চুক্তি না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয়, তাহলে চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল একাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ”ইরানের জন্য সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ইরানে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার পরেই ট্রাম্পের এই হুমকি সামনে এলো।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান কোনো চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখন ‘মুমুর্র্ষ অবস্থায়’ রয়েছে। সূত্র: বাসস




কোন হাটে যাবে কোরবানির পশু, ট্রাকে লিখতে হবে নাম-ঠিকানা

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু পরিবহনে ট্রাকের সামনে সংশ্লিষ্ট হাটের নাম ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে ব্যানারে প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সোমবার (১৮ মে) সংবাদ মাধ্যমে সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের যে কোনো স্থান থেকে কোরবানির পশু—গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু—ট্রাকে করে যে হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, সেই হাটের নাম ও ঠিকানা ট্রাকের সামনে দৃশ্যমানভাবে ব্যানারে লিখে রাখতে হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা গ্রহণ সহজ হবে এবং রাস্তায় অন্য কারও দ্বারা বাধা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

এতে আরও বলেন, পরিবহনের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্টদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে। বিষয়টি যথাযথভাবে পালনের জন্য সব ট্রাক মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।




মাঝ আকাশে একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চাইলেন, শেষমেশ কামড় দিলেন বিমানকর্মীকে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ৩৫ হাজার ফুট ওপরে উড়তে থাকা বিমানে হঠাৎই সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় উড়োজাহাজটি।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসগামী কান্টাসের কিউএফ২১ ফ্লাইটে ঘটে এই ঘটনা। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটায় উড্ডয়নের পর প্রায় সাত ঘণ্টা সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎই এক যাত্রী বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই যাত্রী বিমানের ভেতরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ‘একটু বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসি’ বলেন। পরে একপর্যায়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবিন ক্রুদের পাশাপাশি অন্য যাত্রীরাও এগিয়ে আসেন।

কান্টাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল বা হুমকিমূলক আচরণের বিষয়ে তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যাত্রী কেবিন ক্রুদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। তাকে বিমানের পেছনের দিকে যেতে বলা হলে তিনি অশালীন ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তিনি বাইরে গিয়ে সিগারেট খেতে চেয়েছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উড়োজাহাজটি ফরাসি পলিনেশিয়ার রাজধানী পাপিতেতে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়।

পরে কান্টাস জানায়, ওই যাত্রীকে আজীবনের জন্য তাদের এবং জেটস্টারের সব ফ্লাইটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রায় ৩৫ মিনিট বিরতির পর বিমানটি আবার ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন গন্তব্যে পৌঁছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং।

গত ৯ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন রাষ্ট্রপতি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হয়। পরে ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে অবস্থিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল-এ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলি-এর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়।

পরীক্ষার সময় হৃদযন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লক ধরা পড়লে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করেন এবং স্টেন্ট স্থাপন করেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি এর আগেও হৃদরোগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল-এ ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ফলো-আপ চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য পরিচিত রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ চিকিৎসাও সেখানেই সম্পন্ন হয়।




টেন্ডার বাণিজ্য থেকে সিনিয়রিটি কারসাজি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, সিনিয়রিটি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত বিসিএস পদ্ধতি এড়িয়ে বিশেষ সুবিধায় তাকে সরাসরি ৬ষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিসিএসের মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র সেই নিয়ম ভেঙে কয়েকজনকে সরাসরি উচ্চ পদে বসানোর ব্যবস্থা করে। এই তালিকায় ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান ও মোঃ আবু তালেবসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়া এবং সাবেক এমপি শেখ সেলিম ও শেখ হেলালের প্রভাবেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হককে সরাসরি নির্দেশ দেন যাতে লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াই নির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে শুধু আনুষ্ঠানিক ভাইভা নিয়ে ১১ জনকে চাকরি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিএস ক্যাডারের একাংশ আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু চাকরিতে বহালই রাখা হয়নি, বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে সিনিয়রিটিতেও এগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে চাকরিতে যোগদান ও বেতন উত্তোলন নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ চলাকালে প্রায় ১১ মাসের ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদানপত্র তৈরি করা হয়। অথচ ওই সময় অনেকেই বাস্তবে চাকরিতে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও সরকারি কোষাগার থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, সেই সময় মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে নিয়মিত বেতন নিচ্ছিলেন। একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। বলা হচ্ছে, মোঃ আইয়ুব আলী তখন মেরিন একাডেমিতে চাকরিতে ছিলেন এবং মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পরে ব্যাকডেট দেখিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুবিধা নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার, শেখ সেলিম, শেখ হেলাল এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূইয়ার সরাসরি প্রভাব কাজ করেছে।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের “পি পি ডব্লিউ ডি উড ডিভিশন” নিয়েও নতুন করে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে পদায়নের জন্য প্রভাবশালী এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপিপির আওতাধীন প্রকল্পকে দুই ভাগে ভাগ করে কমিশন নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর সামনেই দুই পক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর ভাই “মামুন”-এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনায় নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, হাতিল, পশ ফার্নিচার, রিগেল ফার্নিচার, আকতার ফার্নিচার ও ডট ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকার পরও কীভাবে তিনি প্রায় দেড়শ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই দেওয়ার কথা ছিল। কেন সেটি জমা পড়েনি তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আবারও নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহায়তা ছাড়া এত বিতর্কের পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে যেতে পারেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।




ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় ইরানকে বাগে আনতে ৫টি বড় এবং অত্যন্ত কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন এই পাল্টা শর্তগুলো দিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরানের উৎপাদিত ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি আমেরিকার হাতে হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পূর্ববর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতেও সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদন বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখন এক গভীর অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায় করতে ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আওতাধীন যতগুলো স্থাপনা রয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা বা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সচল বা চালুর অনুমতি পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশও অবমুক্ত বা ছেড়ে দেওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটার বিষয়টি এই আলোচনার ধারাবাহিকতা ও সফল সমাপ্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বলে লিংক বা জুড়ে দিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি আমেরিকার এই সবকটি শর্ত মেনেও নেয়, তবুও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী হুমকি পুরোপুরি বহাল থাকবে।

মার্কিন এই পাল্টা শর্তের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের গণমাধ্যমগুলো রোববার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দৃশ্যমান বা বাস্তবসম্মত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘আমেরিকা নিজে কোনো ত্যাগ বা ছাড় না দিয়ে, মূলত যুদ্ধের ময়দানে যেসব সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা এখন আলোচনার টেবিলে ছলে-বলে-কৌশলে আদায় করতে চাচ্ছে; ওয়াশিংটনের এই অতি লোভী মানসিকতা চলমান শান্তি আলোচনাকে নিশ্চিতভাবে একটি স্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১৪ দফার একটি ব্যাপক শান্তি প্রস্তাব সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে এর জন্য মার্কিন করদাতাদের ভবিষ্যতে অত্যন্ত ভারী ও চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।

এর বিপরীতে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মহলে পাঁচটি ‘আস্থা-বিল্ডিং’ বা বিশ্বাসযোগ্য পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানের এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাসহ সবকটি ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সব ফান্ড বা অর্থ অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান নৌ রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দেশে নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক বা বিমান হামলা চালানো হলে তার জবাবে আরও বেশি ‘বিধ্বংসী ও ভয়াবহ পাল্টা আঘাত’ হানা হবে।

আন্তর্জাতিক এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মূলত তাদের সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কূটনীতিকে একটি সস্তা ঢাল বা কভার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাঘাই অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, ‘এটি তাদের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত সুপরিচিত এবং কুৎসিত একটি কৌশল—প্রথমে তারা নিজেরাই কৃত্রিমভাবে সংকট ও যুদ্ধ তৈরি করে, এরপর আবার সেই যুদ্ধকে আরও উসকে দেয় এবং সবশেষে তার ওপর ‘স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার’ ও ‘শান্তি রক্ষা’র এক মহৎ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। মূলত তারা বিশ্বজুড়ে একটি ধ্বংসস্তূপ বা মরুভূমি তৈরি করে এবং পরবর্তীতে ধূর্ততার সঙ্গে সেটাকেই শান্তি বলে দাবি করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে একযোগে ব্যাপক সামরিক ও বিমান হামলা চালালে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আগ্রাসনের পর ইরানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জিত হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হলেও মূল নীতিগত বিরোধগুলোর সমাধান না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের শর্তের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকায় স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: এনডিটিভি




