মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবি, যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মেডিকেল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুদিন ছুটি দাবি জানিয়েছেন। এর উত্তরে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন তিনি। 

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী বলেন, সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা থাকে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ক্লাস-পরীক্ষার পর সপ্তাহে মাত্র এক দিনের ছুটি মেলে, আর সেই সময়ের বেশির ভাগই পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এমন ব্যস্ততার কারণে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ কমে যায়। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এ সময় অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতো মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্যও সপ্তাহে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি চালুর অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আপনাদের বিষয়, একটি টেকনিক্যাল বিষয়। আমি জানি না এটা ওভাবে বলা সম্ভব কিনা। এটা নিশ্চয়ই আপনাদের যারা সিনিয়র আছেন, ডাক্তার যারা আছেন, আমার মনে হয়, এটা বোধহয় উনাদের। উনারা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হয়। অবশ্য বলা যায়, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’

আলোচনার শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তবে একটা কথা বলতে পারি, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’




চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলসহ বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত, অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সব বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশ নেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস বা স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের (স্বাস্থ্য) ওপর অর্পণ করেছে।




পে-স্কেল ছাড়াও ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর

ডেস্ক নিউজঃ দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর আসছে। ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকার মনে করছে, রেশন সুবিধা চালু হলে এই মানসিক চাপ কমবে এবং কর্মচারীদের কাজে মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

এই রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে কাজের অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাসিক অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

মূলত, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর এই প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বলা হয়, রেশন সুবিধা চালু হলে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস এবং সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন, রেশন সুবিধা চালু হলে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারকে এই রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যেন কোনো অনিয়ম না হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সুবিধা পান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।




‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’, স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যরস!

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রসিকতা করে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনার একপর্যায়ে একজন অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমরা জানতে চাই, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আপনার ভাবনা কী?’

জবাবে পাশে বসে থাকা তার সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে পুরো অডিটোরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়।

পরে প্রশ্নকারী বলেন, ‘উনি যেহেতু আপনার পাশে আছেন, তিনি যদি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন, তাহলে আমরা সত্যিই আরও গর্বিত হব।’

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ক্যাম্পাসে একটি গাছও রোপণ করেন।




উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে: পরিবেশমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসঙ্গে হাতে হাত রেখে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়ন হবে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানব কল্যাণ হবে একই পথের সহযাত্রী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক এবং তরুপল্লব আয়োজিত ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন পরিবেশমন্ত্রী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে।’

পদকপ্রাপ্তদের ‘সবুজ ভবিষ্যতের নির্মাতা’ ও ‘নীরব পরিবেশযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই নিষ্ঠা ও উদ্যোগ সমাজজুড়ে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’




‘বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করবো’

ডেস্ক নিউজঃ আমি বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করবো বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে টানা অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় দুর্গত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ সহায়তা তুলে দেন হুমাম কাদের। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বস্ত করে দ্রুত পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড়ধস নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, যে পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটি শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়; রাউজান, ফটিকছড়িসহ বেশ কিছু এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা) হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে আশার কথা হলো, আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ত্রান ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।




সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে দেশের উত্তর–পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কমে আসায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

তা সত্ত্বেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একইসঙ্গে ফেনী অঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে আজ সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো বান্দরবানে সাঙ্গু নদের বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট; কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট; মৌলভীবাজারে মনু নদ এবং হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বল্লা পয়েন্ট।

জানা যায়, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বেড়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এসব নদীর পানি বাড়লে স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।




ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, তুললেন সেলফি

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ক্যাম্পাসে দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন সরকারপ্রধান।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। উল্লেখ্য, ডা. জুবাইদা রহমান এই চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে উপস্থিত সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সেলফি তুলতেও দেখা যায়।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর অধীনে ঢামেক ক্যাম্পাসে নির্মাণ হতে যাওয়া দুটি ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়াম সংলগ্ন লনে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আলোচনা সভায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে সরকারপ্রধানের একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।




চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে মাহদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানান।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।’

তিনি জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার। সংকটময় এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।’

‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপ’ শিরোনামে মাহদী আমিন ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। উদ্যোগগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো-

১। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

২। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

৩। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান— এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন, সশরীরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

৭। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ জনগণের পাশে রয়েছে।

৮। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯। এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

১০। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে।

ফেসবুক পোস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন। জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।’




