও সাম্প্রতিক নথিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালের আগস্টে ইইডির সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি একটি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তারেক আনোয়ার জাহেদী তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।

এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে—অধিদপ্তরের অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া—তার বিপরীতে অন্তত একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁর স্বাক্ষরিত তদন্ত-নির্দেশের নথি পাওয়া যাচ্ছে।

আরও একটি ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সরাসরি নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এক প্রতিবেদনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের দপ্তরে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে টেবিলের ওপর টাকা রাখা এবং একজনকে ‘স্যারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা রেখে যান’ বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হাসান শওকত অর্থগুলো ঠিকাদারদের বলে দাবি করেন এবং নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় অতিরিক্ত সচিব ড. সরদার মো. কেরামত আলীকে; সদস্য হিসেবে রাখা হয় ইইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী এবং উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানকে। অর্থাৎ যে অধিদপ্তরের প্রধানকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠছে, সেই প্রধান প্রকৌশলীকে আবার অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত কমিটির সদস্যও করা হয়েছে।

হাসান শওকতের দপ্তরের অর্থ লেনদেনের ওই ঘটনা নিয়ে তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, ভিডিওটি তখনও তাঁর নজরে আসেনি এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ২০২৬ সালের আগস্টে আরেক ঘটনায় ইইডির সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে বাড্ডার রহিমুল্লাহ মোল্লা মাদরাসার উন্নয়নকাজের দরপত্রে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নথি অনুযায়ী, প্রথম দরপত্রে ক্লাস ওয়ান ট্রেডার্স ২ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার ৬১ টাকায় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে কাজটি পায়। পরে দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয় এবং তালুকদার এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী ঠিকাদার দাবি করেন, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও কাজটি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় তারেক আনোয়ার জাহেদী তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই ধারাবাহিক ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে—অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে তারেক আনোয়ার জাহেদী অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন, নাকি তাঁর অধীনস্থদের অনিয়মের অভিযোগগুলো কেবল তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে?

তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে পদে বহাল থাকার চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের পদ ধরে রাখতে তিনি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও তদবির করেছেন।

তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর পরিবার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিল এবং ওই সময় তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তাঁর নামে-বেনামে সম্পদ এবং বিদেশে সম্পদ থাকার দাবিও করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করা হলেও তাঁদের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা যায়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর বর্তমান যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরেক কর্মকর্তার দাবি, তারেক আনোয়ার জাহেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে সুবিধাজনক জায়গায় বদলি বা পদায়ন পেয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়েও অভিযোগের মধ্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একজন দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বড় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে এবং তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।