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এনইসি সভা চলছে

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সভায় এডিপি চূড়ান্ত ও অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

এছাড়া ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত রূপরেখা (২০২৬-২০৩০ অর্থবছর)’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের রূপরেখা উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়ও রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ অন্যরা অংশ নিয়েছেন।




মালদ্বীপে ডাইভিং দুর্ঘটনা: উদ্ধার কাজে নেমে প্রাণ হারালেন ডুবুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো একদল ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারে নেমে মালদ্বীপে এক উদ্ধারকারী ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মালদ্বীপ সরকারের এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্টাফ সার্জেন্ট মোহামেদ মাহদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখানেই তিনি মারা যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সমুদ্রের প্রায় ৫০ মিটার (১৬৪ ফুট) গভীরে গুহা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করতে গিয়ে ইতালির পাঁচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত তাদের একজনের মৃতদেহ মিলেছে, তাও সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০ মিটার নিচে এক গুহায়। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শনিবার বাকি ইতালীয় নাগরিকদের মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান দেখতে ভাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় যান।

“আট উদ্ধারকারী ডুবুরি আজ পানিতে নেমেছিলেন। তারা যখন ভেসে ওঠেন, বুঝতে পারেন যে মাহদি ফিরে আসেনি,” বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ হোসেইন শরিফ।

অন্য উদ্ধারকারী ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রের তলদেশে যান এবং সেখানে মাহদিকে অচেতন অবস্থায় পান। মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী আগেই বিরূপ আবহাওয়ায় সমুদ্র তলদেশে এই উদ্ধার অভিযানকে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছিল।

মাহদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি। যে পাঁচ ইতালীয় কেভ ডাইভে নেমে মারা গেছেন তাদের চারজনই জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের অংশ। এরা হলেন- অধ্যাপক মনিকা মন্টিফেলকোন ও তার মেয়ে এবং দুই তরুণ গবেষক। এর বাইরে যে ইতালিয়ান মারা গেছেন তিনি নৌযান পরিচালনা ব্যবস্থাপক ও ডাইভিং প্রশিক্ষক।

এ পাঁচজনই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে ভাভু দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রে নেমেছিলেন; অনেকক্ষণ পরও তারা ভেসে না ওঠায়, তাদেরকে ডাইভিংয়ে নিয়ে যাওয়া নৌযানের ক্রু’রা ৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন।

রাজধানী মালে-র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকার আবহাওয়াও সেসময় বিরূপ ছিল এবং যাত্রীবাহী নৌকা ও জেলেদের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল, বলছে পুলিশ।

শরিফ বলছেন, বেড়াতে আসা স্কুবা ডাইভারদের কেবল সমুদ্রের ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ইতালীয়রা কী করে ৬০ মিটার নিচের গুহায় গিয়েছিলেন তা পরিষ্কার নয়।

এর আগে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যে ডিউক অব ইয়র্ক ইয়ট থেকে ওই ৫ জন সমুদ্রে নেমেছিলেন, সেখানে ইতালির আরও ২০ নাগরিক ছিলেন। তারা অক্ষত আছেন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত ইতালি দূতাবাস তাদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।




সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। 
দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।
এতে আরো অংশ নেন  জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অন্যান্য সদস্য।
জানাজা শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যরাও সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সর্বশেষ ঘোষিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।



শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু, একসঙ্গে উপকৃত হবেন ৩৭ হাজার যাত্রী

ডেস্ক নিউজঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার (১৭ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সেবা। এদিন দুপুর ২টায় এ সেবার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। এখন থেকে বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরা বিনা খরচে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এ সময় আফরোজা খানম বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ প্রতিশ্রুতির আলোকে এই সেবা চালু করেছে। আশা করছি থার্ড টার্মিনালও দ্রুত উদ্বোধন করতে পারব, যা আমাদের জন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’

বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, নতুন এই নেটওয়ার্কে একই সময়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি যাত্রী ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক কাভারেজ দেবে। এর আওতায় রয়েছে— টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এই বিস্তৃত কাভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সেবাটির জন্য পুরো নেটওয়ার্কটি তৈরি করতে স্থাপন করা হয়েছে ২৫০টি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, ৪৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ। প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে একসঙ্গে সেবা দিতে সক্ষম। সম্পূর্ণ সিস্টেম সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।