চীনে সক্রিয় ফল্ট লাইনে মেগা বাঁধ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত-বাংলাদেশের জন্য ‘টাইম বোমা’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের এক ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে, তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো ( ব্রহ্মপুত্র ) নদীর ওপর নির্মাণাধীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিক তলদেশে একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের অস্তিত্ব রয়েছে।

ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, হিমালয় অঞ্চলের এই ফল্ট লাইনটি নির্মাণাধীন মেগা বাঁধের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’-র তত্ত্বাবধানে মান্দারিন ভাষায় প্রকাশিত ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’ সাময়িকীতে গত মাসে এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের চীনা ভূতাত্ত্বিকদের একটি যৌথ দল গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

গবেষকরা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘পাইঝেন ফল্ট’ নামের এই ভূগর্ভস্থ ফাটলটি প্লাইস্টোসিন বা বরফ যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সক্রিয়। এই সক্রিয়তার কারণে এটি মেদগ কাউন্টির এই মেগা বাঁধ, সংযোগকারী সড়ক, সেতু, টানেল এবং সামগ্রিক কৃত্রিম জলাধারের কাঠামোর ওপর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই চ্যুতিটি চারপাশের শিলাখণ্ডগুলোকে পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে, যার ফলে মাটির ভেতরের স্তরগুলোর ধারণক্ষমতা ও দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে এই ভঙ্গুর ভিত্তিটি ৬০ হাজার মেগাওয়াটের একটি দানবীয় বাঁধ এবং এর পেছনে জমা থাকা কোটি কোটি গ্যালন পানির ওজন ধরে রাখতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিনিধি দলটি আরও সতর্ক করেছে, তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আলগা এবং এর মাটির কণার ভেতরের বন্ধনও খুব দুর্বল। একবার যখন এই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারে পানি পূর্ণ করা হবে, তখন দীর্ঘস্থায়ী জলীয় সম্পৃক্ততা, ফল্ট লাইনের অবিরত কম্পন এবং ভূমিকম্পের সম্মিলিত প্রভাবে জলাধারের দুই পাশের পাহাড়ে প্রলয়ংকরী ভূমিধস ঘটবে। এই ধরনের ধস সরাসরি বাঁধের মূল পরিকাঠামো ও সেখানে কর্মরত কর্মীদের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলবে।

তিব্বতে গত বছর থেকে এই মেগা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে চীনের বর্তমান বিখ্যাত থ্রি গর্জেস বাঁধের চেয়েও তিন গুণ বড় এবং এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

ইয়ারলুং সাংপো নদীটি তিব্বত ছেড়ে ভারতের অরুণাচল ও আসামের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে যমুনা নদী নামে প্রবেশ করেছে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের ভাটিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই মেগা বাঁধটি এখন একটি ‘ভূতাত্ত্বিক টাইম বোমা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

চীনা বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা উদ্বেগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, এই বাঁধটি যেখানে নির্মিত হচ্ছে, সেই এলাকাটি মূলত হিমালয় সিসমিক বেল্ট বা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত। এখানে চীন ও তার আশপাশের অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের বলয় তৈরি হয়েছে।

গবেষকেরা কোয়াটারনারি যুগের (২৫.৮ লাখ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত) টেকটোনিক নড়াচড়ার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই পাইঝেন চ্যুতিটি প্লাইস্টোসিন যুগের শুরুতে সৃষ্টি হলেও বর্তমান হলোসিন যুগেও এটি তার সক্রিয়তা বজায় রেখেছে।

এ ছাড়া প্রাচীন হ্রদের তলানির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও ফাটলটি সক্রিয় ছিল।

গবেষকরা এর আধুনিক ভূকম্পন সম্ভাবনার প্রমাণ হিসেবে ২০১৭ সালে তিব্বতের মিলিনে সংঘটিত ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা ফল্ট লাইনটির উত্তর প্রান্তে ঘটেছিল।

তারা বলেন, ‘আঞ্চলিক ভূমিকম্পের প্রভাবে সহজেই ভূমিধস ও ধস ঘটতে পারে, যা প্রকৌশল স্থাপনা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

তাই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় এই অঞ্চলে মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা তাসের ঘরের মতো বাঁধটিকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যা ও ভূমিধস পুরো হিমালয় অঞ্চলসহ ভাটির বিস্তীর্ণ জনপদকে মাটির নিচে চিরতরে চাপা দিয়ে দিতে পারে।